প্রথম পিপিপি প্রকল্প ‘বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর’ অনুমোদন

ঘোষণার এক বছরেরও বেশি সময় পর সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় প্রথম প্রকল্প হিসেবে নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে নির্মিতব্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। রোববার সরকারের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব নজরুল কবীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রকল্প পিপিপির আওতায় বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ৫০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান নজরুল।

এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে রাজধানী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মনোরেল তৈরির ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত অর্থবছরের বাজেট বতৃতায় দেশের দুর্বল অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের এ নতুন খাতের (পিপিপি) ঘোষণা দেন।

গত ১৭ জুলাই মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে পিপিপি নীতিমালা অনুমোদিত হওয়ার পর গত ১ অগাস্ট সরকার গেজেট আকারে তা প্রকাশ করে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার অদূরে নতুন এ বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য স¤প্রতি প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

সম্ভাব্য ৬ হাজার একর জমির ওপর বিমানবন্দরটি নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে তিনটি স্থান বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংয়ের ত্রিশালে দুটি এবং টাঙ্গাইলের মধুপরে একটি স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রথমদিকে বিমানবন্দরে দুটি রানওয়ে করা হলেও পরবর্তীতে তৃতীয় রানওয়ে করার সুযোগ রাখা হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব শফিক আলম মেহেদী গত সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মিত হবে বিওটি (বিল্ড অপারেট ট্রান্সফার) ভিত্তিতে। এতে সরকার শুধু জমি দেবে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এতে অর্থ লগ্নি করবে। পরে নির্ধারিত মেয়াদে বিমানবন্দরের আয় থেকে সেই খরচ ও লভ্যাংশ তারা উঠিয়ে নেবে।”

তিনি জানান, ২০১৩ সালের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার ইচ্ছা রয়েছে তাদের।

বর্তমান হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি চালু হয়েছিল ১৯৮০ সালে। এটি ঢাকার একমাত্র বিমানবন্দর। কুর্মিটোলায় ১৭৩৭ একর জমির ওপর এক রানওয়ে বিশিষ্ট এ বিমানবন্দরটির মাস্টারপ্ল্যানের মধ্যে দুটি রানওয়ে নির্মাণের কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ বেসরামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই শাহজালাল বিমানবন্দরকে ঘিরে বাড়িঘর ও বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে দ্বিতীয় রানওয়ে করায় সমস্যা হচ্ছে। বিমানবন্দর ঘিরে স্থাপনার কারণে উড়োজাহাজ চলাচলেও ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৫ সালে সরকারের এক অভিযানে ১২টি ভবন ভেঙে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণ করতে গেলে রাজধানীর আবাসিক এলাকা উত্তরা ও নিকুঞ্জের কয়েক’শ ভবন ঝুঁকি সৃষ্টিকারী ভবনের তালিকায় আসতে পারে বলেও কর্তৃপক্ষ বলছে।

দেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর রয়েছে। এছাড়া আরো সাতটি স্টল পোর্টস (শর্ট টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং) রয়েছে।

[ad#bottom]

One Response

Write a Comment»
  1. we are happy for our dristek now big city thanks hasina for make this air purt &town munshiganj is bettar fi=or air purt