মুন্সীগঞ্জে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত

সংঘর্ষ, মহাসড়ক অবরোধ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের গুলিতে মোসলেম (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর জের ধরে ছাত্র ও স্থানীয় বাসিন্দারা গতকাল ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে মোসলেম নিহত হন। আহত হন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় সাত ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখলে দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

নিহত মোসলেমের বাড়ি কেয়াইন মধ্যচর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. এহসান। তিনি মাছ বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র মেহেদী হাসান (১৪) বুধবার বিকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাসচাপায় নিহত হয়। এর প্রতিবাদে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ওই দিন বিকেলে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়দুজ্জামান ফারুকী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একজন প্রতিনিধি গতিরোধক নির্মাণের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।
কিন্তু গতিরোধক নির্মাণের কাজ শুরু না হওয়ায় ছাত্ররা গতকাল দুপুরে আবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এলাকাবাসীও বিক্ষোভে যোগ দেয়। একপর্যায়ে তারা গাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ছুড়লে মোসলেম ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়দুজ্জামান ফারুকী বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা সিরাজদিখান থানার সেকেন্ড অফিসার মুসফিকুর রহমানকে আটকে রেখেছিল। অবস্থা এমন ছিল যে গুলি না করলে হয়তো তারা পুলিশকেই মেরে ফেলত।’
সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট, ২০ রাউন্ড রাইফেলের গুলি এবং কাঁদানে গ্যাসের ১২টি শেল নিক্ষেপ করে বলে জানান তিনি।

আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উমা কান্ত বলেন, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। আহতদের মধ্যে আদর্শ স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র রনি ও উজ্জ্বল, নবম শ্রেণীর আল আমিন, আলমগীর, ইসরাফিল, দিল মোহাম্মদ, অষ্টম শ্রেণীর সাগর সাহা ও কান্তি রাজবংশী, স্কুলের আয়া জরিনা (৫৫) এবং কলেজ ছাত্র জাহাঙ্গীরকে (১৯) স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এএসপি সায়দুজ্জামান ফারুকী জানান, সিরাজদিখান থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

মোসলেম নিহত হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কের ওপর লাশ রেখে মাইকিং করে লোক জড়ো করতে থাকে। এ সময় তারা দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিক সড়কের ওপর গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানাতে থাকে। পরে জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এ্যামিলি ও সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা জনতাকে বুঝিয়ে মোসলেমের লাশ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাকে দায়ী করে হুইপ বলেন, ‘জামায়াত জোটের দলীয় অনেকে প্রশাসনে থেকে সরকারকে বিব্রত করছে। যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া চলছে, সেই মুহূর্তে এ ঘটনা অনেক কিছুর ইঙ্গিত দেয়।’

তিনি ঘোষণা দেন, নিহত মোসলেমের পরিবারের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করবেন। দোষীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় সেখানে উপস্থিত মোসলেমের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েন।

দুই সংসদ সদস্য ছাত্রদের সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেয়। জেলা প্রশাসক মো. আজিজুল আলম বলেন, ‘এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সবকিছু আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’

কালের কন্ঠ

——————————————————————
মুন্সীগঞ্জে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ : নিহত ১

হতভাগ্য মসলেমউদ্দিনের মায়ের আহাজারি
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন মহিলাসহ আরো দুজন। সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর জেরে উপজেলার কুচিয়ামোড়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে গতিরোধ নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভকারী ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।

পুলিশের গুলিতে নিহত মসলেউদ্দিনের (৩০) বাড়ি সিরাজদিখানের কেয়াইন মধ্যচর গ্রামে। তার বাবার নাম এহসান।

সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে যাত্রীরা পড়ে চরম দুর্ভোগে।
জানা গেছে, দফায় দফায় সংঘর্ষে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এর জবাবে পুলিশ প্রথমে ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১২টি কাঁদানে গ্যাস ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পরে ২০ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছোড়ে। বুধবার বিকালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুচিয়ামোড়ায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মেহেদী নিহত হয়।

