মাইটিভির খুলনা ব্যুরো প্রধানের লাশ উদ্ধার

সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত মাইটিভির খুলনা ব্যুরো প্রধান এম এ হাসান ঢালীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সে পুলিশের তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসী। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে সম্পৃক্ত এ সন্ত্রাসীর বাড়ি খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানার আড়ংঘাটা এলাকায়। ব্যবসা ও টাকা-পয়সা লেনদেন কেন্দ্রিক বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

স্থানীয়রা জানান, হাসান ঢালী মাইটিভি-র খুলনা ব্যুরো প্রধান হিসেবে নিজের পরিচয় দিতেন। কিছুদিন আগে তিনি ওই পদে নিয়োগ পেয়েছেন বলেও পরিচিতজনদের জানিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি গ্রামীণ ইসলামী বিডি কম নামে একটি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান। খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড় এলাকায় অবস্থিত আমিন প্লাজার ৫ম তলায় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটির একটি অফিস রয়েছে।

জানা যায়, কয়েকদিন আগে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ঢাকা অফিসের লোক পরিচয়ে ৪ জন খুলনায় হাসানের কাছে আসে। কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর তাদের অফিসিয়াল কাজে খুলনায় পাঠিয়েছেন বলে জানানো হয়। গত ৩/৪ দিন আগে হাসান তাদের সাথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার তার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়।

এ বিষয়ে রাতে দৌলতপুর থানার ওসি মো. ফকরুল ইসলাম শীর্ষ নিউজ ডটকমকে জানান, নিহত হাসান ঢালী দৌলতপুর থানার ২৯নং তালিকাভুক্ত এক সন্ত্রাসী। তার নামে খুলনা ও যশোরে দুটি মামলা রয়েছে। পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এবং দৌলতপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী গাজী কামরুল বাহিনীর সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে। ঢাকায় নেয়ার পথে সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, হাসান ঢালীর স্ত্রী ঝর্ণা বুধবার তার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে থানায় একটি জিডি করেন। খবর পেয়ে হাসানের পরিবারের সদস্যরা লাশ আনার জন্যে মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানাও হয়েছেন।

শীর্ষ নিউজ
———————————————————–
খুলনার হাসান ঢালী মুন্সীগঞ্জে খুন

খুলনার দৌলতপুর থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী ও গ্রামীণ ইসলামী ই-কম ডট বিডি ইনস্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ হাসান ওরফে হাসান ঢালীকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানা পুলিশ বুধবার বিকেলে তাঁর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে। তাঁর পকেট থেকে মাই টিভির একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঢাকা-মাওয়া রোডের খানবাড়ী এলাকার একটি ডোবা থেকে বুধবার বিকেলে নিহতের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর পায়জামার পকেট কেটে মাই টিভির একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। তাতে এম এ হাসান নাম লেখা এবং খুলনা ব্যুরো চিফ হিসেবে তাঁকে উল্লেখ করা ছিল। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে হাসান ঢালীর লাশ দৌলতপুরে তাঁর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাঁর লাশ খুলনায় পেঁৗছায়নি বলে জানা যায়।

এদিকে খুলনার দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, এম এ হাসান পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা গাজী কামরুলের একান্ত সহযোগী ছিলেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসান ঢালী সাংবাদিক ছিল, এটা আমার জানা ছিল না। শুনেছি, তাঁর পকেটে সাংবাদিকের কার্ড পাওয়া গেছে। আসলে ওটা তাঁর একটা লেবাস।’

ফখরুল ইসলাম জানান, হাসান কয়েক দিন আগে কয়েকজন লোকের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর কোনো খবর না পেয়ে ৯ আগস্ট পরিবারের পক্ষ থেকে দৌলতপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন_কেইউজের সভাপতি শেখ আবু হাসান বলেন, ‘আমি হাসান ঢালী নামে কোনো সাংবাদিককে চিনি না। এ নামে কেউ খুলনার সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে আমার জানা নেই।’

নিহত হাসান ঢালী খুলনার দৌলতপুর থানাধীন গাইকুড় এলাকার বাসিন্দা। এ এলাকাটি চরমপন্থী-সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দৌলতপুর থানা পুলিশ বলছে, টাইগার খোকন, ফাইভ মার্ডার, বিএনপি নেতা ডাবলুসহ অসংখ্য হত্যা মামলায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা ছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে সব মামলায়ই তিনি রেহাই পেয়ে যান।

কালের কন্ঠ

[ad#co-1]