‘বাংলাদেশের জনগণ এখন দুই শিবিরে বিভক্ত’

সাদেক হোসেন খোকা
বিশ্বকাপ ফুটবল। বিশ্বের প্রতিযোগিতাপূর্ণ খেলা। বাংলাদেশে এ খেলাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ বছর এ উন্মাদনা একটু বেশি। সারাদেশের মানুষ সমস্ত বিভেদ ভুলে সেরা দলগুলোর সঙ্গে শামিল হয়েছে। আমি নিজেও ফুটবল খেলা দেখি। শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশের নাম নেই। ভবিষ্যতে থাকবে কিনা জানি না। তবে প্রত্যাশা করি একদিন বাংলাদেশের ফুটবল সেই পর্যায়ে পৌঁছবে। আমাদেরও ক্রীড়াক্ষেত্রে সম্ভাবনা আছে। নামি খেলোয়াড় আছে। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এমন দিন আসবে যখন বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। নিজের বা প্রতিবেশী দেশ যখন বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে যোজন যোজন দূরে তখন ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার খেলাকে ঘিরে আমার প্রত্যাশাটা একটু অন্য রকম। প্রাথমিক পর্যায়ে আমি চাইব এশিয়ার দেশের দলগুলো ভালো করুক। এদিক থেকে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়ার দলগুলোর কাছে আমার চাওয়াটা একটু বেশি। শিরোপার লড়াইয়ে তাদের জয়ের পথটা আরেকটা কমুক। যাতে আগামীতে তারা আরো ভালো করতে পারে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, পর্যাপ্ত অনুশীলন, উন্নত প্রশিক্ষণ আর তারকা খেলোয়াড় তৈরি করতে পারলে ঐ তিনটি দল অনেক ভালো করবে। ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রথম রাউন্ডের খেলায় উত্তর কোরিয়া ২-১ গোলে পরাজিত হলেও কোরিয়ানরা নিজেদের সামর্থ্যরে পরীক্ষায় অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এবারের বিশ্বকাপে ঐ দল তিনটি প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করে খেললেই দর্শকদের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হবে। আমার তো মনে হয় বিশ্বকাপের দলগুলোর জন্য দর্শক সমর্থন অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর। দলকে দর্শকনন্দিত করতে দলে খুব বেশি তারকা খেলোয়াড় থাকার প্রয়োজন পড়ে না। পেলে-ম্যারাডোনা আর বর্তমানের কাকা মেসির পায়ে ভর করেই তো বাংলাদেশের আপামর জনগণের মনে স্থান করে নিয়েছে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা দল। তারাই এখনো দলের দর্শকপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন শক্ত হাতে।

দর্শক হিসেবে আমি একটু আলাদা। আমার নিজের পছন্দের দল বলে এখন পর্যন্ত কিছু নেই। আমি প্রতি বিশ্বকাপের সময়ই সেরা দলগুলো খেলা দেখেই সমর্থন দেবার কথা চিন্তা করি। আমি চাই আমার পছন্দের দলটিকে যেন সঠিকভাবে নির্বাচন করতে পারি। কোনো দলের নাম বা তারকার প্রতি ভালোবাসা থেকে নয়, আমি বিশ্বকাপ খেলার মান ও ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই কোনো একটি দলকে পছন্দ করতে চাই।

দক্ষিণ আফ্রিকায় আলোচিত খেলায় দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা দল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা। স্পেন, জার্মানি, ইতালি, ইংল্যান্ডকে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা বেড়েছিল। কিন্তু দলগুলো খুব বেশি বা আশানুরূপ ভালো খেলা খেলতে পারছে না। কাজেই এবার ফাইনালে পছন্দের দল নির্বাচন করাটা কঠিন হবে। জার্মানি, আর্জেন্টিনা খুব ভালো দল। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানিকে আর্জেন্টিনার মতো শক্ত দলের সঙ্গে খেলতে হবে। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে জার্মানিকে নিয়ে আমার সংশয় আছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন আর ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোই ভালো কিছু পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। শেষ পর্যন্ত খেলায় কোন দল জিতবে এমন প্রশ্ন চারপাশেই ভাসছে। কিন্তু পাওয়া কঠিন। কারণ সেরা দলগুলোকে আগে থেকে বোঝে ওঠা মুশকিল হয়ে পড়েছে। খেলার ফলাফল কোনো কোনো ক্ষেত্রে একেবারেই অবাক করার মতো। যে দেশই চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাঠে নামবে তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ লড়াইয়ের মূল হাতিয়ার এখন মেধা, কৌশল আর পরিশ্রম করার মানসিকতা। চিরচেনা পুরনো ধারায় শক্তি প্রদর্শনের খেলা এখন আর বিশ্বকাপ ফুটবল নয়।

আরেকটা বিষয় বলি, ব্রাজিল আর্জেন্টিনা। ফুটবলবিশ্বের দুই মেরুর দুই শক্তি। বাংলাদেশের জনগণ মূলত এ দু’দলের শিবিরেই ভাগ হয়ে গেছে। এ দু’দলকে নিয়েই সারাদেশের সমর্থকরা উচ্ছ্বসিত। এ দুটি দল যদি একসঙ্গে ফাইনালে মুখোমুখি হয় তাহলে সেটা একটা রেকর্ড হবে। বিশ্বের ফুটবলবোদ্ধাদের কাছে ইতিহাসের সেরা ঘটনা হবে সেটি। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই শক্তির মাঠের লড়াইটা বেশি আকর্ষণীয় হবে না। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ফুটবলকে ঘিরে উন্মাদনা অনেক বাড়বে। খেলা চলছে, আমি নিয়মিত দেখছি। আমি ভালো দলকেই সমর্থন করব। কারণ সুনাম বদনাম নয়, আমি যেকোনো দলের মূল্যায়ন করতে চাই কাজ দিয়ে।

লেখক : মেয়র
ঢাকা সিটি করপোরেশন

[ad#co-1]