নূহ-উল-আলমের কবিতার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান

আমাকে সুধায় লোকে/তুমি কোন পন্থি? আমি বলি,/আমি ডানপন্থীও না/বামপন্থীও না/আমি সম্মুখপন্থী।ঃ
এমনি বাস্তবধর্মী হাজার কথার মালা গেঁথে কবিতা লিখেছেন কবি নূহ-উল-আলম লেনিন। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে তার লেখা ‘স্বপ্ন করপুটে’, ‘অনেক দূর যেতে হবে’ এবং ‘ভালবাসা হিসেব জানে না’ এই তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কবিতা, গান ও আলোচনার এই আয়োজন করেছিল বই তিনটির প্রকাশনা সংস্থা ম্যাগনাম ওপাস, সময় প্রকাশন ও বিশাখা প্রকাশনী। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, সময় প্রকাশের প্রকাশক ফরিদ আহমেদ, ম্যাগনাম ওপাস-এর প্রকাশক আনোয়ার ফরিদী, বিশাখা প্রকাশনীর প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু, কবি নূহ-উল-আলম লেনিনসহ তার রাজনৈতিক যহযাত্রীরা। প্রকাশনা অনুষ্ঠানের শুরু হয় শিল্পী লিলি ইসলামের গাওয়া জগতের আনন্দ যজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ এই রবীন্দ্রসঙ্গীতটি দিয়ে। এরপর মঞ্চে আসেন প্রখ্যাত অভিনেতা, মুক্তিযোদ্ধা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সময় প্রকাশনের ফরিদ আহমেদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কবি আসলাম সানী। নূহ-উল-আলমের কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা কলেজের প্রভাষক ড. আব্দুল আলীম। অনুষ্ঠানে কবির কবিতা পাঠ ও আলোচনা চলে ফাঁকে ফাঁকে। কবিতা আবৃত্তি করে শোনান সৈয়দ হাসান ইমাম, আসাদুজ্জামান নূর, কাজী আবু জাফর সিদ্দিকী, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, লায়লা আফরোজ, ডালিয়া আহমেদ, শাহাদাৎ হোসেন নিপু, ঝর্ণা সরকার, রফিকুল ইসলাম, রেজীনা ওয়ালী লীনা ও ফেরদৌসী কুইন। ড. মুস্তাফা নূর উল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন রফিক আজাদ, হায়াৎ মামুদ, মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুণ, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, অসীম সাহা, কবি কাজী রোজী, ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ ও ড. সৌমিত্র শেখর। কবির লেখা কবিতা থেকে গান গেয়ে শোনান তিমির নন্দী ও ইফ্ফাত আরা নার্গিস। সঙ্গীত পর্বটি পরিচালনা করেন শিবু রায়।

ফরিদ আহমেদ বলেন, যিনি কবিতা লিখেছেন তিনি আসলে কবি হিসেবে তেমন পরিচিত নন। তার পরিচয় রাজনীতিবিদ হিসেবে। তিনি ষাটের দশকে কবিতা লিখেছেন। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল প্রেম স্বাধীনতার জন্য। তার কবিতাগুলোয় কাব্যিক-শৈল্পিক দিকনির্দেশনা রয়েছে। ড. আব্দুল আলীম বলেন,

তার কবিতা কখনো সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নভাষ্য, কখনো শোষিত মানুষের মুক্তির প্রেরণামন্ত্র, কখনো পুঁজিবাদের দোর্দণ্ড প্রতাপের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ, কখনো ব্যক্তিগত আবেগ অনুভূতি ও প্রেমের প্রতিচ্ছবি, কখনো আবার দুঃখের তিমির ভেদ করা আশা জাগানিয়া শব্দমন্ত্র। মূলত, একজন সচেতন ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিকের দেশপ্রেমের দীপ্র প্রকাশে উজ্জ্বল নূহ-উল-আলম লেনিনের কবিতা। কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, নূহ-উল-আলম লেনিনের শেকড়ে মানুষ জল দিচ্ছে, তিনিও মানুষের শেকড়ে জল দিচ্ছেন। অসীম সাহা বলেন, তিনি আগে কবিতা লিখলেও অনেক পরে আত্মপ্রকাশ করেছেন। কিন্তু হৃদয়ের গহন অতলে কবিতার বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছিল বলেই তিনি ক্রমাগত কবি হয়ে পরিচিত হয়ে উঠছেন। ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি যতোদূর এসেছেন, তার চেয়েও নিভৃতে কবিতা লিখে কাব্যাঙ্গনের অনেকদূর এসে গেছেন; এতোদূর এসে কবিতা থেকে এখন তার আর ফেরার উপায় নেই।

এই বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে রাজনীতিবিদ, প্রাবন্ধিক ও কবি নূহ-উল-আলম লেনিনের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩টি।

[ad#co-1]