শ্বশুর-শাশুড়ি ফেঁসে যাচ্ছেন

রাজধানীর জুরাইনে বহুল আলোচিত ফারজানা কবির রিতা ও তার দুই সন্তানের আত্মহনন মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি শফিকুল কবির ও তার পরিবারের বেশ কয়েক সদস্য। শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর প্ররোচনায় মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমের ওষুধ খেয়ে দুই সন্তানসহ রিতা আত্মহত্যা করে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে। মামলার অভিযোগপত্রে রিতার শ্বশুর শফিকুল কবির, শাশুড়ি নূর বানু, স্বামী রাশেদুল কবির ও দ্বিতীয় স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা স্মৃতিকে অভিযুক্ত করা হবে বলে তদন্ত সংস্থা ডিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রাশেদুল কবিরকে ধরতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্মৃতি পুলিশের নজরদারির মধ্যেই রয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

এদিকে শফিকুল কবির, তার স্ত্রী নূর বানু, দুই মেয়ে সুখন কবির ও কবিতা কবির, জামাতা দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর রিমান্ডের তিন দিনের মেয়াদ গতকাল শেষ হয়েছে। আজ শনিবার আরও সাতদিন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে সবাইকে আদালতে পাঠানো হবে। প্রথম দফায় পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে গতকাল শুক্রবার আরও চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে রিতার গাড়িচালক আল আমিনকে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-কমিশনার মোঃ মনিরুল ইসলাম সমকালকে জানান, আলোচিত এ মামলার তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। রিতা ও তার দুই সন্তানের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনজনের আত্মহত্যার পেছনে শফিকুল কবির, নূর বানু, সুখন কবির, রাশেদুল কবির, তার দ্বিতীয় স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা স্মৃতির প্ররোচনা ছিল।

ডিবি সূত্র জানায়, রিতা ও তার দুই সন্তানের ভিসেরা রিপোর্ট স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষাগার থেকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হলেও গতকাল পর্যন্ত মামলার তদন্ত সংস্থা ডিবির হাতে পেঁৗছায়নি। তবে ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ভিসেরা রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসকরা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণসহ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তৈরি করে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। ঘরের দেয়াল লিখন সম্পর্কে হস্তলিপি বিশারদদের মতামত এখনও মামলার তদন্ত কর্মকর্তার হাতে আসেনি।

তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর শেখ মাহবুবুর রহমান বলেন, মামলার অভিযোগপত্র আদালতে প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই মামলার অভিযোগপত্র লেখার কাজ শুরু করা হবে।

[ad#co-1]