সিরাজদিখানে পাটের ফলন ভাল ।। মজুরি বেশি

সিরাজদিখান ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাট চাষিদের এখন ব্যস্ততার মধ্যে দিন কাটছে । এমনকি চাষিদের পরিবারের নারীদেরও ব্যস্ততার কমতি নেই। কারণ বর্তমান সময়টি পাট কাটা ও উত্তোলনের ভরা মৌসুম। এবার পাটের মূল্যও গতবছরের তুলনায় বেশী। কিন্তু এবছর মজুরের পারিশ্রমিক বেশি হওয়ায় কৃষকেরা লাভ গুণতে পারছেন না ।

এ বছর পাটের ফলন ভাল । তবে রোপন মৌসুমের শুরুতে খরার কারণে কৃষকরা জমিতে সেচ দিয়ে মাটি ভিজিয়ে পাট বপন করেছে । আর যারা জমি না ভিজিয়ে দেরিতে পাট বপন করেছে তাদের ফলন কম হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪/১৫ শ’ টাকা মণ দরে পাট কেনাবেচা হচ্ছে । এবার এক একর জমিতে প্রায় ২০ মণ পাট হয়েছে । অথচ খরচ হয়েছে একর প্রতি প্রায় ২২ হাজার টাকা । এক একর জমিতে মোট ৫০ কর্ম দিবস লাগে । এলাকায় বর্তমানে শ্রমিক দৈনিক মজুরি প্রায় তিনশ’ টাকা। পাটের মূল্যের পাশাপাশি পাটখড়ির চাহিদাও প্রচুর বেড়েছে এবং দামও বেশ চড়া । কারণ পাটখড়ি জ্বালানি ছাড়াও ঘরের বেড়া, চালাসহ নানাবিধ কাজে লাগে ।

এলাকায় পাট বপন, কর্তন ও চাষ পুরুষরা করলেও পাট থেকে খড়ি বের করার কাজটি সাধারণত নারীরাই সম্পন্ন করে থাকে । পাটখড়ি লাভের আশায় চাষি পরিবার ছাড়াও প্রতিবেশি নারীরাও অংশ নিয়ে থাকে । এলাকার নিয়মানুযায়ী যে যত পাটখড়ি ছাড়াতে পারবে তার অর্ধেক খড়ি সে ভাগ পাবে । সিরাজদিখান উপজেলায় সরকারি কোন পাট ক্রয় কেন্দ না থাকায় বাধ্য হয়ে কৃষকদের এলাকার ফড়িয়াদের কাছে তাদের ধার্যকৃত মূল্যে পাট বিক্রয় করতে হয় ।

উপজেলা উপসহকারি উদ্ভিদ সংক্ষরণ কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল হাসান জানান, এবছর উপজেলায় মোট ২২ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে । এর মধ্যে দেশী পাট ৪ শ’ ৮৬ হেক্টর ও তোষা পাট ১ হাজার ৭ শ’ ৪৪ হেক্টর ।

[ad#co-1]