হুমায়ুন হত্যা চেষ্টা মামলা: জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাঈদী কারাগারে

লেখক-অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হত্যা চেষ্টা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে পাঁচ দফায় ১২ দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডির) পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাঈদীকে আদালতে হাজির করেন।

এদিকে এদিন পাঁচ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লার জামিন আবেদন নাকচ করেছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো.ইসমাইল হেসেন।

পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, রাষ্ট্রপতির গাড়ি বহর আটকানোর অভিযোগে পল্টন থানার তিন মামলা, রমনা থানার ফারুক হোসেন হত্যা মামলা এবং বিমান বন্দর থানার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে উত্তরা ষড়যন্ত্র মামলায় তাদের পক্ষে জামিন চাওয়া হয়।

২০০৩ সালের ২০ নভেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকের ঈদ সংখ্যায় ড. হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই সাঈদী তার বিভিন্ন ওয়াজ-মাহফিলে, জাতীয় সংসদে এবং অন্যান্য জায়গায় হুমায়ুন আজাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন।

এসব বক্তব্য দেওয়ার কিছুদিন পর ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্র”য়ারি বাংলা একাডেমীর বইমেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাতে আণবিক শক্তি কমিশনের উল্টো দিকের রাস্তায় হুমায়ুন আজাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।

ওই ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুমাযুন আজাদ তাকে আক্রমণের পেছনে মৌলবাদি জঙ্গি সংগঠন এবং সাঈদী জড়িত আছেন বলে অভিযোগ করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা এ ঘটনার সঙ্গে জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমানসহ ওই সংগঠনের শূরা সদস্যরা জড়িত ছিলেন বলে জানতে পারেন।

বহুমাত্রিক লেখক-অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ ২০০৪ সালের ১১ আগষ্ট জার্মানির মিউনিখ শহরে মারা যান।

এর আগে গত বছরের ২০ অক্টোবর হুমায়ুন আজাদের ভাই এ মামলার বাদি মজ্ঞুর কবির মামলায় প্রকৃত আসামিদের অর্ন্তভূক্ত করা হয়নি দাবি করে এ আদালতে এ মামলায় অধিকতর তদন্তের আবেদন করেছিলেন ।

২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, আতাউর রহমান সানি, মিজানুর রহমান মিনহাজ, আনোয়ার আলম ওরফে আনোয়ার হোসেন খোকাকে আসামি করে হত্যা প্রচেষ্টা ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুইটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে হত্যা চেষ্টা মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারের জন্য নিয়ে আসা হয়।

এর আগে অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হত্যা চেষ্টা মামলায় জেএমবি সদস্য হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাকিব হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের সিআইডি হেফাজতের অনুমতি দেয় আদালত।

এ মামলায় জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা সালাহউদ্দীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের হেফাজতে নেওয়া হয়। অপর জেএমবি সদস্য মিনহাজুর রহমান শাওনকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।

[ad#co-1]