তাঁকে স্যালুট

চাষী নজরুল ইসলাম
নিজেকে খুব একা একা লাগছে। মনে হচ্ছে, বুলবুল আহমেদের মতো এমন একজন আপনজনকে হারিয়ে একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের দুজনের পারিবারিক সম্পর্কটাও ছিল বেশ ঘনিষ্ঠ। কতবার যে আমরা পারিবার নিয়ে বেড়াতে গেছি দেশের বাইরে, হিসাব নেই। শেষ গিয়েছিলাম ভারতে। সেখানে অনেক মজাও হয়েছিল। মূলত বুলবুল ভাই ছিলেন কোলাহলপ্রিয় মানুষ। তিনি সব সময় চাইতেন_তাঁর পাশে মানুষ থাকুক, হৈচৈ থাকুক। একবার ‘ভালো মানুষ’ ছবির শুটিংয়ে তিনি এমন একটি মজার কৌতুক বলেছিলেন যে এখনো মনে পড়লে হাসি পায়। সেদিন থেকে জানি, বুলবুল আহমেদ শুধু একজন ভদ্র মানুষই নন, রসবোধও তাঁর মধ্যে যথেষ্ট বিদ্যমান। তিনি আমার চারটি ছবিতে অভিনয় করেছেন_ভালো মানুষ, শুভদা, দেবদাস ও পদ্মা-মেঘনা-যমুনা। অবিশ্বাস্য লাগে যে প্রতিটি ছবিতে তিনি নতুন মাত্রা দিয়ে অভিনয় করেছিলেন। বলতে দ্বিধা নেই, পরিচালক হিসেবে তাঁর কাছে যতটা প্রত্যাশা করেছি প্রতিবারই তিনি চার চেয়ে বেশি পূরণ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি ‘দেবদাসে’র কথা। ছবির শেষ একটি দৃশ্য ছিল গরুর গাড়িতে। এ দৃশ্যে তিনি পারুকে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। দৃশ্যটি ছিল আমার স্বপ্নের দৃশ্য। আমি মনে মনে বেশ আগে থেকেই ছক এঁকেছিলাম কিভাবে শুটিংটি করব। সেদিন বুলবুল সাহেবের কাছে আমার একটা দাবি ছিল_তাঁর মরণটা যেন চোখ দিয়ে হয়। সত্যি সেদিন তিনি আমার সে দাবি শুধু পূরণই করেননি, লাখো-কোটি দর্শককে দেখিয়েছেন মহানায়কত্ব। আমি তাঁকে স্যালুট জানাই এবং বলতে চাই, ‘বুলবুল আহমেদ, যত দিন দেবদাস থাকবে ততদিন আপনিও বেঁচে থাকবেন।’

[ad#co-1]