রাশেদুল ও স্মৃতি ৭ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর জুরাইনে মা ফারজানা কবির রিতা ও তার দুই সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রিতার স্বামী রাশেদুল কবির ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা স্মৃতিকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি সাউথ মনিরুল ইসলাম জানান, গতকাল সকালে তাঁদেরকে গুলশান-১ নম্বর থেকে গ্রেফতার করা হয়। দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার এড়াতে স্মৃতি বোরকা পরে চলাফেরা করতেন। পলাতক জীবনে তিনি রাশেদুল কবিরের সঙ্গেই ছিলেন।

জানা গেছে, ডিবির সিনিয়র সহকারি পুলিশ কমিশনার মোকলেছুর রহমান শুক্রবার রাত নয়টার পর থেকে গুলশান এলাকার একটি বাড়ি ঘেরাও করেন। ওই বাড়িতেই লুকিয়ে ছিলেন রাশেদুল ও স্মৃতি। গতকাল সকালে স্মৃতি ও রাশেদুল ওই বাসা থেকে বের হলে ১১টার দিকে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদেরকে আনা হয় মিন্টো রোড গোয়েন্দা কার্যালয়ে। এরপরই দুইজনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত ১১ জুন সকালে ফারজানা কবির রিতা ও তার দুই সন্তানের লাশ উদ্ধারের পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন স্মৃতি ও রাশেদুল। এরপরই আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে রাশেদুল, স্মৃতি, সাংবাদিক শফিকুল কবির, তার স্ত্রী নূর বানু, দুই ননদ সুখন কবির ও কবিতা কবির এবং এক ননদের স্বামী দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীসহ আটজনের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করে রিতার পরিবার। ওই মামলায় শফিকুল কবির, তার স্ত্রী, দুই মেয়ে, মেয়ের স্বামী, রিতার গাড়ি চালক আল আমীনসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। গ্রেফতারের পর এরই মধ্যে চালক আল আমীন ও সাংবাদিক শফিকুল কবিরের পরিবারের পাঁচজনকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গতকাল আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে শুক্রবার গাড়িচালক আল আমীনকে ফের চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

ডিসি ডিবি মরিুল ইসলাম বলেন, রাশেদুল ও স্মৃতিকে সাংবাদিক শফিকুল কবির ও তার স্ত্রী, মেয়েদের সামনে এনে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল ফের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি বলেছেন, এখনও ভিসেরা ও হাতের লেখার পরীক্ষার রিপোর্ট পুলিশের হাতে আসেনি। তারপরও এ পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য প্রমাণ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বলেন, ঘটনাটি হত্যা নয়, আত্মহত্যা। প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রনায় রীতা তার দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন গাড়িচালক আল আমীন। কিন্তু আল আমীন গাড়ির লোভে তাদেরকে বাঁচানোর কোন চেষ্টাই করেনি।

[ad#co-1]