মধুমতী : মূল্যায়নের ভূমিকা

আহমাদ মাযহার
১. …পুরুষতান্ত্রিক বিধিবিধানের পীড়ন ও নারীকে বন্দি রাখার পুরুষতান্ত্রিক কৌশলগুলো সম্পর্কে সজ্ঞান যে নারী লেখক, তিনি রাবেয়া খাতুন। তিনি স্তাবক নন; তিনি প্রতিবাদী ক্ষুব্ধ। শেকলের স্তব করেন না তিনি, শেকল তাঁকে পীড়িত করে, তিনি শেকল ভাঙার উপায় অন্বেষণ করেন নিঃশব্দে।
[পৃ. ১৯৪, বিবি থেকে বেগম, আকিমুন রহমান, পরিবর্ধিত সংস্করণ, ফেব্রুয়ারি ২০০৫, অঙ্কুর প্রকাশনী, ঢাকা]

২. রাবেয়া খাতুন নারী-বিপন্ন এক মানুষ, যাঁর শত্রু অনেক। তাঁর সহায় ও সম্বল নেই; কিন্তু আছে শক্ত শেকল। একই সঙ্গে তাঁর জীবনে আছে শেকলমুক্ত হওয়ার চেষ্টা। ওই চেষ্টার সময় তাঁর পাশে দাঁড়ান তাঁর মতোই নিঃসম্বল নারী। আমাদের নারী লেখকদের মধ্যে রাবেয়া খাতুনই নারীর অনড় মিত্র; যিনি রচনা করেন নারীর স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার বৃত্তান্ত, নির্দেশ করেন নারীমুক্তির পথ এবং তুলে ধরেন পুরুষের ইতরতা ও অনৈতিকতার পরিচয়। তাঁর রচনায় আছে পুরুষের প্রতি ঘৃণা। তিনি কখনো বিস্মৃত হননি যে ওই ইতররাই নারীর জীবনকে নারকীয় করে তোলে। তবে তিনি এ-ও বিশ্বাস করেন, নারীর বড় মিত্র হতে পারে পুরুষ। তবে সে পুরুষের সংখ্যা নগণ্য।
[পৃ. ১৯৪, বিবি থেকে বেগম, আকিমুন রহমান, পরিবর্ধিত সংস্করণ, ফেব্রুয়ারি ২০০৫, অঙ্কুর প্রকাশনী, ঢাকা]
শৈল্পিক প্রকাশমাধ্যম হিসেবে উপন্যাসের উদ্ভব শিল্প বিপ্লবের প্রতিক্রিয়াজাত বুর্জোয়া সমাজে। সাধারণ্যে মাধ্যম হিসেবে উপন্যাসের প্রধান লক্ষণ এর আখ্যানময়তা। আখ্যানের উদ্ভব সুদূর অতীতে। সে সময় আখ্যানের আধারে ব্যাপ্ত হয়েছে মহাকাব্য। মহাকাব্যের লক্ষ্য ব্যক্তির অতিমানবীয় মহিমাকীর্তন। কিন্তু উপন্যাসে উপজীব্য হয়েছে সংকটাপন্ন ব্যক্তিকে সমাজ পটভূমিতে স্থাপন করে তার স্থান নিরূপণ করা। উপন্যাসে চিত্রিত ব্যক্তি মহিমান্বিত হয় তার সামাজিক, মনস্তাত্তি্বক নানা কৌণিক দ্বন্দ্বসংকুল অবস্থায়। এই অর্থে বাংলাদেশের সাহিত্যে ষাটের দশক পর্যন্ত সফল উপন্যাসের সংখ্যা ছিল নগণ্য। রাবেয়া খাতুন (১৯৩৫) তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য উপন্যাস মধুমতী রচনা করেছিলেন সে রকম একটা সময়ে। মধুমতী কেবল রাবেয়া খাতুনের প্রথম উল্লেখযোগ্য উপন্যাসই নয়, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের সাহিত্যের পটভূমিতে নানা কারণে বিশিষ্ট একটি উপন্যাস। শওকত ওসমান (১৯১৭), সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৯২২-৭১), সরদার জয়েনউদ্দীন (১৯২৩-৮৬), আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩), শামসুদ্দীন আবুল কালাম (১৯২৬-১৯৯৭), আবু রুশদ (১৯১৯-২০১০) প্রমুখ অগ্রজ ঔপন্যাসিকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসের পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে রাবেয়া খাতুনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস। বিষয়বস্তুগত সামাজিক গুরুত্বের কারণে পূর্বোক্ত লেখকদের উপন্যাসের আলোচনা বেশি প্রাসঙ্গিক হওয়ায় সম্ভবত যথাযথ বিচার পায়নি তাঁর এ উপন্যাস। বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারে তিনি সম্মানিত হলেও তাঁর সাহিত্যকর্মাদি সমনোযোগ সমালোচনা পায়নি বলে বাংলাদেশের উপন্যাস-সাহিত্যে তাঁর যথার্থ স্থান এখনো নিরূপিত হয়নি। অথচ যে সময় এটি প্রকাশিত হয়েছিল, তখনকার পরিপ্রেক্ষিতে দৃষ্টিভঙ্গি ও বিষয়বস্তুগত দিক থেকে মধুমতী উপন্যাসে এমন স্বাতন্ত্র্য আছে, যা বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে।

