শ্রীনগরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে দিশেহারা নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা

২৪ ঘণ্টায় ৮ দোকান ও ১০ বাড়ি বিলীন
মোঃ শাহাদাত হোসেন, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) থেকে : ভাঙছে নদী, বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা প্রাচীন জনপদ। প্রতিনিয়ত রাক্ষুসে পদ্মা গিলে খাচ্ছে একের পর এক নতুন এলাকা।

মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, বাড়িঘর, দোকানপাট ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তাঘাট কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না বুভুক্ষু পদ্মার গ্রাস থেকে। সহায়-সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন নদীতীরের অসহায় মানুষগুলো। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮টি দোকান, ১০টি বাড়িসহ ১৫ দিনের ব্যবধানে পদ্মার করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে ভাগ্যকুল ও বাঘড়া বাজারের অর্ধশত দোকানপাট, শতাধিক বাড়িঘর, ঐতিহ্যবাহী পূজা মণ্ডপসহ, শত শত বিঘা আবাদি জমি।

বর্ষার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুর্বার হয়ে উঠেছে প্রমত্তা পদ্মা। আর সেইসঙ্গে আতঙ্ক বাড়ছে নদীতীরের বাসিন্দাদের। ব্রিটিশ আমলে দেশের অন্যতম নৌ-বন্দর ভাগ্যকুলের মানুষের মাঝে আর ভাগ্যের সুবাতাস বইছে না। সর্বনাশা পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে এখন তাদের দুর্ভাগ্যের সীমা নেই।

গত বুধবার সরজমিন ঘুরে চোখে পড়ে এ অঞ্চলের অসহায় মানুষের করুণ চিত্র। এ সময় কথা হয় ভাগ্যকুল বাজারের গুড় ব্যবসায়ী ষাটোর্ধ শান্তি সাহার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পূর্ব পুরুষের বসতবাড়ি জমি-জমাসহ সবই পদ্মায় লইয়্যা গেছে, শেষমেশ গুড়ের দোকানডাও গেল। এখন নতুন করে মাথা গুজার ঠাই খুঁজাতাছি।’ ভাঙনের অবশিষ্ট ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘরে জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকা ইমান আলী শেখ (৭০) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘গরু, জমি, গোলাভরা ধান সবই পদ্মায় গেছে। চোখের সামনে ২১ শতাংশ বাড়ি ও চারটি বড় ঘর পদ্মায় গিল্যা খাইছে। এখন আমি পথের ভিখারী হইছি।

আজ রাইতের মধ্যেই হয়তো এই ছাপড়াডাও পদ্মায় ভাইঙ্গা যাইব।’ প্রচণ্ড স্রোতের দিকে বিষন্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ভাগ্যকুল গ্রামের বিধবা শান্তি রানী সাহা বলেন, ‘গতকালকে ঐ চুলাডাতে রান্না করছি, এখন চাইয়া দেহেন পদ্মা কেমনে কাইড়া নিতাছে।’ এমনিভাবে ভাঙনকবলিত অসহায় মানুষগুলো আফসোসের সুরে নানা কথা বলে যান অচেনা আগন্তুক পেলেই।

ভাগ্যকুল ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান জানান, প্রতিবছরই কিছু বালুদস্যু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে এসব এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, নদীর ভাঙন রোধ করা কঠিন। তাই স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজ উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করে সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিলে নদী সিকস্তিরা উপকৃত হবে।

শ্রীনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, ভাঙনের বিষয়টি আমরা ওপর মহলকে অবহিত করেছি। ইতিমধ্যে স্থানীয় সংসদ সসদ্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, জেলা প্রসাশক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মাইনুল হোসেন জানান, শ্রীনগরে পদ্মার ভাঙন রোধ ১ লাখ জিও ব্যাগ ফেলার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কবে প্রকল্পটি এখনো অনুমোদন হয়নি। আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

[ad#co-1]