পদ্মা সেতু এলাকায় চারটি পুনর্বাসন এলাকা হচ্ছে

সরকার পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের (পিএমবিপি) কাছাকাছি স্থানে চারটি পুনর্বাসন এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথভাবে গ্র“নর্বাসন করা এ উদ্যোগের লক্ষ্য। মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় দুটি এবং শরিয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলা ও মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় একটি করে পুনর্বাসন এলাকা গড়ে তোলা হবে।

প্রকল্পের অর্থ সরবরাহের আগে পুনর্বাসন সম্পন্ন করার জন্য দাতা সংস্থাগুলো আরোপিত পূর্বশর্ত পূরণে সরকার এজন্য সোমবার এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এলাকা ডেভেলপারদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। পিএমবিপি প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম ডেভেলপার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ছয় মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার মত আর্থিক সঙ্গতি সম্পন্ন ডেভেলপারদের এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সড়ক বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেতু ভবনে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মকর্তারা জানান, এ প্রকল্পের আওতায় ৮৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা মূল্যের ৬০ হেক্টর জমিতে দুই হাজার ২৪টি হাউজিং প্লট নির্মাণ করা হবে।

পিএমবিপি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুনর্বাসন) মঞ্জুরুল ইসলাম জানান যে, ভৌত স্থাপনাসমূহের মধ্যে রয়েছে- আবাসিক ভবন, বিদ্যালয়, মসজিদ, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মার্কেট, ওভারহেড পানির ট্যাঙ্ক, প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও বাহ্যিক বৈদ্যুতিক কাজ।

তিনি জানান, এ বছরের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে ছয় মাসের মধ্যেই ভৌত কাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন বর্তমানে যে পরিবেশে বাস করছে তার চেয়ে উন্নত পরিবেশ সুনিশ্চিত করার শর্তে নতুন পুনর্বাসন স্থাপনাগুলো নির্মাণ করা হবে। সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার প্রদান করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু স্থাপনার দিক দিয়ে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সেতুতে পরিণত হবে। ২৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিতব্য রেললাইনসহ দ্বিতলবিশিষ্ট এই সেতু গভীর ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। সেতুটি রিখটার স্কেলের ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের মধ্যেও অক্ষত থাকবে।

প্রকল্পটির কনসাল্টিং ফার্ম মাউনসেল এআইসিএইএম-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল সেতুটির ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর চূড়ান্ত নকশা অনুমোদনের জন্য হংকংয়ে তাদের সদর দপ্তরে আগামী ২৮ ও ২৯ জুলাই বৈঠকে মিলিত হবে।

তিনি বলেন, মূল সেতু নির্মাণে নির্বাচিত প্রাক-যোগ্যতা অর্জনকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে অনুমোদনের জন্য বিশ্ব ব্যাংকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের আরো দুটি প্রধান উপাদান হিসেবে চিহ্নিত নদী শাসন ও প্রবেশ রাস্তা নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছে।

যোগাযাগমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ পূর্ব নির্ধারিত আগামী ডিসেম্বরে শুরু হবে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে।

[ad#co-1]