অপসারিত হচ্ছেন মেয়র খোকা

অপসারিত হচ্ছেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করার পর অপসারনের বিষয়টি এখন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকা মেয়র খোকাকে সরিয়ে সরকারের পছন্দসই কোনো আমলাকে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

গত ২৯ জুন খোকার বিরুদ্ধে ডিসিসিতে নিয়োগ-দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা করে দুদক। মামলা করায় ডিসিসির প্রশাসক নিয়োগে বড় কোনো বাধা নেই বলে মনে করছেন সরকারের নীতি নির্ধারক মহল। অপসারিত হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আর কখনোই ডিসিসির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না খোকা।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯ এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৩(১)(খ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘মেয়র অথবা কাউন্সিলর তাহার স্বীয় পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দন্ডিত হন।’ (ঘ) উপ-ধারায় বলা হয়েছে,‘যদি তিনি অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।’

এই উপ-ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে-‘অসদাচরণ’ বলিতে ক্ষমতার অপব্যবহার,এই আইন অনুযায়ী বিধি-নিষেধ পরিপন্থী কার্যকলাপ, দুর্নীতি,অসদুপায়ে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ,পক্ষপাতিত্ব,স্বজনপ্রীতি, ইচ্ছাকৃত অপশাসন, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল না করা বা অসত্য তথ্য প্রদান করাকে বোঝাইবে।’

আইনের উপ-ধারা (২)-এ বলা আছে, ‘বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ, সরকারি গেজেটে আদেশ দ্বারা, উপ-ধারা (১) -এ বর্ণিত কারণে মেয়র বা কোন কাউন্সিলরকে অপসারণ করিতে পরিবে।’ উপ-ধারা (৩)-এ বলা হয়েছে, ‘অপসারণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করিবার পূর্বে বিধি মোতাবেক তদন্ত ও অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হইবে।’

উপ-ধারা (৬)-এ বলা হয়েছে,‘এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অপসারিত কোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের কার্যকালের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না।’

সূত্র জানায়, গত ২৯ জুন মেয়রের বিরুদ্ধে ডিসিসিতে নিয়োগ-দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শাহবাগ থানায় দুদক পরিচালক হারুনূর রশীদ এ মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ ডিসিসির ১৩ কর্মকর্তা পরস্পরের যোগসাজশে দুর্নীতির মাধ্যমে ২০০৬ সালে একদিনে ৪৯ জন কর্মচারিকে নিয়োগ দেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে দুদক মামলাটি দায়ের করে।

এরই মধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯ এর এ সংক্রান্ত ধারা ও আইনটির খুঁটিনাটি দিক পরীক্ষা করে দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দুর্নীতির যে অভিযোগ:

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১১ জানুয়ারি কর কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় ডিসিসি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় তিন বছর পর ২০০৬ সালের ১৩ অক্টোবর আবেদনকারীদের লিখিত এবং ১৮ অক্টোবর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষার দিনই নিয়োগের কার্যপত্র তৈরি, নিয়োগপত্র প্রদান, বাছাই কমিটির বৈঠক ও নিয়োগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন দেখানো হয়। হাতে হাতে নিয়োগপত্র নিয়ে মনোনীতরা ওইদিনই চাকরিতে যোগ দেন বলেও রেজিস্টারে দেখানো হয়। রেজিস্টারে ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের পৃষ্ঠায় কোনো ফাঁকা জায়গা না থাকায় আরেকটি রেজিস্টার খোলা হয়। একদিনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ডিসিসির বিভিন্ন শাখায় নিয়োগ আদেশের অনুলিপি পৌঁছায় ২ মাস ৮ দিন পর ২০০৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর।

এদিকে ডিসিসির পদোন্নতিবঞ্চিত উপ-কর কর্মকর্তারা এই গণনিয়োগের পরদিন ১৯ অক্টোবর উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত নিয়োগের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দেন।

নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে আছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার এপিএস আতাহার আলী খান, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও মহানগর বিএনপি নেতা এ টি এম মোস্তফা বাদশার ছেলে মো. সামী ফয়সাল, সূত্রাপুর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা ও ডিসিসির সাবেক ডেপুটি মেয়র শামসুজ্জামান মিন্টুর ছেলে এ এস এম হাসানুজ্জামান, সূত্রাপুর থানা বিএনপির নেতা বাংলাদেশ সিটি ও পৌর কর্মচারী ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি মো. আমানউল্লাহর ছেলে মো. খালেদ সাইফুল্লাহ এবং মহানগর বিএনপি নেতা মজিবুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এরা সবাই নিজ নিজ পদে কর্মরত আছেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের পদস্থ দু’জন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি নিয়ে এ মুহূর্তে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

একজন কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, তারা মামলার সব নথি সংগ্রহ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।

বাংলাদেশের সময় ১৭৩০ ঘন্টা, ২ জুলাই, ২০১০
উবায়দুল্লাহ বাদল
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি

[ad#co-1]