মুন্সীগঞ্জ ২-এর সংসদ সদস্য এবং হুইপ সাগুফতা ইয়াসমীন এমিলি এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করেনি। এসপি ও ডিসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকায় র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র মেহেদী হাসানের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্ররা মিছিল বের করে। পরে মিছিলে এলাকাবাসীও যোগ দেয়। কুচিয়ামোড়া চৌরাস্তায় পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করার পর গুলি ছোড়ে। এতে পথচারী মসলেউদ্দিন নিহত হন এবং এক মহিলাসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

গুরুতর আহত স্কুলছাত্র শান্ত রাজবংশী (১৪), রনি (১৫), জাহাঙ্গীর (১২), আলমগীরকে (২০) স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সংঘর্ষে এএসপি সায়ফুজ্জামান ফারুকি, ওসি মিজানুর রাহমানসহ পাঁচ পুলিশ আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এএসপি সায়ফুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস, টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়েছে।

সাগুফতা ইয়াসমীন এমিলি বলেন, এ ঘটনা জামায়াত-শিবিরের ষড়যন্ত্র। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালায়। এর সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক বন্ধ থাকবে।

যায় যায় দিন
————————————————————–

মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষ গুলি যুবক হত, পুলিশসহ আহত ৩৩
বাস চাপায় ছাত্র মারা যাবার জের

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, কুচিয়ামোড়া থেকে ॥ পুলিশের গুলিতে মোসলেম (৩২) নামের এক পথচারী নিহত হয়েছে। ১৬ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে ২৫ ছাত্র-জনতা। আহতদের ঢাকা ও স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে তাদের ৮ সদস্য আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ নিয়ে আহতের সংখ্যা ৩৩।

বুধবার বাসচাপায় স্কুলছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনার পর স্পীডব্রেকার তৈরির সিদ্ধানত্ম হয়। যথাসময়ে তৈরি না করা নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া নামকস্থানে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও রাইফেলের গুলি ছোড়ে। অন্যদিকে ছাত্র-জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং এলোপাতাড়ি গাড়ি ভাংচুর করে। দিকে এর আগেই বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এই মহাসড়কটিতে যান চলাচল আংশিক বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার পর পুরোপুরি মহাসড়ক অচল হয়ে পড়লে বিশাল এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার মানুষ অনিরাপত্তা ও দুর্ভোগে পড়ে। দীর্ঘ সোয়া ৭ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় যান চলাচল শুরম্ন হয় সরকারদলীয় স্থানীয় ২ এমপির প্রচেষ্টায়। তবে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার দাবি অনুযায়ী দায়ী পুলিশের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিক স্পীডব্রেকার তৈরিসহ সকল দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। নিহত মোসলেম স্থানীয় কেয়াইন মধ্যচর গ্রামের মোঃ এহসানের পুত্র। সে মাছ বিক্রি করে বাড়ি ফেরা পথে বুকে পুলিশের গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছে আদর্শ স্কুলের ১০ম শেণীর রনি ও উজ্জ্বল, ৮ম শ্রেণীর সাগর সাহা ও কানত্মি রাজবংশী, ৯ম শ্রেণীর আল আমিন, আলমগীর, ইসরাফিল, দিল মোহাম্মদ ও স্কুলের আয়া জরিনা (৫৫) এবং কলেজছাত্র জাহাঙ্গীর (১৯)। এই তথ্য দিয়ে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রত্যক্ষদশর্ী উমা কানত্ম রায় বলেন, পুলিশ পাগলা কুকুরের মতো ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ওপর লাঠিপেটা ও পরে গুলি চালায়। রাজাকার আলবদরদের চেয়ে পুলিশ জঘন্য কাজ করেছে মনত্মব্য করে এই প্রধান শিক্ষক বলেন, পুলিশের চেয়ে বড় গু-া যে আর নাই, আজ তাই আমার মনে হয়েছে, পুলিশের প্রতি ধারণা আমার পাল্টে গেছে। ছাত্রদের কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পরলেন না? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাচ্চারা বাড়িতে চলে যাবে এই সময় স্পীডব্রেকারের জন্য সামান্য উচ্চবাচ্য করেছে মাত্র, এর পরই হামলে পড়ল পুলিশ। ঘটনাটি বিস্ময়কর। অন্যদিকে ঘটনাস্থলে থাকা এএসপি সায়দুজ্জামান ফারম্নকী জানান, সিরাজদিখান থানার সেকেন্ড অফিসার মুসফিকুর রহমানকে আটকে রাখা হয় এবং অবস্থা এমন ছিল যে গুলি না করলে পুলিশকেই মেরে ফেলত। তিনি জানান, এ ঘটনায় পুলিশ ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট, ২০ রাউন্ড রাইফেলের গুলি এবং ১২ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। কিন্তু পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে পুলিশ ২০ রাউন্ড খরচ করেছে। এ ঘটনায় এএসপি সায়দুজ্জামান ফারম্নকী (৩৬), ওসি মিজানুর রহমান (৪৫), সেকেন্ড অফিসার মুসফিকুর রহমানসহ (৪২) আট পুলিশ আহত হয়েছে বলে এসপি দাবি করেন।

