ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বার বার দুর্ঘটনা কেন

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া বাজারের কাছে বাস চাপায় দুই পথচারী মাদ্রাসা ছাত্রী নিহত হয়েছে। ঘটনার পর পর উত্তেজিত জনতা মহাসড়কের ওই স্থানে অবরোধ করলে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় মহাসড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসগামী বহু মানুষ বিড়ম্বনায় পড়ে। পরে প্রশাসন তাৎক্ষণিক সপীডব্রেকার তৈরি এবং পালিয়ে যাওয়া বাসটিকে খুঁজে বের করে ড্রাইভারের শাসত্মির ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে জনতা ব্যারিকেড তুলে নেয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শ্রীনগর থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঢাকাগামী যাত্রীবাহী ইলিশ পরিবহন ও চন্দ্রা পরিবহনের দু’টি বাস প্রতিযোগিতা করে যাওয়ার সময় মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মাদ্রাসাগামী তামান্না (৭) ও সাদিয়া আক্তার আয়েশাকে (৮) চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘন ঘন দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে ঢাকা-মাওয়া রম্নটের কয়েকটি পরিবহনের অদক্ষ চালক দিয়ে বেপরোয়া বাস পরিচালনা। দ্রম্নত গনত্মব্যে পেঁৗছানোর নামে কয়েকটি পরিবহন এখানে মানুষ খুনের প্রতিযোগিতা করছে। আর এতে নিষ্পাপ শিশুও বাদ যাচ্ছে না। অঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে বহু পথচারী ও যাত্রী-সাধারণ। পুলিশের হিসেব মতে, গত ৫ বছরে এই মহাসড়কের ১৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে এই পয়েন্টেই হয়েছে ৩১টি।

বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনায় আহত তামান্না ও সাদিয়াকে হাসপাতালে নেয়ার পর পথে মারা যায়। নিহত তামান্না ও আয়েশা স্থানীয় হাসাড়া আল এহসান নুরানী মাদ্রাসার ছাত্রী। নিহত সাদিয়া হাসাড়া গ্রামের বিলস্নাল হোসেনের এবং তামান্না কেউটখালী গ্রামের আব্দুল মালেকের কন্যা।

এই মহাসড়কে ঘন ঘন দুর্ঘটনার কারণে এক রকম আশপাশে স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষাথর্ী ও অভিভাবকগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। হাসাড়ার রাশেদুল হক বলেন, যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটে চলছে মনে হয় এই মহাসড়ক মৃতু্যকূপ। তাই ছেলেমেয়েকে স্কুল-কলেজে পাঠাতে ভয় লাগছে। মহাসড়কের ১৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় শত শত যাত্রী ও পথচারীর প্রাণহানি হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ শফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবারে দুর্ঘটনার জন্য দু’বাস চালককে দায়ী করে বলেছেন, দায়ীদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বেশির ভাগ দুর্ঘটনাই ঘটাচ্ছে ঢাকা-মাওয়া সড়কে চলাচলকারী কিছু পরিবহন। তাদের বিরম্নদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুল আলম জানিয়েছেন, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট এবং যৌথ পরিদর্শন টিমের যানবাহন পরিদর্শন করে ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির অন্যান্য বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এমনকি চালকসহ সংশিস্নষ্টদের নিয়ে কর্মশালাও চালু হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কিছু কোম্পানির বাস এই দুর্ঘটনাগুলোর জন্য দায়ী। তিনি বলেন, মহাসড়ক নিরাপদ এবং জানমালের সুরক্ষাকে ব্যাহতকারীদের কোনভাবেই ক্ষমা করা হবে না। দায়ীদের বিরম্নদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। তিনি নিহতের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে সরকারের সাধ্য অনুযায়ী সব রকমের সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এদিকে এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এমপি নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর করেন এবং গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

[ad#co-1]