মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুট

তীব্র নাব্য সঙ্কট : ড্রেজিং করে সচল রাখার চেষ্টা
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মাওয়া-কাওড়াকান্দি ফেরিরুটে নাব্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ঘূর্ণিবাত্যায় এ নৌরুটের হাজরা ক্রস চ্যানেলের মুখে চর ভেঙে মাটি চ্যানেলে পড়ায় নদীর গভীরতা কমে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে ফেরি চলাচল। বিকল্প পথ হিসেবে মাগুরখন্দ-নাওডোবা চ্যানেলে মার্কিং করে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে আগের তুলনায় ৫ কিলোমিটার বেশি ঘুরে ফেরি পারাপার হচ্ছে। অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে ৪০-৫০ মিনিট। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ অনুযায়ী হাজরা ক্রস চ্যানেলে ৫-৬ ফুট ও মাগুরখন্দ-নাওডোবা চ্যানেলে ১০ ফুট গভীরতা রয়েছে। তীব্র স্রোত ও পানিতে প্রচুর পলি থাকায় যে
কোনো সময় মাগুরখন্দ-নাওডোবা চ্যানেলটিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় হাজরা চ্যানেলের গভীরতা বাড়াতে বিআইডব্লিউটিএ দুটি ড্রেজিং মেশিনের মাধ্যমে নাব্য সমস্যা দূর করার কাজ করছে। গতকাল সরেজমিন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা জানান, মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে সাধারণত সেপ্টেম্বর মাস থেকে নাব্য সঙ্কট দেখা দেয়। কিন্তু এ বছর জুলাই মাস থেকেই নাব্য সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় গত ১৪ জুলাই থেকে ড্রেজিং কাজ শুরু করা হলেও ফলপ্রসূ হবে কি-না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তারা। কারণ হিসেবে তারা বলেন, ড্রেজিংকৃত অংশের উভয় পাশ ভেঙে এবং নদীর স্রোতবাহিত পলি পড়ে চ্যানেলের তলদেশ দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া জোয়ারের সময় পানির প্রবল চাপে ড্রেজার স্থানচ্যুত হয়ে পড়ছে এবং ড্রেজারের পাইপলাইন ভেঙে পড়ার উপক্রম হচ্ছে। যে কারণে জোয়ারের সময় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ড্রেজিং কাজ বন্ধ রাখতে হয়। এদিকে নৌরুটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দেয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়াধীন নদী বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসকে (সিইজিআইএস) কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে এই নৌরুটের ওপর মরফোলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নদীতে অত্যধিক স্রোত ও তলদেশ অস্থিতিশীল থাকায় এবং পলি পড়ার হার মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় ড্রেজিং কার্যক্রম ফলপ্রসূ হবে না বলে মত দিয়েছে। তারপরেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিবেচনায় এই নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ সার্ভিস সচল রাখতে বিআইডব্লিউটিএ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মাওয়ায় একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে। ক্যাম্পে পর্যায়ক্রমে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের ২ জন প্রকৌশলী, ২ জন হাইড্রোগ্রাফার ও ২ জন নৌ-সংরক্ষণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন।

মাওয়া-চরজানাজাত নৌরুটটি ঘুরে দেখা যায়, অতিরিক্ত ৫ কিলোমিটার ঘুরে বিআইডব্লিউটিএর মার্কিং করা বিকল্প চ্যানেল মাগুরখন্দ-নাওডোবা দিয়ে ফেরি চলাচল করছে। পাশাপাশি স্বল্প দূরত্বের হাজরা চ্যানেলটির নাব্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ড্রেজিং কাজ চলছে। এ সময় মাওয়ায় উপস্থিত বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. আবদুল মতিন জানান, পরিস্থিতি যদি অনুকূলে থাকে তবে হাজরা ক্রস চ্যানেলের নাব্য পুনরুদ্ধারে ড্রেজিং কার্যক্রম সফল হবে। হাজরা ক্রস চ্যানেলের প্রয়োজনীয় গভীরতা ফিরে না আসা পর্যন্ত মাগুরখন্দ-নাওডোবা দিয়ে যাতে ফেরি নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেজন্য মার্কিং ও রাতে সিগন্যালের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (নৌ-সওপ) মো. এমদাদুল হক জানান। এছাড়া মরফোলজিক্যাল স্টাডি করে নাব্য সঙ্কট মোকাবিলার টেকসই উপায় বের করার চেষ্টা চলছে বলে সিইজিআইএসের নির্বাহী পরিচালক মমিনুল হক সরকার জানান।

কাজী জেবেল, মুন্সীগঞ্জ থেকে ফিরে