মুন্সিগঞ্জে রিমান্ড শেষে নিহত মোশাররফের স্ত্রী’র কথিত প্রেমিকা জেল হাজতে

(ফলোআপ)
মুন্সিগঞ্জ শহরের লিচুতলাস্থ বাসষ্ট্যান্ডে গ্রীস প্রবাসী শিল্পপতি মো: মোশারফ হোসেন (৪০) হত্যা মামলায় ২ দিনের পুলিশের রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার স্ত্রী রওশন আরা ওরফে রেশমাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে রিমান্ডে থাকা অপর ঘাতক ফারুক ওরফে বগা ফারুককে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। দ্বিতীয় দিনের রিমান্ডে স্ত্রী রেশমা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশকে। রেশমা রিমান্ডে পুলিশকে জানিয়েছে গ্রীস প্রবাসী শিল্পপতি মোশারফকে গেলো বছর প্রথম দফা খুনের পরিকল্পনা করেছিল কথিত প্রেমিক সৎভাই বেলায়েত। সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে এবার ভাড়াটে কিলারের সাহায্য নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো খুনের পরিকল্পনায় সফল হতে পেরেছে বেলোয়েত। ঘটনার দিন সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়িতে অবস্থান করেই মোবাইলে রেশমার সঙ্গে কথিত প্রেমিক বেলায়েতের কথা হয়েছিল। সে সময় আগের বার পারেনি, এবার আর ওর রক্ষা নেই এ কথা রেশমাকে মোবাইলে বলেই বাসা থেকে বের হয়েছিল বেলায়েত। এছাড়া ঘটনার দিন বিকেল ৪ টায় ঘাতক ফারুকের ভাষায় গঙ্গা কলেজের মোড়ে বেলায়েত, মিঠু ও ফারুক দাঁড়িয়ে থাকার কথা ফোনে রেশমাকে জানানো হয়। পরে রেশমাই ফোনে খবর দেয় গ্রীস প্রবাসী কখন শহরের পাঁচঘরিয়াকান্দি এলাকার শ্বশুড়ালয় থেকে বের হয়েছে। এর পরই ঘাতকরা শহরের লিচুতলার নতুন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে মোশারফকে। তবে কিলিং মিশনে অংশ নেয়া অপর এক ঘাতকের উপস্থিতির কথা বললেও রিমান্ডে রেশমা ও বগা ফারুক ওই ঘাতককে চেনে না বলে জানিয়েছে।

অন্যদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে রিমান্ড শেষে স্ত্রী রেশমাকে মুন্সিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রবিউল আলমের আদালতে নেয়া হয়। পরে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

উল্লেখ্য, ২৩ আগষ্ট ঢাকার ২৪/বি উত্তর যাত্রাবাড়ি থেকে স্ত্রী রেশমাকে ও বগা ফারুককে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার মিজমিজি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১০ আগষ্ট বিকেলে মুন্সিগঞ্জ শহরের লিচুতলাস্থ নতুন বাসষ্ট্যান্ডে মোটরবাইক আরোহীদের গুলিতে খুন হন ওই শিল্পপতি।

পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে খুনের নায়ক ছিল মুন্সিগঞ্জ শহরেই!

অপর দিকে, গ্রিস প্রবাসী খুনের নায়ক সৎভাই বেলায়েতকে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজলেও সে মুন্সিগঞ্জ শহরের কাছে একটি বাড়িতে বেশ ক’দিন আতœগোপনে ছিল বলে জানা গেছে। গত পরশু বেলায়েতকে শহরের ওই বাড়িতে অবস্থান করতে দেখেছেন অনেকেই। লোকজন দেখে ফেলার পরই শহরের দক্ষিণ ইসলামপুরের মিয়া চাঁনের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে সে। গ্রীস প্রবাসী মোশারফের স্ত্রী রেশমার আপন খালু এই মিয়া চাঁনের বাড়িতে নিরাপদ অবস্থান করে বেলায়েত। এখানে বেলায়েতের অবস্থান করাটা ছিল ধরা পড়ার জন্য সবচেয়ে বিপদজনক। অথচ এখানেই তার অবস্থান করাটা ছিল রিতিমতো নিরাপদে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেয়া। আর এতে বিস্মিত শহরের অনেকেই বিষয়টি জেনে । শহরের দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার “টক অব দ্যা ইসলামপুরে” পরিণত হয়ে উঠে বেলায়েতের এখানে পালিয়ে থাকা প্রসঙ্গ। গতকাল দিনভর এ নিয়ে চলে নানা গুঞ্জন।

শিল্পপতি হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন

গ্রীস প্রবাসী শিল্পপতি নিহত মোশাররফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন ঘটেছে। মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলামকে এ মামলার আয়ু করা হয়েছে। আগে এ মামলার আয়ু ছিলেন এস আই ওয়াবাদুল। নিহতের মা বাদী হাজেরা বেগম অভিযোগ এনে বলেন হঠাৎ করে আমাকে না জানিয়েই তদন্ত কর্মকর্তা বদলানো হয়েছে । কেন এটা করা হলো তা নিয়ে তার মনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। তিনি সাংবাদিকদের জানান তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের কথা তিনি কিছুই জানেনা। তবে তিনি আরো বলেন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হোক আর যাই হোকনা কেন আমি চাই আমার ছেলের বিচার। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের যে ভাবে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে আমার ছেলের খুনীদেরকে গ্রেফতার করে সেভাবে ফাঁসিতে ঝুলানো হউক এটাই আমার বর্তমান সরকারের কাছে দাবী।

মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি। ০১৯১১১৪২৬৭০
২৬ আগস্ট ২০১০

[ad#co-1]

One Response

Write a Comment»
  1. Eta Kemon Head Line ??? Tobe jante parlam 20 lakh Takai naki aposrofa howar pothe /Ekjon manuser mullyo 20 lakh taka Matro