পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে মুন্সিগঞ্জের ৫০ বসতবাড়ি বিলীন

গত ২ সপ্তাহের অব্যাহত ভাঙনে শ্রীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন ভাগ্যকুল বাজারের অর্ধেকটাই পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। ভাগ্যকুল গ্রামের ৫০টি বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পূজামণ্ডপসহ বিলীন হয়েছে বিস্তৃর্ণ জনপদ। গত কয়েকদিনে মন্টু সাহার গোডাউন, বাবুল দাসের হার্ডওয়্যারের দোকান, মালেক খাঁর হোটেল, সুকুর ফরাজীর হোটেল, নুরু দেওয়ানের মুদি দোকান, বিপ্লব দাসের মুদি দোকান, নুরু বেপারীর চায়ের দোকান, সুমন সিকদারের ভুষির দোকান, গৌরাঙ্গ ঠাকুরের হোটেল, শান্তি সাহার গোডাউন, নবীন হোসেনের ওয়েল্ডিং দোকান, সুধীর ঘোষ ও সুভাষ ঘোষের মুদি দোকান, জগন্নাথ শীলের দোকান, নবদ্বীপ দাসের হার্ডওয়্যারের দোকান, বাজারের তরকারি পট্টি, দুধপট্টি, চালপট্টি, ভাগ্যকুলের জমিদারদের তৈরি আটচালা এখন নদীর গর্ভে। কদিনে ইমান্দিশে, সাধন বর্মন, গকুল বর্মন, তারাপদ, শোভারানী, ধীরেন্দ্র মাল, রনজন মাল, গোপাল মালসহ অনেকের বসতবাড়ি পদ্মার তীব্র স্রোতের টানে বিলীন হয়ে গেছে। জানা যায়, ভাগ্যকুল বাজার ও গ্রামের সঙ্গেই পদ্মার গভীরতা ৭০-৮০ ফুট। তীব্র স্রোতের কারণে সাধারণ মানুষ যে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করেছিল তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে যায়। গ্রামের ভাঙনকবলিত বিশ্বনাথ দে জানান, আমরা ২ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেছি বাড়ি রক্ষা জন্য। পদ্মার তীব্র স্রোতে তা কোনো কাজেই আসেনি। অনেকেই বলেছেন কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে, কিন্তু কয়েক সপ্তাহ চলে গেলেও কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। ভাঙন কবলিতদের ২ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে এমন কথা শুনলেও টাকা পেয়েছে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। যে সব দোকানদারের দোকান ভেঙেছে তারা এখনো কোথাও দোকান তুলতে পারেনি। এভাবে ৫০টি পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কাজের সুযোগ নষ্ট হওয়াতে এদের কেউ অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়তে পারে। এসব ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ জানান, ভাঙনরোধে তিনি সরকারিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

[ad#co-1]