মুন্সীগঞ্জে শ্রীনগরে পদ্মার তীব্র ভাঙ্গন বিস্তীর্ণ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন

শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুলে ভয়াবহ পদ্মার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। যে কোন সময় মুন্সীগঞ্জের অন্যতম বৃহৎ ভাগ্যকুল বাজার এবং ভাগ্যকুল গ্রামটি পদ্মার গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে ভাগ্যকুল বাজারের অন্তত ১৮/২০ টি দোকান তীব্র স্রোতে বিলীন হয়েছে। এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ২০ টি বসত বাড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। ভাঙ্গনের তীব্রতা এতই বেশী যে যেখানে পারছে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে। অনেকে আবার সরিয়ে নেয়ারও সুযোগ পাচ্ছে না।

সরেজমিনে ভাগ্যকুলে গিয়ে জানা যায়,খালেক বেপারীর তেলের দোকান,সুলতান গাজীর কাঠের দোকান, অনিল দাস ও বাবুল দাসের হার্ড ওয়্যারের দোকান,রহিম শিকদার ও জগন্নাথ সাহার গোডাউন,সুমন শিকদারের ভুষির দোকান,নবিন খান ও রুহুল আমিনের ওয়ার্ক শপ,ফজল শিকদারের পাটর্সের দোকান,বিপ্লব দাসের মুদি দোকানসহ ১৮/২০টি দোকান এখন নদীর গর্ভে। এসব দোকানের কোন চিহ্ন আর নেই। পদ্মার তীব্র স্রোতে দোকান-পাট,বসত বাড়ি-ঘরসহ বিস্তীর্ণ জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পদ্মার ভাঙ্গন এতই তীব্র যে, লোকজন মালামাল সরানোর পর্যন্ত সুযোগ পাচ্ছে না।

ভাগ্যকুল গ্রামের প্রায় ২০টি বসত বাড়িও এরই মধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজ শেখ, নুরু ভূঁইয়া, ইমান্দি শেখ, মোসলেম শেখ,খালেক শেখ,ননী গোপাল ভট্টাচার্যের বাড়ি,শান্তি সাহা,কাশেম ভূঁইয়া,স্বপন মাল, রঞ্জন মালোয়ের বাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া গবিন্দ দে ও মদন দের বাড়ি , জবেদ আলী মুন্সীর বাড়িসহ আরো প্রায় ৫০টি বাড়ি ভাংগনের মুখে রয়েছে। গত রবিবার সকালে জবেদ আলী মুন্সীর পাকা বাড়ির একাংশ বিলীন হয়ে গেছে। তার বাড়ির গাছ-পালা এবং মালামালসহ অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। ভাঙ্গনের মুখে থাকা এমন অনেকেই বাড়ি ঘর ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। অনেকের যাওয়ার কোন জায়গা না থাকায় আত্মীয় স্বজনের কাছে আশ্রয়ের জন্য ধরনা দিচ্ছে। অনেকে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটাছুটি শুরু করছে। এলাকাবাসী জানায়, এখনও সরকারী কোন সাহায্য এসে পৌঁছেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। তার পরও ভেঙ্গে যাচ্ছে। তবে ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য স্থায়ীভাবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজেক্ট দেয়া আছে। এখন জরিপের কাজ চলছে। জরিপের কাজ শেষ হলেই বাঁধের কাজ শুরু হবে। দোহারের নারিশা বাজার থেকে মাওয়া পর্যন্ত বাঁধ দেয়া হতে পারে বলে তিনি জানান।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুল আলম জানান, গত ১ সপ্তাহ ধরে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। তবে ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতার ব্যবস্থা কিছু দিনের মধ্যেই করা হবে। এর আগে গত জুন মাসেও এই এলাকা ভেঙ্গেছিল সে সময়ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সাহায্য সহযোগিতা করা হয়েছিল।

বাছিরউদ্দিন জুয়েল, মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা

[ad#co-1]