সামাদ থেকে টেলি সামাদ

তাঁকে সবাই চেনেন কমেডি অভিনেতা হিসেবে। কিন্তু এর অন্তরালে ঢাকা পড়ে আছে তাঁর আরো কিছু বৈশিষ্ট্য। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন শ্রাবণী হালদার১৯৭৩ সালে শুরু, এখনো অভিনয় করছেন বিরামহীন। ‘আমার চেহারা কিন্তু বদলায়নি একটুও। যে জন্য এখনকার শাকিবেরও বন্ধু হতে পেরেছি। চিন্তা করেন ৩৭ বছর বিভিন্ন নায়কের বন্ধু থাকলাম। যা-তা কথা!’ বললেন টেলি সামাদ। শুরুতে নামটা এমন ছিল না। প্রথম ছবি নজরুল ইসলামের ‘কার বউ’তে নাম ছিল শুধুই সামাদ। কিন্তু দ্বিতীয় ছবি ‘পায়ে চলার পথ’-এ তাঁকে নিয়ে বৈঠক হলো। সিদ্ধান্ত হলো সামাদের সঙ্গে ‘টেলি’ যোগ করা হবে। তিনি বলেন, ‘গুণীজনরা যখন এমন সিদ্ধান্ত নিতে চান তখন আমি বাধা দেওয়ার কে! মেনে নিলাম, হলাম সামাদ থেকে টেলি সামাদ।’ আজ পর্যন্ত ছবি করেছেন প্রায় ৭০০। সব কিন্তু কমেডি চরিত্রে নয়। মাঝে মাঝে সিরিয়াস চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। নায়কও হয়েছেন। “আমি তিনটি ছবিতে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছি। ‘মনাপাগলা’, ‘দিলদার আলী’ এবং ‘ডাইনীবুড়ি’। ছবি তিনটি খুব চমৎকার। যাঁরা দেখেছেন তাঁরা বুঝেছেন, টেলি শুধু কমেডি কিং নন ইচ্ছে করলে নায়কও হতে পারতেন।” এখনো নায়ক হিসেবে অভিনয়ের প্রস্তাব পান, তবে সুকৌশলে এড়িয়ে যান। ‘নায়কের শ্রেণী বিভেদ থাকে। একজন নায়ক সব দর্শকের ভালোবাসা পায় না কিন্তু একজন কমেডি অভিনেতা সব শ্রেণীর কাছে সমান জনপ্রিয়’, বললেন তিনি। জীবনের শুরুতে চেয়েছিলেন চিত্রশিল্পী হতে। ঢাকা আর্ট কলেজে কোর্সও করেছিলেন, পরে আর সে দিকে যাওয়া হয়নি। তাই বলে ইচ্ছাটা দমে যায়নি, এখনো মাঝে মধ্যে অবসরে স্বপ্নগুলো তুলি দিয়ে রাঙিয়ে তোলেন। বর্তমানে তাঁর হাতে ৯টি ছবি। এখনো তাঁর সোনালি সময়। ‘না, না সোনালি সময় এখন আর চলচ্চিত্রে নেই। ছবির ব্যবসাও আর আগের মতো নেই। আমি একসময় প্রযোজক ছিলাম কিন্তু এখন কি আর পারব প্রযোজনা করে টাকা ফেরত আনতে? অতএব যা সোনালি তা অতীত। ওটা মনে করে আর কষ্ট পেতে চাই না’, বললেন টেলি সামাদ। তিনি প্রায় ৫০টির মতো ছবিতে গান লিখেছেন ও প্লেব্যাক করেছেন। সংগীত পরিচালনাও করেছেন ‘মনাপাগলা’ ছবিতে। তবে চলচ্চিত্র পরিচালনা তাঁর খুব শখ। তিনি বলেন, ‘যদি সামর্থ্যে কুলায় তা হলে হয়তো একদিন না একদিন আমি পরিচালনায় আসবই। এত দিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর জন্য ওটাই বোধহয় মোক্ষম জায়গা।’ তাঁর অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘তুমি ছাড়া বাঁচি না’। মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘আমার ঘর আমার সংসার’, ‘কুমারী মা’সহ আরো কিছু ছবি। এত কিছুর পরেও তাঁর আফসোস! আজও জাতীয় পুরস্কার ভাগ্যে মেলেনি। তবে হয়তো সামনে মিলবে এমন প্রত্যাশায় আজও প্রাণবন্ত অভিনয় করে চলেছেন।

[ad#co-1]