অন্যদিকে প্রত্যক্ষদশর্ী বাবুল মিয়া জানান, পুলিশের আহত হওয়ার ঘটনাটি ঠিক নয়। সামান্য ইটপাটকেল লাগতে পারে মাত্র।

কুচিয়ামোড়ায় যখন ভয়াবহ অবস্থা তখনই ছুটে আসেন সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এমপি। প্রশাসনের লোক যখন এলাকায় ঢুকতে সাহস পায়নি, তখন একা হুইপ ঘটনাস্থলে এসে শোকাহত ও ক্ষুব্ধ মানুষের মাঝে উপস্থিত হন। তখন মহাসড়কের মাঝে মোলমের লাশ রেখে মাইকিং করে লোকজন জড়ো করছিল। তখন তিনি অনেক বুঝিয়ে রাসত্মা থেকে লাশ সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য সিগন্যাল পেয়ে একটি এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ব্যারিকেডের ভেতরে ঢোকেন। পরে তিনি নিজে লাশের খাট কাঁধে নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সে তোলেন এবং লাশ ময়নাতদনত্মের জন্য সরিয়ে নেন।

এ ঘটনার জন্য এই দুই সংসদ সদস্যই পুলিশকে দায়ী করেন। এখানে গুলি করার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি বলেও প্রাথমিকভাবে তাঁরা নিশ্চিত হয়ে বলেন, প্রশাসনে এখনও জামায়াত জোটের দলীয় অনেকে থেকে সরকারকে বিব্রত করছে। যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া চলছে সেই মুহূর্তে এই ঘটনা অনেক কিছুরই ইঙ্গিত দেয় উলেস্নখ করে হুইপ জানান, পুলিশের গুলিতে নিহত মোসলেমের পরিবারের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করার ঘোষণাসহ দায়ীদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধানত্ম হয়েছে। নিহত মোসলেমের অনত্মঃসত্ত্বা স্ত্রী লাশের পাশে এসে কন্যায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ওরা এখনও বুঝে উঠতে পারেনি তাদের প্রিয় বাবা চিরতরে বিদায় নিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুল আলম ঘটনাস্থলে জানান, এ ঘটনা দুঃখজনক। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সব চেষ্টাই চলছে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পুলিশের গুলি করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল কিনা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