বাংলার মুসলমান সমাজে নারীর সংকট নিয়ে লেখা পূর্বসূরি ঔপন্যাসিক রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের উপন্যাস পদ্মরাগ (১৯২৪)-এর কথা উল্লেখ করা যায়। তবে রাবেয়া খাতুনের উপন্যাসে নারীকে ব্যক্তিসত্তায় যতটা ভাস্বর দেখা যায়, রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের নারীকে ততটা যায় না, পদ্মরাগ সমাজমানস যতটা বাঙ্ময় ব্যক্তি ততটা নয়। তাঁর সমসাময়িক আর এক উল্লেখযোগ্য নারী-ঔপন্যাসিক রাজিয়া খানের (১৯৩৬) মনোবিকলনধর্মী উপন্যাস অনুকল্প (১৯৫৯) ও বটতলার উপন্যাস (১৯৫৯) বিখ্যাত হলেও তা আধুনিক নগরমনস্কতা ও একান্তভাবে ব্যক্তিক মনস্তাত্তি্বক সংকট নিয়ে রচিত, এর মধ্যে নারীত্বের বিপর্যয় প্রধান হয়ে দেখা দেয়নি। নারীত্বের প্রেক্ষণবিন্দু থেকেই কেবল নয়, প্রকৃতিগত দিক থেকে যে ধরনের মনস্তাত্তি্বক সংকট নারী-পুরুষ নির্বিশেষের ব্যাপার, তা নিয়ে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাস দুটি। শুধু তাই নয়, রাজিয়া খানের উপন্যাসে মূর্তিমান নারীরা প্রধানত পুরুষানুকূল। এ ক্ষেত্রে মধুমতী উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রটি ব্যতিক্রম। কিন্তু এ উপন্যাসের পটভূমি গ্রাম হলেও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত প্রশ্নসংকুল এক নগরবাসী নারীর প্রেক্ষণবিন্দু থেকে তা রচিত। মিনারা নামের যে নারীকে নিয়ে উপন্যাসটির আখ্যান আবর্তিত, সে মূলত নগরচেতনার প্রতিনিধি হলেও নগরচেতনার সঙ্গে গ্রামচেতনার টানাপড়েনকেও অনুভব করে। শুধু তাই নয়, গ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যনির্ভর আধুনিক এক জীবনচেতনাকেও সে ধারণ করে। এ ব্যাপারে সক্রিয় হতে গিয়েই শুরু তার ব্যক্তিক সংকটের। এ সংকটের স্বরূপেই এর ঔপন্যাসিকতার বীজ নিহিত। অন্তত এই একটি প্রসঙ্গ নিয়ে অর্থাৎ গ্রামজীবন পটভূমিকায় নারীর নাগরিক মানসের সংকট নিয়ে যে মধুমতীর আগে কোনো উপন্যাস রচিত হয়নি, এ কথা তো জোরের সঙ্গেই উল্লেখ করা যায়! অন্তত মধুমতী উপন্যাসের আলোকে বলতে হবে যে সমাজের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে এর লেখক সজাগ, পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিপ্লবী ভূমিকায় অবতীর্ণ না হলেও এর প্রতি তিনি বিদ্রোহী ও ক্ষুব্ধ।

বিএ পাস মাতৃপিতৃহীন মিনারা গ্রামে মামার বাড়িতে বেড়াতে গেলে সেখানেই ঘটতে শুরু করে উপন্যাসের ঘটনাবলি। মধুমতী নদী তীরবর্তী ক্ষয়িষ্ণু জোলা সম্প্রদায়ের অতীত ও বর্তমানের ইতিহাস, জীবনযাত্রা ও সমাজে জেগে ওঠা পরিবর্তমান জীবনদৃষ্টিকে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে এর কাহিনী। এদিক থেকে একে যদি সামাজিক উপন্যাসের অভিধা দেওয়া হয়, তাহলে হয়তো ভুল বলা হবে না।

