‘বাউল হয়াই কি ভুল করছি?’

বয়াতির খেদোক্তি
‘মন আমার দেহঘড়ি সন্ধান করি কোন মেস্তরি বানাইয়াছে/একটা চাবি মাইরা দিছে ছাইড়া জনম ধইরা চলতে আছে’_বাঙালির হৃদয় জয় করা এই একটি গানই যথেষ্ট শিল্পীর পরিচয় তুলে ধরতে। গানটির স্রষ্টা প্রখ্যাত বাউল শিল্পী আব্দুর রহমান বয়াতি আজ ভীষণ অসুস্থ। শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ ও স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি এখন রাজধানীর ঝিগাতলায় জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আব্দুর রহমান বয়াতির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. জোনাইদ শফিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. সরদার এ নাঈম।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২২ আগস্ট শিল্পীকে আইসিইউ-১-এ ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আইসিইউ প্রধান ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ কে এম শফিকুর রহমান, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এম এ বাকী ও নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. উত্তম কুমার সাহার অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার তাঁকে আইসিইউ থেকে ২১১ নম্বর কেবিনে নেওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আব্দুর রহমান বয়াতি খেদোক্তি করেন, ‘বাউল হয়াই কি তবে আমি ভুল করছি?’ তিনি বলেন, ‘মৃত্যুতে আমার কোনো দুঃখ নাই। কিন্তু আমি যে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে এত গান করলাম, সেই ইত্যাদির উপস্থাপক হানিফ সংকেত যদি একবার তাঁর অনুষ্ঠানে আমার অসুস্থতার খবরটা প্রচার করতেন, তবেই আমি শান্তি পেতাম।’

অশ্রুভেজা চোখে আব্দুর রহমান জানান তাঁর নিদারুণ অর্থকষ্টের কথা। বললেন, ‘গত পাঁচ মাসে আমার চিকিৎসা খরচ লাগছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। এই টাকা ঋণ করতে হইছে আমারে। আমি এখন নিঃস্ব। ডেমরা মাতুয়াইলে আমি ভাড়া বাসায় থাকি। আট হাজার টাকা বাসা ভাড়া, ছয় মাস বাসা ভাড়া দিতে পারি নাই। আমার সংসার ও ঋণের টাকার জন্যই এখন আমি বেশি চিন্তিত। তাই বাধ্য হয়াই সরকার ও সমাজের বিত্তবান হৃদয়বান মানুষের কাছে আমি সহায়তা চাই।’

তিনি বলেন, ‘কত শিল্পীকে সরকার সহায়তা দিল, বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাইল। কিন্তু আমার জন্য কিছুই করল না। উল্টা সরকারের কাছ থাইকা যে মাসে দুই হাজার টাকা ভাতা পাইতাম তাও দুই বছর হইল বন্ধ হয়া গেছে।’
কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিল আব্দুর রহমান বয়াতির। তাঁর ছেলে মো. আলম বাবার গানের সঙ্গে হারমোনিয়াম বাজাতেন। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার জন্য পিতা-পুত্র দুজনই জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন।

আলম বলেন, ‘এই হাসপাতাল আর কত দিন আব্বাকে চিকিৎসা দেবে? যখন তারা রিলিজ দেবে তখন তাঁকে কিভাবে ওষুধ খাওয়াব? অন্যান্য খাবারই বা কিভাবে খাওয়াব? সরকারের সাহায্য তাই আমাদের খুবই প্রয়োজন।’
তিনি জানান, অগ্রণী ব্যাংকের টিকাটুলীর হাটখোলা শাখায় ‘আব্দুর রহমান বয়াতি সহায়তা তহবিল’ খোলা হয়েছে। সঞ্চয়ী হিসাব নং-৩৩০১৬৬৬৬।

[ad#co-1]