মাওয়ায় তিন কি.মি. যানজট, চ্যানেল খননে ৩ ড্রেজার

মাওয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি রুটের স্বল্প দূরত্বের মাওয়া-হাজরা-কাওড়াকান্দি ক্রস চ্যানেলটি শুক্রবার বন্ধ হয়ে যাবার পর শনিবার বিপর্যসত্ম হয়ে পড়েছে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি পারাপার। মাওয়া-মাগুরখ–নাওডুবা-হাজরা-কাওড়াকান্দি চ্যানেল দিয়ে বর্তমানে ফেরি চলাচল করায় আগের চেয়ে সময় লাগছে দ্বিগুণ। ফলে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। পারাপারে অধিক সময় লাগায় ঘাটে দেখা দিয়েছে বিশাল যানজট। কয়েক শ’ ট্রাক দক্ষিণবঙ্গে যাবার অপেক্ষায় শনিবার মাওয়া চৌরাস্তা থেকে দোগাছি বাজার পর্যন্ত তিন কি.মি. লাইন দিয়ে মহাসড়কের পূর্বপ্রানত্মে দাঁড়িয়ে ছিল। বিআইডব্লিউটিসি মাওয়া অফিসের এজিএম আশিকুজ্জামান জানান, নতুন চ্যানেলে ফেরিগুলোকে ৫ কি.মি. পথ ঘুরে চলায় আগের থেকে সময় লাগছে এক/সোয়া ঘণ্টা বেশি। ফলে যথাসময়ে ফেরিগুলো ঘাটে পৌঁছতে না পারায় ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। ফেরির ট্রিপ সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন ৯০টি হলে বর্তমানে তা নেমে এসেছে সত্তরটিতে। নদী পথের দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় ফেরিগুলোকে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল পোড়াতে হওয়ায় জ্বালানি খরচ বেড়ে গেছে। আবার ট্রিপ সংখ্যা কমে যাওয়ায় সরকারী রাজস্ব আয়ও কমে গেছে। আর ট্রিপ সংখ্যা কমে যাওয়ায় ঘাটে দেখা দিয়েছে যানজট। যানজটে আটকা পড়ে যাত্রীসাধারণের ভোগানত্মিও বেড়েছে কয়েকগুণ। পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে যানজটে আটকে থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। চাইলেও এসব যানবাহনকে যথাসময়ে পার করা সম্ভব হচ্ছে না। শনিবার দিনের বেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য গাড়িকে পারাপার করা হলেও পণ্যবাহী কয়েক শ’ ট্রাক মাওয়া চৌরাসত্মা থেকে তিন কি.মি. দূরে শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি বাজার পর্যনত্ম লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মাওয়া বিআইডবিস্নউটিসি অফিসের মেরিন অফিসার নতুন চ্যানেলে সার্ভে করে জানিয়েছেন, এ চ্যানেলে ফেরি চলাচলের উপযোগী পর্যাপ্ত পানি থাকলও ৫ কি.মি পথ অতিরিক্ত ঘুরে চলায় ফেরি পারাপারে আগের চেয়ে সময় লাগছে দ্বিগুণ। তাছাড়া পদ্মায় প্রবল স্রোত থাকায় ফেরিগুলোকে অনেকটা সাবধানতার সঙ্গে চলাচল করায় আরও কিছুটা সময় অধিক লাগছে।

বিআইডবিস্নউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মাকশুকুল আলম জানান, শুক্রবার থেকেই বন্ধ হয়ে যাওয়া চ্যানেলটিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের একটি সার্ভে টিম সেখানে জরিপ করে চ্যানেলের অবস্থান নির্ণয় করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনটি ড্রেজার চ্যানেলটি খননের জন্য হাজরার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। সার্ভে রিপোর্ট পাওয়া গেলেই ড্রেজিং করে চ্যানেলটি পুনরায় ফেরি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।

[ad#co-1]