হিমাগারের মালিকানা দ্বন্দ্বে ১০ হাজার বস্তা আলু বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকেরা

মোহাম্মদ সেলিম: মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার মুক্তারপুরে কদমরসুল হিমাগারে অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ করেও আলু সংরক্ষণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে বেশ কয়েকজন কৃষক। হিমাগারের মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় তারা তাদের সংরক্ষিত আলু বিক্রির জন্য বের করতে পারছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

কিন্তু সমস্যার কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

কৃষকেরা জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে কদমরসুল হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য তারা সেখানকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা বাহাউদ্দিনের মাধ্যমে প্রতিবস্তা ১৬৫ টাকা হিসেবে অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ করেন। ২০ জন কৃষক প্রায় ১০ হাজার বস্তা আলু রাখেন ওই হিমাগারে।

কিন্তু কৃষকরা আলু বের করতে গেলে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন বাধা দেন। একই সাথে তিনি হিমাগারের মালিক বলে দাবি করেন। মহিউদ্দিন কৃষকদের বলেন, হিমাগার থেকে আলু বের করতে হলে তাকে বস্তা প্রতি ২৫০ টাকা দিতে হবে।

কৃষকেরা জানান, একবার হিমাগারের ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। আবারো যদি সেই আলুর জন্য ভাড়া দিতে হয়, তা হলে নিজের জিনিস অন্যের কাছ থেকে কিনে আনার মত অবস্থা হবে। এমনিতেই এ বছর আলুতে তেমন লাভ হচ্ছে না। যদি আরো টাকা দিতে হয় তবে সে আলু না নিয়ে হিমাগারে রেখে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না তাদের।

আলু চাষী সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারিতে তিনি ১ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণের জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। তখন হিমাগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা বাহাউদ্দিন এ টাকা গ্রহণ করেন। এখন মহিউদ্দিন আহমেদ হিমাগারের মালিকানা দাবি করছেন। তিনি তার লোকজন দিয়ে হিমাগার নিয়ন্ত্রণ করেছেন। হিমাগার থেকে আলু বের করতে চাইলে মহিউদ্দিনের লোকজন আমাদের জানায় টাকা না দিলে আলু বের করা যাবে না।

খাজা বাহাউদ্দিন জানান, হিমাগারের অন্যান্য শেয়ার হোল্ডারগণ তাকে ১৫ বছরের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দিয়েছে। এ বিষয়ে চুক্তিনামাও আছে।

আলু সংরক্ষণে কৃষকরদের অগ্রিম ভাড়ার নেয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, কৃষকদের আলু বের করে দিতে হিমাগারে যেতে পারছি না। মহিউদ্দিন ও তার লোকজন আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে জানানো হলেও তার কোন ব্যবস্থা নেননি। এ বিষয়ে থানায় মামলাও আছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, হিমাগার পরিচালনার জন্য মালিকরা তাকে পাওয়ার অব এটর্নি দিয়েছে। সেই থেকে তিনি হিমাগার দেখাশোনা করছেন।

হিমাগারের আলু বের করতে না দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি চাই কৃষকরা বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করুক। কারণ সে তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। তা ছাড়া সে এখন হিমাগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আর নেই।

মহিউদ্দিনের পক্ষে হিমাগারের এক মালিক মোসলেহউদ্দিন জানান, বাহাউদ্দিনের সঙ্গে চুক্তিনামা ২০০৮ সালে বাতিল করা হয়েছে। মহিউদ্দিনকে আমরা হিমাগার দেখার জন্য পাওয়ার অব এটর্নি দিয়েছি।

সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, হিমাগারের মালিকানা বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোপূর্বে থানায় বসেছিলাম। এ ব্যাপারে একটি মামলাও চলছে। সম্প্রতি কৃষকদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা যায়, কদমরসুল হিমাগারের ৯ জন মালিক। এরা হচ্ছে- মোসলেহউদ্দিন, হাবিবুর রহমান, সেলিম মিয়া, মো. আলী, খাজাবাহাউদ্দিন, শাহীন ইসলাম, গোলাম হোসেন, আব্দুস সামাদ, আব্দুল আজিজ।

[ad#co-1]