মুন্সীগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধির সাক্ষাৎ

সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত মোসলেম উদ্দিনের শোকাহত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি। জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অন্যদিকে গঠিত তদন্ত কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আরো ৩ দিনের সময় প্রার্থনা করেছে। পুলিশের গুলিতে জেলে নিহত হওয়ার ঘটনায় ৩ হাজার অজ্ঞাত গ্রামবাসীর নামে পুলিশের দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন গ্রামবাসী। পুলিশ নিজেদের বাঁচাতে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, টেঁটা, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কথা অভিযোগে উল্লেখ করে সাজানো মামলাটি করে। ঘটনার সময় ছাত্র ও গ্রামবাসীর হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না দাবি করে গ্রামবাসী জানান, নিরস্ত্র ছাত্র ও গ্রামবাসীর ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি ছুড়েছে।

এদিকে পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি ২৪ ঘণ্টা পার হলেও গতকাল শনিবার প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। তদন্তের কাজ চলছে জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, ২৪ ঘণ্টায় সঠিক প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে না বিধায় আরো ৩ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হয়ে শনিবারও কুচিয়ামোড়ায় গিয়ে শোকাহত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, জেলা প্রশাসক মো. আজিজুল আলম ও পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাসচাপায় স্কুলছাত্র মেহেদী হাসান ও পুলিশের গুলিতে মোসলেম নিহতের ঘটনায় কুচিয়ামোড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ৩ দিনের ঘোষিত শোক কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন শনিবার অতিবাহিত হয়েছে। শনিবারও নিহতের পরিবারে ছিল শোকের মাতম। মোসলেমের ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বাকরুদ্ধ হয়ে দিনযাপন করছেন। বাবা বেঁচে নেই তা বুঝতে পারছে না শিশুসন্তান মেহেদী (৫) ও মারিয়া (৩)। তারা মাঝে মাঝে বাবাকে খুঁজছে। তখনই সান্ত¡না জানাতে না পেরে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্র ও গ্রামবাসীর সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে মোসলেম নিহত হয়।

সাদা পোশাকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উল্লেখ করে এলাকাবাসী আব্দুল হান্নান জানান, এখানকার পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এখানকার পুলিশ দ্রুত সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন। কারণ গুলি করে এমন হত্যাকা-ের পর আবার কীভাবে গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা হলো। এ জন্য তিনি পুলিশ সুপার সফিকুল ইসলামকে দায়ী করে বলেন, তিনিই এসব কলকাঠি নাড়ছেন। এএসপি প্রত্যাহার ও ওসির সাসপেন্ড করার বিষয়ে বলেন, এর পেছেনে যারা এই ঘটনার জন্য ইন্ধন দিয়েছেন সেই পুলিশের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না। গ্রামবাসী ইমতিয়াজ বলেন, সরকারের উচিত উচ্চপর্যায়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া যাতে অন্যত্র গিয়েও এই কাজ করতে না পারে পুলিশ।

[ad#co-1]