সরকারি হরগঙ্গা কলেজে ৩ ছাত্রলীগ নেতা ছুরিকাহত

প্রতিবাদে বাড়ি-গাড়ি ও দোকান ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ কর্মীরা
কাজী দীপু, মুন্সীগঞ্জ থেকে: মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ ক্যাম্পাসে গতকাল রোববার বিএনপি কর্মীদের হাতে কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান, রনি ও মাঈনউদ্দিন ছুরিকাহত হওয়ার জের ধরে উত্তেজিত ছাত্রলীগ কর্মীরা শহরের খালইস্ট ও পুলিশ সুপারের বাসভবনের কাছে মাঠপাড়া এলাকায় হামলা চালিয়ে প্রায় ১২টি বাড়িঘর, ৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ১২টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এতে মহিলা ও শিশুসহ ছাত্রলীগ এবং বিএনপির ২০ জন আহত হয়েছে। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক মো. আজিজুল আলম ও পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ছুরিকাহত ৩ ছাত্রলীগ নেতার চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন। এদিকে ৩ ছাত্রলীগ নেতা ছুরিকাহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপি কর্মীদের নামে ও ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নামে পৃথক মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান সদর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম। অপরদিকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছুরিকাহত করার জড়িত বিএনপি কর্মী সাঈদকে না পেয়ে পুলিশ তার পিতা হাজী মো. আওলাদ হোসেনকে আটক করে। তবে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হরগঙ্গা কলেজ ক্যাম্পাসে বিএনপি কর্মী সাঈদ ও শিপলুসহ ৭ জনের একটি দল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রবীর কুমার গাঙ্গুলী জানান, ছাত্রলীগ নেতাদের ছুরিকাহত করার ঘটনার পরই জরুরি সভা করে ক্যাম্পাস পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আমাদের সময়
—————————————————
মুন্সীগঞ্জে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষে শিশুসহ আহত ২০

পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নামধারী দুগ্রুপের ক্যাডার বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে সরকারি হরগঙ্গা কলেজ ক্যাম্পাস। পরে ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রতিশোধের আগুনে পুলিশের উপস্থিতিতে শহরের খালইস্ট ও মাঠপাড়া এলাকায় চলে ভাঙচুর তা-ব। বেলা ১২টায় হরগঙ্গা কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের দুগ্রুপের সংঘর্ষ ও শহরের দুটি মহল্লায় ভাঙচুরকালে ২ মাসের শিশুসহ ২০ জন আহত হয়েছে। ছাত্রলীগের পরিচয়ে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ২০-২২ জনের একটি লাঠিয়াল গ্রুপ ছাত্রদলকর্মীর যৌথ মালিকানাধীন রেন্ট-এ কারের ১০টি গাড়ি, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলরের নোয়াহ গাড়ি, আইনজীবী সমিতির সভাপতির চেম্বারসহ ১০টি বাসভবন ও ১২টি দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মালেকুন মাকসুদ বিপুলের বোনের বাসভবনেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

ছাত্রদল কর্মী সাইদ ও ছাত্রলীগ নেতা মেহেদীর মধ্যে রোববার পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিত-া থেকে এক পর্যায়ে ক্যাডার বাহিনী বেলা ১২টায় হরগঙ্গা কলেজে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধারালো ছোড়া ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে দুগ্রুপের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হলে সরকারি হরগঙ্গা কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতিসহ ১২ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সহসভাপতি মেহেদী হাসান রনি (১৯), মো. মাইনুদ্দিন (২০), মো. মেহেদীকে (২০) মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া আহত ছাত্রলীগ কর্মী হাসান (১৭), সুরুজ (২১), রাসেল (২০), শাহরিয়ার (১৯), রিয়েল (২৩) ও ছাত্রদল কর্মী সাইদসহ বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সংঘর্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রক্তাক্ত জখম হওয়ায় দুপুর ১টায় প্রতিশোধের আগুনে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সরকারি হরগঙ্গা কলেজ ছাত্রাবাসের সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের অর্ধশতাধিক কর্মী বাহিনী। লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা সদর থানা পুলিশকে সঙ্গে করে শহরের খালইস্ট এলাকা আক্রমণ করে। সেবা রেন্ট-এ কারের ছাত্রদল কর্মী সাইদের ও তার ব্যবসায়ী পার্টনারদের ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এরপর ওই এলাকায় অবস্থিত জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী আফছার হোসেন নিমুর চেম্বারের ভেতর ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়। শহরের বাজার মোড়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর মো. কামালের নোয়াহ গাড়ি ও বিএনপি-সমর্থিতদের ১০টি বাসভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে তছনছ করা হয়। পুলিশের একটি টিম ছাত্রলীগ বাহিনীর পেছন পেছন থাকলে নিরাপদে ওই ভাঙচুর তা-ব চালানোর দাবি করেছেন বিএনপি-সমর্থিতরা। পরে শহরের মাঠপাড়া এলাকার শরিফ প্লাজার দোকানপাট ও শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মালেকুন মাকসুদ বিপুলের বোনের বাসভবনে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ২ মাসের শিশু ও এক মহিলাসহ আরো ৮ জন আহত হয়েছে। আহত শিশু মাঠপাড়া এলাকার কম্পিউটার ব্যবসায়ী রুশোর ছেলে। তাকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

ডেসটিনি

[ad#co-1]