প্রতিদিন জম্পেশ ‘তেঁতুল আড্ডা’ জমিয়ে দিতাম

স্মৃতির ইশকুল
শিমূল ইউসুফ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
স্কুলজীবন অনেক নিয়মের মধ্যে কেটেছে। প্রথম দিন মামার আঙুল ধরে স্কুলে গিয়েছিলাম। ১৯৬২ সালে ঢাকা মতিঝিল সেন্ট্রাল গভ. স্কুলে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হলো। ক্লাসরুম, স্কুলের আঙ্গিনা, শিক্ষক_সব কিছুই নতুন। অবশ্য অল্প দিনেই কয়েকজন ভালো বন্ধু পেয়ে যাই। সুরাইয়া, বিলকিস, রুমা, সাবরিনা, শেফালী ও আমি এই ছয়জনের একটা বেজবল টিম ছিল। টিফিনে স্কুলের অন্যদের সঙ্গে আমরা খেলতাম। একদিন আমরা বেজবল খেলছি। পাশেই বয়েজ স্কুল। হঠাৎ করে দেয়াল টপকে বল গিয়ে পড়ে বয়েজ স্কুলের মাঠে। তারা তো আর বল দেবে না! আমাদের মন খুব খারাপ। কান্না পাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো দারুয়ার আংকেলের কথা। তাকে আমরা সবাই খুব ভয় পেতাম। তাঁকে গিয়ে ঘটনা খুলে বলি। তিনি বয়েজ স্কুলে যেতেই ছেলেরা বল ফেলে দৌড়ে পালাল। এ ছাড়া তাহমিনা আপা আর সালেহা আপার কথা না বললেই নয়। খুব আদর করতেন। গানে উৎসাহ দিতেন। অন্যদিকে ধর্ম স্যার গান-বাজনা পছন্দ করতেন না। বলতেন, ‘সারা দিন তো গান-বাজনা নিয়েই থাক, পড়ালেখা করবে কখন।’ ধর্ম ক্লাস ফাঁকি দিতে পারলে বেঁচে যেতাম। তেঁতুল আমার খুব প্রিয় ছিল। বাসায় তেঁতুল খাওয়া বারণ ছিল। তাই প্রতিদিন স্কুলে বান্ধবীদের নিয়ে জম্পেশ ‘তেঁতুল আড্ডা’ দিতাম। তেঁতুল, লবণ আর মরিচ, আহা! কি যে মজা হতো! বৃষ্টির দিনে জমত বেশি। ক্লাসের সবাই মিলে হুল্লোর করতাম। হাই স্কুলে পড়ার সময় স্কাউট করতাম। স্কাউটরা মিলে স্কুলের মাঠেই তাঁবু টানাতাম। আমাকে স্যাররা ক্লাস ক্যাপ্টেন বানিয়ে দিয়েছিলেন। স্কুল শুরুর আগে সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয়সংগীত গাইতাম। তার আগে দেখা হতো ছাত্রীরা বেল্ট পরেছে কি না, জুতার ফিতা বেঁধেছে কি না, চুলের বেণী ঠিকঠাক আছে কি না? এসব বিষয়ে অনিয়ম হলে শাস্তি দেওয়া হতো। বান্ধবীদের কেউ মার খেলে খারাপ লাগত। ছাত্রী হিসেবে ভালো ছিলাম। পরীক্ষার সময় বান্ধবীরা আমার সঙ্গে বসতে চাইত। স্কুলে আমার উপস্থিতি ছিল এক শতে এক শ! বার্ষিক অনুষ্ঠানে হামদ ও নাত হতো। সেখানে প্রথম হতাম। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তান রেডিওর ‘বেস্ট চিলড্রেন অ্যাওয়ার্ড’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম হয়েছিলাম। স্যাররা অনেক আদর করেছিলেন। দিনটির কথা আজও মনে পড়ে।

[ad#co-1]