মিনারা চরিত্রটির স্মৃতিচারণে এবং অতীত অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমানের অভিজ্ঞতার সংশ্লেষণে তিনি যে সমাজের রূপরেখা তুলে ধরেছেন, তার জন্য প্রয়োজন গভীর অন্তর্দৃষ্টি। অতীত ও বর্তমানের দৃষ্টিভঙ্গির সংশ্লেষে মিনারা অনুভব করেছে তার মামাবাড়ির জীবনযাত্রার পরিবর্তনকে। একই সঙ্গে অনুভব করেছে তার নিজের বদলে যাওয়া মনকেও। তার নগরমানসের সংস্পর্শিত মন শিখেছে জীবনকে নতুনভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখতে। ফলে তার মধ্যে জন্ম নিয়েছে সংস্কারকের মন। এর সঙ্গে খানিকটা রোমান্টিক আবেগ যুক্ত হয়ে উপন্যাসটিকে কিছুটা ভাবালু করে তুললেও নারী হিসেবে ব্যক্তিক সংকটকেও তুলেছে মূর্ত করে। উপন্যাস যে এক অর্থে সত্যিকারের সমাজ-মনস্তত্ত্বেরও দর্পণ তার পরিচয়ও মধুমতী উপন্যাসে রয়েছে।

রাবেয়া খাতুন যখন মধুমতী রচনা করছেন, তখন বাংলাদেশের সাহিত্যে নারীবাদী চেতনার ছিটেফোঁটাও লাগেনি। শুধু তাই নয়, সমাজে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা নারীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হলেও এ সচেতনতার বোধ তখন পর্যন্ত শিক্ষিত নারীর মধ্যেও জেগে ওঠেনি। সে রকম একটা সময়ে রাবেয়া খাতুন নারীজীবনকে তাঁর নিজস্ব জীবনদৃষ্টির আলোকে, তাঁর নিজের ভাষায় মূর্ত করেছেন। নিজের সত্যিকারের বঞ্চনাকে, নিজের অসহায়ত্বকে অনুভব করে তাকে ভাষা দিয়েছেন। তিনি এই উপন্যাসের একটি চরিত্র গ্রামবাসী চন্দ্রবানের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছিলেন_

[…] কোথায় যেন শয়তান স্বামীর শখ জেগেছে নতুন বিয়ের। মিথ্যে অভিযোগের অজুহাতে সমাজের কাছে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে সে তার স্ত্রীকে। সমাজপতিদের নির্দেশনানুযায়ী এখন সে তীর ছুড়বে তার অভিযুক্ত স্ত্রীকে লক্ষ্য করে। স্ত্রীর মুখের কথা, চোখের পানি ব্যর্থ ওখানে। অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে তাকে লড়তে হবে ওই তীরের বিরুদ্ধে।
একসময়ের জগৎ তার সামাজিক আর ধর্মীয় নিয়মের মধ্যে এ শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছিল। কিন্তু আজকের পৃথিবীতে তার চেয়েও কঠোর লাঞ্ছনা হয়ে ধর্মীয় আভিশাপ নেমে এসেছে মানুষের জীবনে। এ শাস্তির আয়োজন কার জন্য? নিরপরাধ চন্দ্রবানের, না খেয়ালি পেয়ার আলীর?

[পৃ. ৬৫, ‘মধুমতী’, দশটি উপন্যাস, রাবেয়া খাতুন, অনন্যা, ঢাকা ২০০৫]

এখানে উপন্যাসকার নারী হিসেবে চন্দ্রবানের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার শিকার হওয়াকে বুঝিয়েছেন। তবে তা স্লোগানের মতো বাইরের বিষয় হিসেবে আসেনি, এসেছে নারীর অন্তর্বেদনার ভাষা হয়ে। নারী হিসেবে গ্রামের মেয়ে একসময়ের রূপসী চন্দ্রবান, স্বল্পশিক্ষিতা কাজলী কী রকম পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কুসংস্কারের শিকার, তার পরিচয় এখানে অন্তরঙ্গভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তা সত্ত্বেও আকিমুন রহমানের উপর্যুক্ত গ্রন্থে উল্লেখের ব্যতিক্রম বাদে নারীবাদী আলোচনায় এ উপন্যাসের কথা উলি্লখিত হতে দেখি না।

