ফিরেছেন তাহসান

মাথাভর্ত্রিসেই ঢেউ খেলানো চুল উধাও। চেহারার মধ্যেও বেশ একটা শিক্ষক-শিক্ষক ভাব চলে এসেছে। তবে চলনে-বলনে এখনো সেই পুরোনো তাহসান। যুক্তরাষ্ট্রে দুই বছর পড়াশোনার পর সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। আবারও শুরু করেছেন গান।

‘বিশ্বভ্রমণে যেতে চাই। দেখতে চাই পৃথিবীর বিখ্যাত বিখ্যাত সব জায়গা।’ বছর তিনেক আগে ‘আনন্দ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তাহসান। মুখোমুখি হয়ে তাহসানের কাছে প্রথম প্রশ্ন ছিল, সেই বিশ্বভ্রমণ কত দূর হলো?

‘বিশ্বভ্রমণ কতটুকু হলো জানি না। তবে আমেরিকা ভ্রমণ হয়েছে পুরোদমে। দুই বছরে মোটামুটি দেখার মতো কোনো জায়গা বাদ দিইনি।’ বলছিলেন তাহসান। ‘সবচেয়ে ভালো লেগেছে সানডিয়াগো। বছরজুড়ে ১৮-২০ ডিগ্রি তাপমাত্রা—না গরম, না ঠান্ডা। চমৎকার সৈকত। আর আর্কিটেকচারাল দিক দিয়ে সানফ্রান্সিসকোর কোনো তুলনা নেই। পাহাড়ের ওপর একটা শহর। অথচ কত সুন্দরভাবে গড়ে তোলা। কেব্ল কারে চড়ে শহরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় চোখ ফেরানো যায় না। তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে শিকাগোতে গিয়ে; যখন সিয়ার্স টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, এই বিশাল স্থাপনার স্থপতি একজন বাংলাদেশি, এফ আর খান! বিল্ডিংয়ের একেবারে ওপরে রয়েছে তাঁর একটি আবক্ষ মূর্তি। নিচের রাস্তাটার নামও তার নামে, ‘এফ আর খান এভিনিউ’। দেখে ভীষণ ভালো লাগা কাজ করেছিল তখন। গর্বে বুকটা ভরে যাচ্ছিল।’ তাহসান এমনই আবেগপ্রবণ।

গানের মানুষ। শুধু কি শহর দেখে মন ভরে? ‘ভরে না। তাই তো অনেক সিনেমা দেখেছি। শুনেছি হরেক রকমের গান। আর কনসার্টের খবর পেলে তো কথাই নেই। যেকোনোভাবে দে ছুট। মার্ক নফলার, স্যান্টানা, ব্রায়ান অ্যাডামস, কোল্ড প্লে থেকে হালের ব্ল্যাক আইড পিস—সবার কনসার্ট অনেক ভালো লেগেছে। এ ছাড়া জ্যাজ গান শুনেছি প্রচুর। আগে তো জ্যাজ কিছুই বুঝতাম না। এখন শুধু বুঝি, তা-ই নয়, অন্যকেও বোঝাতে পারব।’ তাহসানের সরল স্বীকারোক্তি। সামনে কি তাহসানের গানে জ্যাজও পাওয়া যাবে? ‘এই দুই বছরে বহু রকমের গান শুনেছি। তার একটা প্রভাব তো পড়বেই। জ্যাজও আসতে পারে। আমার তো ইচ্ছে আছে জ্যাজ গান নিয়ে একটা পুরো অ্যালবাম করার।’

তাহলে কি পুরোনো সেই তাহসানকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না? ‘কেন যাবে না। নিজের স্বকীয়তাকে তো বদলাতে পারব না।’ ভক্তদের আশ্বস্ত করে বললেন, ‘ভক্তরা যে তাহসানীয় গান পছন্দ করতেন, সেটাকে তারা ঠিকই খুঁজে পাবে।’

ভক্তদের মিস করেননি? ‘সত্যি কথা বলব? প্রথম প্রথম একদমই না। বরং নিজের মতো করে ঘুরতে পারছি, খ্যাতির বিড়ম্বনা নেই—আহ্, কী শান্তি! কিন্তু মাসখানেক যেতেই বুঝতে পারলাম ভক্তদের জন্য, দেশের জন্য আমারও মন কাঁদছে। এটাকে আমি খ্যাতির মোহ বলব না, বলব ভক্তদের ভালোবাসার প্রতিদান।’

তিন বছর আপনার নতুন কোনো গান শ্রোতারা শুনতে পারেনি। নতুন করে শুরু করতে গিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন? ‘সেটা তো কিছুটা থাকবেই। তবে তিন বছর কিন্তু এমন বড় কোনো বিরতি নয়। ভালো কিছু করতে হলে এটুকু বিরতি স্বাভাবিকভাবেই লাগে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, আগে সময়ের মধ্যে গান শেষ করতে হবে, অ্যালবাম বের করতে হবে—এ রকম একটা টেনশন কাজ করত। গান করতাম একটা তাড়াহুড়ো নিয়ে। কিন্তু এবার আমেরিকায় বসে নিজের মতো করে, নিজেকে খুশি করে লিখেছি, সুর করেছি। তাই গানগুলোতে যত্নের অভাব হয়নি।’

ঢাকায় এসেই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। জীবনের আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন সেখান থেকেও। ‘শিক্ষকতার ভেতরে অনেক আরাম। এই পেশাটা আমি অনেক উপভোগ করি। পাশাপাশি গান তো আছেই মনের খোরাক হয়ে। এভাবেই হয়তো চলে যাবে বাকি জীবনটা।’

তাহলে সেই বিশ্বভ্রমণ?
‘ও হ্যাঁ। সেটাও হবে। এরপর যাব ইউরোপে। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে। তারপর আফ্রিকা, তারপর…।’
তাহসানের স্বপ্ন দেখা শেষ হয় না। অবশ্য স্বপ্ন না দেখলে সেটা পূরণ হবেই বা কীভাবে?

পার্থ সরকার

[ad#co-1]