ঈদের জন্য কি প্রস্তুত মাওয়া ও পাটুরিয়া

ফেরি ও নাব্যতা সংকটের কারণে এবার ঈদের আগে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তারা। ঘাট যানজটমুক্ত রাখতে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। একই আশঙ্কা মাওয়া ঘাটে। ঈদ এলেই এখানকার যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়। ঈদের ছুটির সময় থেকেই ঘাটের দুই পাশেই কয়েক কিলোমিটার যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এবারও গাড়ির তুলনায় ফেরি সংকট, নদীতে ডুবোচর ও পলিমাটি পড়ে চ্যানেল ভরাট এবং বর্ষা মৌসুমে প্রচণ্ড স্রোতের বেগের কারণে ফেরিতে সহজেই নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি পারাপারে সমস্যা দেখা দেয়।

বিআইডব্ল্লিউটিসির উপমহাব্যবস্থাপকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে আটটি রো রো (বড়) এবং একটি ছোট ফেরি যানবাহন পারাপারে যুক্ত রয়েছে। এই নয়টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করতে গিয়েই অনেক সময় পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ঈদের আগে ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে নয়টি ফেরি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, সংস্থার ১২টি রো রো ফেরির মধ্যে আটটি পাটুরিয়ায় ও দুটি মাওয়া ঘাটে যানবাহন পারাপারে যুক্ত রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, গত বছর কোরবানির ঈদের আগের দিন পাটুরিয়ায় ফেরির সংখ্যা ছিল ১২। এ বছর ফেরির সংখ্যা কম। আবার যানবাহনের সংখ্যা বাড়বে। এদিকে পাটুরিয়া প্রান্তে নদীতে নাব্যতা সংকটেরও আশঙ্কা রয়েছে। ফলে যানজট সমস্যা এবার আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক এম এ মতিন বলেন, ‘এ বছর ঈদের আগে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু ফেরির সংখ্যা বাড়ছে না বরং কমেছে। তাই ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ঘরে ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মাওয়া ঘাটে ফেরি রয়েছে মোট ১২টি। এ প্রসঙ্গে মাওয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক এস এম আশিকুজ্জামান জানান, ঈদের সময় আরও দুটি ফেরি আসবে। এর মধ্যে একটি রো রো ফেরি রয়েছে। ঈদের যানজট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তখন হঠাৎ করে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যায়। মানুষ ঈদের ছুটির দুই দিন আগে সবাই একসঙ্গে বাড়ি ফেরার জন্য রওনা দেয়। তখন মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়। তার পরও সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। কারণ নদীতে স্রোতের কারণে ফেরি স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না। আবার ডুবোচরে ও পলি পড়ে ভরাট হওয়া চ্যানেলেও ফেরি আটকে যায়। এতে ফেরি পার হতে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। যেখানে একটি ফেরি স্বাভাবিক সময়ে পার হতে লাগে দেড় ঘণ্টা।

মাওয়া ঘাটের মেরিন অফিসার আবদুস সোবহান বলেন, বর্তমানে স্রোত সবচেয়ে বেশি সমস্যা করছে। দেখা যাচ্ছে, অনেক সময় ফেরির গতির চেয়ে স্রোতের গতি বেশি হয়ে যাচ্ছে। তখন ফেরি চলতেই পারছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বলেন, আমরা খুব শিগগিরই এ নিয়ে সভা করব। মাওয়া ঘাটের ভাঙা সড়কটি ইতিমধ্যে সংস্কার করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ফোর্স বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে চ্যানেল স্বাভাবিক করার কাজ চলছে বলে জানান।

অরূপ রায়, মানিকগঞ্জ ও তানভীর হাসান, মুন্সিগঞ্জ

[ad#co-1]