জুরাইনে মা-সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার নাটক

জুরাইনে মা ও তার দুই সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সোমবার আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য মিলেছে। এই মামলায় দুপুরে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানালেও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুপুরের পর জানান, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এই মামলায় সোমবার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে সাংবাদিক শফিকুল কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছিল, সোমবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ হাইকোর্টের সামনে থেকে শফিকুল কবির, তার স্ত্রী নূর বানু, মেয়ে কবিতা ও সুখন এবং জামাতা দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক শেখ মাহবুবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বেলা সোয়া ১২টার দিকে হাইকোর্টের সামনে থেকে এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারি সোমবার সকালে হাইকোর্টের বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও মো. আব্দুস সামাদের বেঞ্চে হাজির হয়ে আগাম জামিন আবেদন জানালে আদালত তা নাকচ করে দেয়।

মামলার অন্য আসামিরা আগাম জামিন আবেদন জানালেও আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক তাদের ব্যাপারে কোনো আদেশ দেয়নি।

সাংবাদিক শফিকুল কবিরের ভাগ্নে মো. নুরুজ্জামান লিটন অভিযোগ করেছেন, র‌্যাব পরিচয়ে সাদা পোশাকের একদল লোক তার মামা শফিকুল কবির, মামী নূর বানু, মামাতো বোন কবিতা ও সুখন এবং মামাতো বোনের স্বামী দেলোয়ার হোসেনকে সকাল ১১ টার দিকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়।

নুরুজ্জামান লিটন আরও অভিযোগ করেন, র‌্যাব পরিচয়ে একদল লোক জোনাকি সিনেমা হলের সামনে থেকে তাকে ও তাদের দুজন নিকট আত্মীয়কে গাড়িতে তুলে নেয়। তাকে ইস্কাটন গার্ডেনে নিয়ে গিয়ে একটি সরকারি কোয়ার্টারের লনের সামনে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। নুরুজ্জামান বলেন, “তিনি ওই স্থানে তার মামা, মামী ও মামাতো বোনদের দেখেছেন।”

তিনি আরও বলেন, গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার সময় তাকে বলা হয়, সবাইকে কমদমতলী থানায় হস্তান্তর করা হবে। সে অনুযায়ী কদমতলী থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু দুপুরের পর তিনি কদমতলী থানায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন সেখানে তাদের কাউকে হস্তান্তর করা হয়নি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ মামলায় র‌্যাব কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করেনি।”

গত ১১ জুন জুরাইনের কদমতলী থানার আলমবাগ এলাকার বাড়ি থেকে ফারজানা কবির রিতা (৩৫), তার ছেলে ইশরাক কবির পবন (১৩) ও মেয়ে রাইসা রাশমিন পায়েল (১১)-এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রিতার মা মাজেদা বেগম আত্মহত্যা প্ররোচণার অভিযোগ এনে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি শফিকুল কবির, তার স্ত্রী নূর বানু, তাদের ছেলে ও রিতার স্বামী রাশিদুল কবির, মেয়ে কবিতা, সুখন ও জামাতা দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারি, গাড়ির চালক আল আমিনের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ ইতিমধ্যেই আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে।

মৃত্যুর আগে রীতা তাদের আত�হত্যা ও পারিবারিক বিরোধের বিভিন্ন অভিযোগের কথা ঘরের দেয়ালে ও কাগজে লিখে রেখে যান।

রাজিয়া সুলতানা স্মৃতির সঙ্গে স্বামী রাশিদুল কবিরের দ্বিতীয় বিয়েতে রীতার কোনো আপত্তি নেই, একথা লেখা একটি কাগজে জোরপূর্বক রাশিদুল স্বাক্ষর নিয়েছে-এই মর্মে একটি অভিযোগও দেয়ালে লেখা রয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

[ad#co-1]