ওদের ধারণা, বেঁচে থাকা মানে ভাত খাওয়া ও কাপড় পরা

রিতার ডায়েরি-শেষ
রাশেদ কোথায় কার সাথে প্রতিদিন ফোনে কথা বলছে, পাবন পায়েল আমি কিছুই জানি না। আমরা কষ্ট পাচ্ছি। পায়েল ওর দাদীর মোবাইল চেক করে দেখে, রাশেদের সাথে ওর দাদীর কথা হচ্ছে। এর মধ্যে রাশেদ ফোন করে। ওর সাথে পাবন ও পায়েলের কথা হয়। রাশেদের বাবা পায়েলকে বলে, মনে করো তোমার আব্বু স্মৃতির কোলে বসে কথা বলছে। কিছু করা যাবে? যাবে না, ধৈর্য ধরা ছাড়া। রাশেদের বাবার নোংরা কথায় যে আমার কষ্ট হচ্ছে, আমি তা বলতে পারছি না। আসলেই রাশেদ স্মৃতির কোলে বসে ফোন করছে। রাশেদ ও ওর ফ্যামিলির নোংরামীতে ক্লান্ত আমি+পাবন+পায়েল। অনেক কিছু বুঝেও বলতে পারছি না।

রাশেদের অত্যাচার বেড়ে গেল। কোরবানী ঈদের এক দিন আগে অযথা একটা বিষয় নিয়ে ছোট কথায় খারাপ ব্যবহার করে। চিৎকার করে। যথারীতি তার বাবা, মা ও বোন আসে। রাশেদের বাবা বলে, মাইগ্যা পোলা বিয়ে কইরা দেখাইতে পারস না? আমি বলি, আপনি যত বড় সাংবাদিক হন না কেন, আমার উপস্থিতিতে বিয়ে করালে জেলের ভাত খাওয়াবো। রাশেদের মা বলে, ১০০টা বিয়ে করাবো, তোমার কি? এভাবেই ছোট ঝগড়া বড় ঝগড়া হয়ে যায়। সারাদিন রাশেদ কথা বলে না ও ভাত খায় না। সন্ধ্যায় তার মা ডাকে। নিচে যায়। তারা তারা মিটিং করে, ঈদের দিন চুপচাপ, ঈদের পরের দিন চুপচাপ। কবিতা ও পাটোয়ারী আসে। তারা সবাই মিটিং করে। ঈদের এক দিন পর অফিসের নামে রাশেদ ওই মেয়ের কাছে ইস্কাটনে চলে যায়। ৩০ নভেম্বর রাশেদ বাসা থেকে চলে যায়। রাশেদ ম্যাসেজ পাঠায় বাসায় আসছে না। রাশেদের বাবা ও মাকে জানালে রাশেদের বাবা বলে, এটা আমার ছেলে না। একে আমি ত্যাজ্য করেছি। আমাকে বলল, মনে করো তোমার স্বামী মারা গেছে।

