পাল্লা দিয়ে ভাঙছে পদ্মা

‘গতবারও ভাঙনের সময় পানি মন্ত্রীসহ এমপিরা আইয়া কইয়া গেছিল এরপর থেইক্কা আর বাব-দাদার ভিটামাটি ছাইড়া আমাগো যাইতে হইব না, কিন্তু হেইডা আর ভাগ্যে হইল কই, এবারও সব হারাইয়া খোলা আকাশের নিচে পোলা মাইয়া লইয়া দিন কাটাইতাছি। হেরা শুধু কইয়াই যায় কাজ আর অয় না।’_এসব কথা বলেন চারিপাড়া গ্রামের আবদুল খালেক খান।

চার বছর ধরে বর্ষা মৌসুম এলেই শুরু হয় পদ্মার তাণ্ডব। এবারও ভাঙনের কবলে পড়েছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ভাগ্যকুল ও বাঘরা ইউনিয়নের কবুতরখোলা, চারিপাড়া, মান্দ্রা, কামারগাঁও, কেদারপুর ও মাগডাল গ্রাম। বর্ষার শুরুতেই ভাঙন দেখা দিলেও গত ১৫ দিন ধরে তা তীব্র হয়ে উঠেছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পদ্মার করাল গ্রাসে বিলীন হয়েছে ভাগ্যকুল ও বাঘরা বাজারের অর্ধশত দোকানপাট, শতাধিক বসতবাড়ি, ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপ, মাদ্রসা, মসজিদসহ কয়েক শ বিঘা আবাদি জমি। প্রতিদিনই ভাঙনের তাণ্ডব চলছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ। ভাগ্যকুল ও বাঘরা বাজারের ৪০০ দোকান, ভাগ্যকুল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ঢাকা-দোহার সড়কের একাংশ, চারিপারা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মসজিদ-মাদ্রাসা ও সহস্রাধিক বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। শ্রীনগরের ভাগ্যকুল ও বাঘরার ভাঙনকবলিত এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে অসহায় মানুষের করুণ চিত্র।

শ্রীনগরের ভাগ্যকুলে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

শ্রীনগর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মইনুল হোসেন বলেন, ‘পদ্মার ভাঙনরোধে এক লাখ জিও ব্যাগ ফেলার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এখনো অনুমোদন হয়নি, তবে কয়েক দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে, তখন কাজ শুরু হবে।’

[ad#co-1]