মুন্সীগঞ্জে প্রবাসীকে গুলি করে হত্যার নেপথ্যে স্ত্রীর পরকীয়া!

কাজী দীপু হ মুন্সীগঞ্জ থেকে: সৎ ভাই বেলায়েতের সঙ্গে স্ত্রী রেশমার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের কারণেই মুন্সীগঞ্জে গ্রিস প্রবাসী গার্মেন্ট ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন নিহত হয়েছেন। পুলিশ তদন্তের বরাত দিয়ে এমন দাবিই করেছে। পুলিশ বলছে, ভাবী ও দেবরের অনৈতিক সম্পর্কের কারণেই মূলত এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। মোশারফকে হত্যার ঘটনার পর থেকে তার সৎ ভাই বেলায়েত জানাজা ও দাফন কাজে অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ মনে করছে, বেলায়েত গ্রেপ্তার হলেই হত্যারহস্য উন্মোচন হয়ে যাবে।

বর্তমানে বেলায়েতকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। এছাড়া নিহত মোশারফের স্ত্রী রেশমা উত্তর যাত্রাবাড়ীর স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করলেও পুলিশের নজরবন্দিতে রয়েছে। বেলায়েত গ্রেপ্তার হলে নিহত মোশারফের স্ত্রী রেশমাকেও গ্রেপ্তার করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত মোশারফের স্ত্রী রেশমার সঙ্গে সৎ দেবর বেলায়েতের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল তা শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যদের কাছে একাধিকবার রেশমা ও বেলায়েত অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকাবস্থায় ধরা পড়েন। এছাড়া নিহত মোশারফের স্ত্রী রেশমার মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই করে দেখা গেছে, প্রতিদিন কদফা দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইলে বেলায়েতের সঙ্গে কথা বলতেন রেশমা। এ নিয়ে আগে থেকেই গ্রিস প্রবাসী ভাই মোশারফের সঙ্গে সৎ ভাই বেলায়েতের দ্বন্দ্ব চলছিল। পুলিশ সূত্র আরো জানায়, ওই দ্বন্দ্বের জের ধরেই বেলায়েত পরিকল্পনা করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঢাকার ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে গ্রিস থেকে ফেরার একদিন পরই মোশারফকে হত্যা করা হয়। তবে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়টি স্ত্রী রেশমা আগে থেকে জানতেন কিনা তা বেলায়েত গ্রেপ্তার হলে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

সদর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মামলার তদন্ত করছেন এসআই ওবায়েদুল ও এমারত। তারা যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থান করে তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছেন। উল্লেখ্য, প্রবাস থেকে ফিরে মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জ শহরে শ্বশুরবাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে মোশারফ মুন্সীগঞ্জ শহরের দক্ষিণ কোটগাঁও বাসস্ট্যান্ডের কাউন্টারের সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নহিত হন।

[ad#co-1]