এ তো গেল মধুমতী উপন্যাস সম্পর্কে নারীবাদী দৃষ্টিকোণ প্রসঙ্গ। এর বাইরেও ভাববার বিষয় আছে এ উপন্যাসের স্বাতন্ত্র্য নিয়ে। তখনকার ঢাকার অন্তর্গত বিক্রমপুর বা মুন্সীগঞ্জ এলাকায় ছিল তাঁতশিল্পের প্রসার। মধুমতী তীরবর্তী গ্রামের তাঁতশিল্প যখন ক্ষয়িষ্ণু, সে রকম একটা সময়ের আখ্যান রাবেয়া খাতুনের মধুমতী। মধুমতীর পটভূমি চির অবহেলিত তাঁতি সম্প্রদায়। একসময় যাদের পূর্বপুরুষের শিল্পকর্মের গৌরবঘ্রাণ ছিল সুদূর ইউরোপ পর্যন্ত প্রসারিত। কালে কালে সামাজিক, মানসিক, অর্থনৈতিক অবস্থানের কোন সীমানায় তারা পেঁৗছেছিল, উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মিনারার মামির সংলাপ থেকে তা বোঝা যায়। তাদের পূর্বপুরুষ যে তাঁতি ছিল সে কথা তারা ভুলতে পারলে বাঁচে। কারণ তাঁতি পরিবারের সন্তান সে, এ পরিচয় তাদের জন্য সম্মানহানিকর। বলা হয়, ইসলাম ধর্মে জাতিভেদ নেই; কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় তার উল্টো। কারিগরদের স্থান সমাজে অপাঙ্ক্তেয়। সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন সম্ভ্রান্তরা শহরে তাঁতের বিশাল ব্যবসা চালিয়ে কিনে নিচ্ছে শিল্পপতির সুনাম, যা নিয়ে গৌরব করার কথা তা সম্মানহানিকর_এ খবর মিনারাকে ব্যথিত করে। সে চায় গ্রামবাসীর মধ্যে গৌরব বোধকে জাগিয়ে তুলতে। এই চাওয়াকে উপন্যাসের কাহিনীতে দেখাতে গিয়ে রাবেয়া খাতুন হাজির করেন আর এক আদর্শবাদী তরুণকে। কাহিনীতে প্রাধান্য লাভ করে রোমান্টিকতা আর অবিকশিত নগরবোধ; এই বোধে উজ্জীবিত তাদের মনে জাত নিয়ে সংকোচকে অনুচিত বলে তো মনে হয়ই, সেই সঙ্গে তাদের মধ্যে জেগে ওঠে ঐতিহ্যবাহী গর্ববোধ! নগরচেতনার স্পর্শ না পাওয়া গ্রামে আধুনিকতাকে হাজির করতে গেলে তো লেখকের রোমান্টিক না হয়ে উপায় নেই! এ রোমান্টিকতা উপন্যাসটিকে ভাবালুতায় দুষ্ট করলেও এর ফলে তা হয়ে উঠেছে সামাজিক বাস্তবতার অনেক কাছাকাছি।

মনে রাখতে হবে, পঞ্চাশের দশকে যখন এটি রচিত হচ্ছে তখন বাংলাদেশের উপন্যাসের জগতের প্রেক্ষণবিন্দুতে প্রধান ছিল সমাজবাস্তবতার বোধ! তাঁতিদের জীবনধারার পাশাপাশি বয়ে চলা মধুমতীর মতোই বয়ে চলা তাদের সংস্কৃতিকেও সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে দেখা গেছে এ উপন্যাসে। মধুমতীর বয়ে চলার সঙ্গে সমাজ ও ব্যক্তির এ যুগপৎ বয়ে চলার প্রতীকী উপস্থাপনা উপন্যাসটিকে করে তুলেছে শৈল্পিক সামর্থ্যে উত্তীর্ণ। লেখকের ভাষারীতিতে আঞ্চলিক আবহ ফুটে উঠেছে। আঞ্চলিক আবহে এর সামগ্রিক রূপ হয়ে উঠেছে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। লোকসংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গে এর ভাষা প্রাণবন্ত ও সজীব। কিন্তু তাই বলে একে হয়তো পুরোপুরি আঞ্চলিক উপন্যাস বলা যাবে না। সর্বোপরি এ উপন্যাসের ঐতিহাসিক মূল্যের কথাও আমাদের মনে রাখতে হবে গুরুত্বের সঙ্গে। এসব দিক বিবেচনায় মধুমতী উপন্যাসের সার্বিক মূল্যায়ন এখনো জরুরি বলেই মনে হয়; কারণ সমালোচকের অভিনিবিষ্ট পাঠে উন্মোচিত হতে পারে এর আরো নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক।

[ad#co-1]