গোলাম আযম নিজামী মুজাহিদ সাঈদী আমাকে মারতে চায়

মৃত্যুর আগে দেয়া হুমায়ুন আজাদের সাক্ষাতকার
গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী ষড়যন্ত্র করে আমাকে মেরে ফেলতে চায়। মৃত্যুর আগে দেয়া এটা এক জবানবন্দী। এই জবানবন্দী দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ। ‘আমার নতুন জন্ম’ নামের নিজের লেখা বইয়ে অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ এই জবানবন্দী দিয়ে গেছেন। সিআইডি অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় শোন এ্যারেস্ট দেখিয়ে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) রিমান্ড শেষ হলেই সিআইডি তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনবে। চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান, রকসালফার পাচার মামলায়ও সিআইডি তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিয়েছে।

আগামী প্রকাশনী থেকে ছাপানো হয়েছে আমার নতুন জন্ম বইটি। সিআইডির তদনত্মকারী অফিসাররা বাইটির একাধিক কপি সংগ্রহ করেছেন। বইয়ের ১৯ পৃষ্ঠা থেকে ২৬ পৃষ্ঠায় অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ তাঁর জীবদ্দশায় মৃত্যুর আশঙ্কা ব্যক্ত করে গেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে আল-বদর, রাজাকার, আল-সামস, মৌলবাদী চক্র ষড়যন্ত্র করে আমাকে মেরে ফেলতে চায়। গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীর নাম উল্লেখ করে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারী অভিহিত করে গেছেন অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ। তিনি ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাস লিখে জামায়াত-শিবির, জঙ্গী চক্রের রোষানলে পড়েন।

পাক সার জমিন সাদ বাদ গ্রন্থে ধর্মের লেবাসধারী মৌলবাদীদের আসল চেহারা প্রকাশ পায়। এছাড়া মৌলবাদীদের রক্তলোলুপ মূল চেহারা প্রকাশ পাওয়ায় বেকায়দায় পড়ে জামায়াতে ইসলামী। এর বিহিত করতে জামায়াতের কেন্দ্র্রীয় কমান্ড জরম্নরী সভাও তলব করে। সেই সভাতেই এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হয়। ওই সভায় জেএমবি, হুজিসহ বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অধ্যাপক আজাদকে মুরতাদ হিসাবে ঘোষণা করা হয়। মুফতি হান্নান বলেছে, মুরতাদের শাসত্মি তাকে কতল করা। স্থায়ী সমাধানের পথ হিসাবে অধ্যাপক আজাদকে হত্যার পরিকল্পনা হয়। সে মোতাবেক কাজ করতে থাকে জঙ্গীরা। প্রাথমিক পর্যায়ে অধ্যাপক আজাদকে মানসিকভাবে ঘায়েল করতে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু তাতে কোন কাজ না হলে সর্বশেষ সিদ্ধানত্ম মোতাবেক জঙ্গীরা হুমায়ুন আজাদকে হত্যার পরিকল্পনা বাসত্মবায়নে মাঠে নামে। দিনৰণ ঠিক করতে থাকে হামলার। সে মোতাবেক ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রম্নয়ারি একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের জিহাদী ভাইয়েরা (জঙ্গীরা) অধ্যাপক আজাদের ওপর হামলা চালায়। গুরম্নতর আহত অবস্থায় অধ্যাপক আজাদকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে সিএমএইচে (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামার্নিতে পাঠানো হয়। ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট জামার্নির মিউনিখেই তিনি মারা যান।

হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় জেএমবির আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য মিজানুর রহমান সানিকে ২০০৫ সালের ১৭ এপ্রিল গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে শাওন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। সিএমএম আদালতের বিচারক শফিক আনোয়ারের আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে শাওন বলেছে, রাজধানীর সবুজবাগের ঝিলপাড়ের বাসায় জেএমবির শূরা কমিটির সভায় হুমায়ুন আজাদকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সভায় ফাঁসিতে মৃতু্য কার্যকর হওয়া শায়খ রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাইসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। হত্যার দায়িত্ব দেয়া হয় জেএমবির সামরিক শাখার কমান্ডার আতাউর রহমান সানিকে। হুমায়ুন আজাদকে হত্যার জন্য আতাউর রহমান সানি, শহীদ, শাওন, আব্দুল আউয়াল ও আরও কয়েকজনকে নিয়ে একটি শক্তিশালী স্কোয়াড গঠন করা হয়। সেই স্কোয়াডটিই অধ্যাপক আজাদকে হত্যা করে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হত্যাকা-ের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি জড়িত। হুমায়ুন আজাদ হত্যা পরিকল্পনাটি জামায়াতের জানা ছিল। তাদের পরিকল্পনায়ই হুমায়ুন আজাদকে হত্যা করে জঙ্গীরা। জামায়াতের চূড়ানত্ম নির্দেশের পরই জঙ্গীরা হামলা চালায় হুমায়ুন আজাদের ওপর। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুখ থেকেই হুমায়ুন আজাদ হত্যার সঙ্গে জামায়াতের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এছাড়া হুজি প্রধান মুফতি হান্নানও গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়ুন আজাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জামায়াতের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। হত্যাকা-ের পর বহু নাটক সাজানোর চেষ্টা হয়েছিল। ২০০৪ সালে এপ্রিলে রাজধানীর বাসাবোর এক জনসভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ডাকা হরতাল সফল করতেই পরিকল্পিতভাবে একজন শিৰকের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সঙ্গে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ জড়িত বলেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন। ওই দিনই মামলার তদনত্মভার চলে যায় সিআইডি পুলিশের কাছে। এর পরদিন থেকেই তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার শুরম্ন হয়। সর্বশেষ ২০০৭ সালের ১৫ নবেম্বর অধ্যাপক আজাদ হত্যাচেষ্টা মামলায় শায়খ আব্দুর রহমান, তার ভাই আতাউর রহমান সানি, আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান মিনহাজ ও নূর মোহাম্মদকে আসামি করে সিআইডির ইন্সপেক্টর কাজী আব্দুল মালেক আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্মকর্তারা হুমায়ুন আজাদ সম্পর্কে সাঈদীর দেয়া বক্তব্য ও জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীদের মিষ্টি বিতরণের দৃশ্য সংবলিত ভিডিও দেখানো হয়েছে নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীকে। ভিডিও দেখে বাকরম্নদ্ধ হয়ে যায় তারা। প্রথাবিরোধী প্রতিথষশা বহুমাত্রিক লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ জঙ্গী হামলায় আহত হয়ে জার্মানিতে মৃতু্যবরণ করার পর বলেছিল গ্রেফতারকৃত জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। অধ্যাপক আজাদ হত্যার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট। হুমায়ুন আজাদ মারা যাওয়ার পর জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীরা মিষ্টি খেয়ে আনন্দ করেছিল। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৬ বছর পর বহুল আলোচিত হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলা নতুন করে গতি পাচ্ছে। সিআইডি অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীকে শোন এ্যারেস্ট দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে।

শংকর কুমার দে ॥

[ad#co-1]

One Response

Write a Comment»
  1. আচ্ছা সবি তো বুঝলাম, কিন্তু আপনার লেখার মধ্যে কনো reference nai keno. without reference…এতগুলা সিদ্ধান্তি বা জানালেন কেমন করে।লিখাটা পড়ে ভালোই লাগল কিন্তু রেফারেন্স ছাড়া মনে হল শুধু মাত্র ঘ্রনার বশবরতি হয়ে লিখেছে…