মুন্সীগঞ্জে আ’লীগের দুগ্রুপে সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

২টি তাজা বোমা উদ্ধার আটক ৬
ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্ভাব্য দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর দুই গ্রুপের মধ্যে গতকাল সোমবার হামলা-পাল্টা হামলা, সংঘর্ষ ও ব্যাপক বোমাবাজিতে অর্ধশত আহত হয়েছে। পুলিশ সেখান থেকে ২টি তাজা বোমা উদ্ধার ও ৬ জনকে আটক করেছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৩ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনায় আবারো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি।

গতকাল সোমবার সকালে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কল্পনা দেওয়ান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহআলম মল্লিকের গ্রুপ এবং সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা মোল্লা ও রিপন পাটোয়ারী ওরফে কাতার রিপনের গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলা, সংঘর্ষ ও বোমাবাজির এ ঘটনা ঘটে। সকাল ৯টা থেকে উভয় গ্রুপের মধ্যে আমঘাটা, নয়াকান্দি, চৈতারচর ও চরডুমুড়িয়া গ্রামে ব্যাপকভাবে বোমা বিস্ফোরিত হয়। দুই গ্রুপের ক্যাডাররা সহিংসতা চলাকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের প্রদর্শন ঘটায়। সোমবার সকালে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহআলম মল্লিকের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিতারিত আওয়ামী লীগ কর্মীরা গ্রামে ফিরতে গেলে তাতে বাধা দেয় মোস্তফা মোল্লা গ্রুপের ক্যাডাররা। এতে চরডুমুড়িয়া গ্রামের প্রবেশমুখে উভয়গ্রুপের শতাধিক ক্যাডারের মধ্যে সংঘর্ষ ও বোমাবাজির ঘটনার সূত্রপাত হয়। আহতদের মধ্যে সুফিয়ান ও শাকিলকে ঢাকা মেডিকেল এবং স্বপন, রাসেল, রুবেল, হোসেন, নীরব, মাসুদ, বাদল, রানা, সাইফুল, ময়না, কাজল, মঈন, কাননকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতরা গোপনে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে সহিংসতার ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরডুমুড়িয়া, আমঘাটা, চৈতারচর ও মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী আধারা ইউনিয়নের বকুলতলা ও সোলারচর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ সোহাগ, বরকতউল্লাহ, শাহজাহান, মতি শেখ, জসিম ও সাজ্জাদকে আটক করে। আটক সোহাগের কাছ থেকে পুলিশ ২টি তাজা বোমা উদ্ধার করে।

উল্লেখ্য, ১৭ মে এ দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, বোমাবাজিতে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে মোল্লাকান্দি। সে সময় টানা ৩ দিন সম্ভাব্য দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর ক্যাডারদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটলে শতাধিক নারী-পুরুষ রক্তাক্ত জখম হয়। সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম সোমবার বিকালে ঘটনাস্থল থেকে সেল ফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, এখন পরিস্থিতি শান্ত। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এখানে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের লোকজন অযথাই সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। ইউপি নির্বাচনের আরো কয়েক মাস বাকি থাকলেও উভয়ের মধ্যে উত্তাপ প্রকাশ পেয়েছে।

[ad#co-1]