ব্রিজ ধসে পড়েছে চার বছর আগে

২৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগ
টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ভাঙ্গুনিয়া ব্রিজ ধসে পড়ায় ৪টি ইউনিয়নের ২৫ হাজার মানুষ ভোগানত্মির মধ্যে পড়েছে। চার বছর ধরে চলছে এই দুর্গতি। বর্ষার পানি আসার পর মানুষের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। ভাঙ্গা সেতুর পাশ দিয়ে এক আইনজীবী বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেন দুভের্াগ কমাতে। বর্ষায় সেটিই ছিল হাজারো পথচারীর ভরসা। কিন্তু সেটি নড়বড়ে হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে সেটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাই খাল সাঁতরে বা নৌকায় করে এই গুরম্নত্বপূর্ণ সড়ক পাড়ি দিতে হচ্ছে। সেতুটি ধসে পড়ার জন্য দায়ীদের বিরম্নদ্ধে আজও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

হাসাইল-দীঘিরপাড় সড়কের কামারখাড়া ইউনিয়নের ভাঙ্গুনিয়া খালের ওপর নির্মিত ৩৩ ফুট দীর্ঘ ব্রিজটি ২০০৭ সালে ধসে পড়ে। ২০০৩ সালে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাসত্মবায়ন কর্মকর্তার অফিস থেকে ১৬ লাখ ২২ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই পাকা সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। মাত্র ৪ বছরের মাথায় সেতুটি ধসে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে হাসাইল বানারী, কামারখাড়া, দীঘিরপাড়, পাঁচগাঁও ইউনিয়নের লোকজনসহ স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের। কিন্তু নির্মাণ ত্রম্নটির কারণে সেতু ভেঙ্গে পড়লে রহস্যজনক কারণে এর ঠিকাদার বিএনপির প্রভাবশালী নেতার বিরম্নদ্ধে এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিষয়টি নানাভাবে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদশর্ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, এটি ভেঙ্গে পড়ার পর দেখা যায় চিকন রড এবং হাতের টোকাতেই ঢালাই খুলে যাচ্ছে। বেরিয়ে আসছে বালু। এলাকার জনসাধারণ জানান, এটি নির্মাণের সময়ই গ্রামবাসীরা ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজের অভিযোগ এনে বাধা দেয়। কিন্তু প্রভাব আর কর্তৃপক্ষের ছত্রছায়ায় নির্মাণ কাজ চালানো হয়। এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল জলিল জানান, বিষয়টি তাঁর যোগদানের আগের ঘটনা, তারপরও ফাইল বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি জানান, জামায়াত-বিএনপির জোট আমলেও যে কত লুটপাট হয়েছে এই সেতুটি তারই সাক্ষী। দায়ীদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এখানে ব্রিজ নিমর্াণের ব্যাপারে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই সেতুটি নির্মিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

টঙ্গীবাড়ি উপজেলা পিআইও (প্রকল্প বাসত্মবায়ন কর্মকর্তা) অফিস সূত্র রবিবার জানায়, পানির তীব্র স্রোতের কারণে এটি ভেঙ্গে যায়। তবে সঠিকভাবে নির্মাণ করা হলে এটি স্রোতে ভেঙ্গে পড়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন এলজিইডি। স্থানীয় এলজিইডি সূত্র জানায়, এই অঞ্চলেই এর চেয়েও কম অর্থে অনেক ব্রিজ কালভার্ট করা হয়েছে কিন্তু কোনটিই ধসে পড়েনি।

ব্রিজ ধসে পড়ার এক বছর পর হাজার হাজার মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগের চিত্র বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ২০০৮ সালে এ্যাডভোকেট মহসীন মিয়া নিজ উদ্যোগে ২৭৫ হাত দীর্ঘ এবং ৪ হাত প্রস্থের কাঠ ও বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেন। দুই বছর ঐ সাঁকোর ওপর দিয়ে জনগণের যাতায়াতের ফলে পুলটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

[ad#co-1]