পুত্রের মৃত্যুশোকে পিতার আত্মহত্যা, নাতির শোকে দাদির মৃত্যু

পুত্রের মৃত্যু শোকে পিতা আত্মহত্যা করেছেন। একইভাবে নাতির মৃত্যু শোকে মারা গেছেন দাদি। এ ঘটনায় উপজেলার ষোলঘর গ্রামে শোকের মাতম চলছে। এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার ষোলঘর গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র সাহা (৩৩) এর একমাত্র ছেলে নীরব (৪) জন্ম থেকে কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিল।

সমসাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রদীপ সাহার ৪ বছরে ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকা ব্যয় করেন। সর্বশেষ গত শনিবার ধানমন্ডি পেডিহোম হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, যত টাকাই ব্যয় করেন, আপনার সন্তানকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়। ডাক্তারের এ কথায় প্রদীপ সাহা ভেঙ্গে পরেন এবং চোখের পানি মুছতে মুছতে ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়িতে আসার কথা বলে তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। প্রদীপ সাহার চাচাত ভাই টিটু জানায়, রোববার বিকালে প্রদীপ সাহার সন্তান নীরব মারা যায়। মঙ্গলবার দিন দুপুরে প্রদীপ সাহার স্ত্রী সুবর্ণার মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে থেকে অপর প্রান্ত থেকে কোন কথা না বলে লাইন কেটে দেয়। কিছুক্ষণ পর ওই নম্বরে কল দিলে একজন রিসিভ করে জানায় এটি ফেনী এবং নম্বরটি একটি ফোন ফ্যাক্সের দোকানের।

এর সূত্র ধরে প্রদীপ সাহার চাচা শঙ্কর সাহা ফেনী গিয়ে ফোন ফ্যাক্সের দোকানটি শনাক্ত করে দোকানদারকে ছবি দেখালে দোকানদার জানান, প্রদীপ সাহাই দুপুরে ফোন করে ছিল। দোকানদার আরও জানান প্রদীপ সাহা মোবাইলের লাইন কেটে দিয়ে চোখের পানি মুছেন। সন্ধ্যার দিকে শঙ্কর সাহা জানতে পারেন ফেনী ট্রেন লাইনে কাটা পড়ে এক লোক মারা গেছে। তিনি লাশ দেখে প্রদীপ সাহাকে শনাক্ত করেন। অপরদিকে নাতির আত্মহত্যার শোক সইতে না পেরে মঙ্গলবার রাত দুইটায় প্রদীপ সাহার দাদি পদুবালা (৯৫) মৃত্যু বরণ করেন। গতকাল বিকালে প্রদীপ সাহার লাশ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে এলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দাদি- নাতির লাশ একত্রে দেখে অনেককেই চোখের পানি মুছতে দেখা যায়। সন্তান ও স্বামীকে হারিয়ে প্রদীপ সাহার স্ত্রী সুবর্ণাও মৃত্যু শয্যায়। প্রদীপ সাহা যে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন সে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা চৌধুরী নাজনীন আক্তার জানান, প্রদীপ সাহা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে খুবই প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন।

[ad#co-1]