পাবন+পায়েলকে বলা হলো, মনে করো তোমাদের বাবা মারা গেছে। রাশেদের মা বলল, কি জানি বিয়ে করে ফেলছে নাকি! আমি বলি, মা, রাশেদ তো পাবন-পায়েলের মাথা ছুঁয়ে বলেছে বিয়ে করে নাই। রাশেদের মা বলে, পোলাপানের মাথা ছোঁয়ার কি দরকার ছিল? আমি বলি, আপনি কিছু জানেন নাকি? সে বলে, না, আমারেও বলছে বিয়ে করে নাই, হোটেলে থাকে। অথচ রাশেদের বাবা+মা+বোনের মধ্যে কোনো টেনশন ছিল না। তারা খাচ্ছে, দাচ্ছে। পাবন+পায়েল ব্যাপারটা বুঝতে পারছে। রাশেদের সাথে ওর মার প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার কথা হচ্ছে। আমি বলি, মা, রাশেদকে বলেন বাসায় নিচে থাকতে। শীতের মধ্যে হোটেলে কষ্ট পাবে না? ওর ভালো মা বলে, হেয় কথা শুনে না। এর মধ্যে ১লা ডিসেম্বর আমি+পাবন+পায়েল স্কুলে থাকা অবস্থায় রাশেদ বাসায় এসে সব কাপড়-চোপড় নিয়ে যায়। আমরা স্কুল থেকে আসার পর উঠানে রাশেদের বাবা ছিল। সে পাবন+পায়েলকে বললো না তোমার আব্বু এসেছিল। রাশেদ ম্যাসেজ পাঠায়_আমি এসে কাপড় নিয়ে গেছি। আমি ঘরে গিয়ে দেখি, রাশেদ সব কাপড়-চোপড় নিয়ে গেছে। আমি নিচে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, রাশেদ এল, আপনি কিছু বললেন না? ওর ভালো মা বলল, অফিস আছে, তাড়াতাড়ি চলে গেছে। আমি কি কমু। রাশেদ আমাকে ফোনে বোঝাতে চাচ্ছিল ওর বাবা, মার সাথে বেয়াদবি করার জন্য ও বাসায় আসছে না। আমার মানসিক চাপ হচ্ছিল। আমি লোক লাগাই, সে রাশেদের বাসা খুঁজে বের করে। আমাকে বলে ব্যাচেলর ফ্লোরে ভাড়া থাকছে। জানুয়ারির ৫ তারিখে আমি পাবন+পায়েলকে নিয়ে সন্ধ্যায় বের হই। ওদের মানসিক অবস্থা খুব খারাপ। এর মধ্যেই ফোন আসে। আমি আরিফ ভাইকে ফোন করি, আরিফ ভাই আসে। আমিও পাবন+পায়েলকে নিয়ে যাই। আমরা ও বাসায় গিয়ে ব্যাচেলর ফ্লোরে রাশেদকে খুঁজি, সিকিউরিটি আমাদেরকে ৫ তলার কথা বলে। আমরা যাই। ওখানে না পাওয়ার পর বাড়ীর কেয়ারটেকারকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, সে ফ্যামিলি নিয়ে ৪ তলায় থাকে। আমি রাশেদকে ফোন করি, বলি তোমার ফ্ল্যাটের সামনে আমি+পাবন+পায়েল আসছি। রাশেদ বলে, বাসায় যাও। এরপর কতগুলো গুণ্ডা ডাকে। ও দরজা খোলে। আমি ঘরে ঢুকে বলি, বিয়ে ছাড়া একটা মেয়ের সাথে থাকো কিভাবে? রাশেদ গুণ্ডাদের সামনে ও পাবন+পায়েলের সামনে বলে, বিয়ে করে থাকি। রাশেদ গুণ্ডাদের বলে, এদেরকে আমি চিনি না। সবগুলো মদ খাওয়া ছিল। কথায় কথায় হাতাহাতি শুরু করে। আরিফ ভাই পাবন-পায়েল ও আমাকে নিয়ে চলে আসে। আমরা বাসায় এলে রাশেদের বাবা আরিফ ভাইকে বলে, তোমার উচিত হয় নাই পাবন-পায়েলকে নিয়ে যাওয়া। তারা খুব নরমাল বিহেভ করে। রাশেদের বাবার আরেক নাটক শুরু হয়_প্রথম বিয়ের সময় আমাদের জিজ্ঞেস করে নাই তাই দ্বিতীয় বিয়ের সময়ও আমাদের জিজ্ঞেস করে নাই। রাশেদের বাবা এই ঘটনা প্রকাশের পর থেকেই নাটক করছিল_এটা তোমাদের ব্যাপার। স্মৃতি না হয়ে অন্য মেয়ে হলে উনি সমস্যা সমাধান করতে পারত। এটা পারে আব্বাছ মামা সমাধান করতে। রাশেদের মাও তাই করে আসছিল। আমি বলি, ছেলেটা তো আপনাদের। দুইটা বাচ্চার বাপ হয়ে রাশেদ এটা করলো কিভাবে? রাশেদের বাবা শুধু বোঝাতে চাইত, সে আমার আর পাবন+পায়েলের খুব ভালো চায়। অথচ রাশেদ প্রথম বিয়ে অস্বীকার করে ও পাবন+পায়েলকে অস্বীকার করে।

রাশেদ ও রাশেদের ফ্যামিলির মতো এমন মনের মানুষ আমি কেন, পৃথিবীর কেউ দেখবে না। আমি আমার বিবাহিত জীবনে এমন কোনো অন্যায় করি নাই, বরং অন্যায় সহ্য করেছি বাচ্চা দুইটার মুখে তাকিয়ে। ওরা বাচ্চা দুইটার কথা চিন্তা করছে না। রাশেদ উত্তরায় ওর বোন কবিতার বাসার সামনে ফ্ল্যাট কিনেছে। রাশেদের মা+বোন রাশেদের বাসায় আসা-যাওয়া করছে। অথচ রাশেদের বাবা নাটক করছে_স্মৃতি কোনোদিন এই বাসায় ঢুকবে না। আমি রাশেদকে মাফ করবো না। সে পাবন-পায়েলের সাথে যে বেঈমানী করেছে! অথচ রাশেদের সাথে তারও ফোনে কথা হয়। উনি আমাকে জানায়, আমার কাবিননামা উঠিয়ে এনেছি। আমি কিন্তু আমার কাবিননামা দেখিনি। আমি বলি, আমার কাবিন পাবন+পায়েল। ওনার মতো পিশাচ লোক দেখিনি। উনি লেখক, নাট্যকার। উনি মনে করে, ওনার মতো চালাক লোক আর নাই। পাবন+পায়েলও ওনার নাটক বোঝে। বুঝবে সবাই। রাশেদ ও তার ফ্যামিলি বোঝে না জীবন ও নাটক এক না। জীবন তো একটাই। ওদের ধারণা, বেঁচে থাকা মানে ভাত খাওয়া ও কাপড় পরা। (শেষ)

[ad#co-1]