মুন্সীগঞ্জে অভাবের তাড়নায় মা-মেয়ের আত্মহনন

চা বিক্রেতা সাধন ভাওয়ালের দরিদ্র সংসারে ট্র্যাজেডি
সেতু ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা গ্রামে সাধন ভাওয়ালের অভাবের সংসারে রোববার মধ্য রাতে মা ও মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিবন্ধী মেয়ে মাধুরী ভাওয়ালকে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগান মা মনিরা ভাওয়াল। পরে নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ঝুলে পড়েন মা-মেয়ে। অভাবের যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে এভাবেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন মা ও মেয়ে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা গ্রামে রোববার রাত ১টায় ওই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাটি ঘটে। তাদের সংসারে অজয় ভাওয়াল ও চৈতী নামে আরো ২ সন্তান রয়েছে। মনিরা ভাওয়াল প্রিয় স্বামী ও আরো ২ সন্তান রেখে শারীরিক প্রতিবন্ধী বড় মেয়ে মাধুরীকে নিয়ে মা মনিরার ওই আত্মহত্যার অমোঘ নিয়তি কেবল সংসারের অভাব সিরাজদিখান থানা পুলিশ ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সোমবার সকাল ১০টায় মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে এদিন দুপুরের দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে মা- মেয়ের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সিরাজদিখান থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মুশফিকুর রহমান বলেন, অভাবের সংসারে রোববার বিকালে বাজারের জন্য সাধন ভাওয়াল তার স্ত্রীর হাতে তুলে দেন মাত্র ৪০ টাকা। ওই টাকায় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে গিয়ে ৫ জনের সংসারের সবার মুখে খাবার দেয়ার মতো কিছুই মেলেনি। এতে রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাধে। এ সময় অভাব আর সহ্য হচ্ছে না বলে স্বামীকে জানান স্ত্রী মনিরা। পরে রাত ১টায় বড় মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ায় মা আত্মহত্যা করলে তার মৃত্যুর পর মেয়েকে কে খাওয়াবে বা কে দেখে রাখবে এ কারণে মা-মেয়ে একসঙ্গে আত্মহননের পথ বেছে নেয় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

[ad#co-1]