নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের দুরবস্থা চরমে

মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই
বৃষ্টি হলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, সড়ক কাদায় ভরে থাকে
নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের দূরবস্থা এখন চরমে। ব্যস্ততম এ সড়কটিকে এখন সড়ক বললে বোধ হয় ভুল হবে। এখন লোকে বলে চরম ভোগান্তির অপর নাম এই সড়ক। ভাঙ্গাচোরা, খানাখন্দে ভরপুর, উঁচু নিচু বড় বড় গর্তে সড়কটির এখন ত্রাহি দশা। এ সড়কে রিকশাও চলাচল করতেও চায় না। অল্প বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান পানি। দেখলে মনে হবে ছোট খাট কোন খাল। ফতুল্ল­া থানার পঞ্চবটি এলাকা থেকেই মূলত সড়কের দুরবস্থা শুরু। পরে পাগলা, দাপা, আলীগঞ্জ, শ্যামপুর হয়ে পোস্তগোলা পর্যন্ত কোথাও সমতল রাস্তা নেই। সর্বত্র খানাখন্দ।

এমন বেহাল দশার মধ্যেই চলাচল করছে নানা ধরনের যানবাহন। আর এতে করে প্রায়শই ঘটছে ছোট বড় নানা দুর্ঘটনা। পণ্যবাহী অনেক যানবাহন কাত হয়ে রাস্তার ওপর পড়ে যাওয়া এখন নিত্য দিনের ঘটনা। আর যানবাহন বিকল হয়ে যানজটে অভ্যস্ত স্থানীয়রা। এ যানজটে পড়ে জনদুর্ভোগ চরম আকারে রূপ নিলেও সড়কটির সংস্কারে নেই কোন উদ্যোগ। ফলে দিন দিন সড়কটির বেহাল দশা আরো তীব্র আকার ধারণ করছে। ক্রমশ বিক্ষুব্ধে ফুঁসে ওঠছে স্থানীয় জনসাধারণ। যে কোন সময় এখানে বড় ধরনের গণবিস্ফোরণেরও আশঙ্কা রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের লোকজন বেশী যাতায়াত করে থাকে। তাদের দুর্দশার যেন কোন অন্ত নেই। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানা যেন ভাগ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যস্ততম এ সড়কের পাশেই ফতুল্ল­া শিল্পাঞ্চল। রয়েছে বিসিক শিল্পনগরী। এসব এলাকায় ছোট বড় নানা ধরনের অন্তত এক থেকে দেড় হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাগলায় রয়েছে দেশের অন্যতম রড, রি-রোলিং ও ষ্টিল মার্কেট। এছাড়াও রয়েছে ইট, বালু, পাথর, সিমেন্টসহ নানা রকমের পাইকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত ব্যবসায়ী এসব এলাকায় আসছে; কিন্তু প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে এ সড়কের যেন কোন মিল নেই। এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে অনেক ব্যবসায়ীই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে। ফলে শিল্প মালিকরা শিকার হচ্ছে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের। তাদের দাবি, তারা সরকারকে নিয়ম মাফিক কর দিয়ে ব্যবসা করছে; কিন্তু তাদের সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।

জানা গেছে, মুক্তারপুরে ধলেশ্বরী সেতু নির্মাণের পর ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কে যান চলাচলের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। আর মুন্সিগঞ্জ যেতে হলে পাগলার এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করে বেশীরভাগ মানুষ ও যানবাহন। এ সড়কটি এখন আঞ্চলিক মহাসড়কে পরিণত হয়েছে। এছাড়া মুন্সিগঞ্জের মোক্তারপুর এবং নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্প নগরীর কয়েকশত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, সিমেন্ট কারখানা, লবণ, ম্যাচ ও অন্যান্য শিল্প কারখানার চাপ আগে থেকেই রয়েছে এ সড়কের উপর।

বিসিক শিল্প নগরীর বেশ কয়েকজন গার্মেন্ট মালিক জানান, ঢাকা থেকে বিসিক আসতে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট সময় লাগার কথা; কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে লাগে কয়েক ঘন্টা।

স্থানীয় লোকেরা জানান, সড়কটির সবস্থানে রয়েছে অসংখ্য গর্ত। অল্প বৃষ্টি হলেই সেখানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। সড়ক কাদায় ভরে থাকে। ফলে লোকজন হাঁটাচলাও করতে পারে না। স্থানীয় এমপি সারাহ বেগম কবরীর কাছে এলাকাবাসী একাধিকবার বিষয়টি জানালেও কোন কাজ হয়নি। এতে করে জনভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

[ad#co-1]

Comments are closed.