প্রত্যক্ষদর্শী হান্নান মিয়া পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, এখানে যা ঘটেছে তার জন্য দায়ী পুলিশ আর জনপথের লোক। সময়মতো স্পীডব্রেকার করে দিলে কিছুই হতো না। আর যখন লোকজন একটু ৰিপ্ত ছিলই তখন পুলিশের এমন নির্মম আচরণ কোনভাবেই সেবকের ভূমিকার পুরো উল্টোটি ছিল। প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, মুন্সীগঞ্জে আসলে পুলিশের চেন অব কমান্ড সঠিক ছিল না। যেখানে সুপার অধিকাংশ সময়ই স্টেশনে থাকেন না, সেখানে এর চেয়ে বড় ঘটনা ঘটতে পারত। তাঁর স্ত্রী ঢাকায় চাকরিরত তাই নানা অজুহাতে তিনি ঢাকায়ই অবস্থান করেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

উলেস্নখ্য, বুধবার বিকেলে কুচিয়ামোড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মেহেদী হাসান (১১) নামের এক স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। সে স্থানীয় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণী ছাত্র। এ সময় বিদ্যালয়টির ছাত্ররা বিকেল সোয়া ৬টা পর্যনত্ম ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। স্পীডব্রেকার তৈরি করার শর্তে ব্যারিকেড উঠিয়ে নেয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার স্পীডব্রেকার তৈরি না করায় ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে উঠে মহাসড়ক অবরোধ করে বেলা সাড়ে ১১টায়। কিন্তু বেলা ১২টার মধ্যেও কাজ শুরম্ন না হওয়ায় ছাত্র-জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। গাড়ি ভাংচুর করে। এসব নিয়েই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।

জনকন্ঠ

——————————————————————-

ছাত্র-জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ, পুলিশের গুলিতে নিহত ১

আরো তথ্যসহ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরো দুইজন। সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর জেরে উপজেলার কুচিয়ামোড়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে গতিরোধ নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভকারী ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় এই ঘটনা ঘটে বলে এলাকাবাসী জানায়।

এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা দুপুর থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এ্যামিলি ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

নিহতের নাম- মোসলেম (৩২)। তিনি ওই এলাকায় কেয়াইন মধ্যচর গ্রামের মো. এহসানের ছেলে।

গুলিবিদ্ধ দুজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশও আহত হয়েছে।

বুধবার বিকালে কুচিয়ামোড়ায় দুর্ঘটনায় স্থানীয় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র মেহেদী হাসান (১১) নিহত হয়। এই ঘটনায় ছাত্ররা দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট সায়দুজ্জামান ফারুকী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) একজন প্রতিনিধি ওই স্থানে গতিরোধক তৈরির আশ্বাস দিলে ছাত্ররা অবরোধ তুলে নেয়।

এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানায়, আশ্বাস অনুযায়ী বৃহস্পতিবার গতিরোধক তৈরি শুরু না করায় ছাত্ররা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবারো সড়ক অবরোধ করে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা গাড়ি ভাংচুর করতে শুরু করে। এতে বাধা দিলে তারা পুলিশের উপর হামলা চালায়।

পুলিশ কর্মকর্তা ফারুকী জানান, ছাত্রদের সঙ্গে যোগ দিয়ে স্থানীয় লোকজনও পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। তারা সিরাজদি খান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুসফিকুর রহমানকে আটকে রাখে। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ এ সময় বাধ্য হয়ে ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট, ২০ রাউন্ড রাইফেলের গুলি এবং ১২ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিনিধি জানান, পুলিশের গুলিতে মোসলেম নিহত হওয়ার পর স্থানীয়রা মহাসড়কের ওপর লাশ রেখে মাইকিং করে লোক জমায়েত করতে থাকে। এ সময় অনেকের হাতে দেশি বিভিন্ন অস্ত্রও দেখা যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট জানান, সংঘর্ষে তিনি, ওসি মিজানুর রহমান (৪৫), এসআই মুসফিকুর রহমানসহ (৪২) পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা থেকে রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) পুলিশসহ আশপাশের এলাকা থেকে পুলিশ সদস্যদের তলব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিকাল সোয়া ৬টা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। রাস্তার উভয় পাশে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।

বিডি নিউজ 24 = ০১-০৭-২০১০

[ad#co-1]