বাবার হাত ধরে

এক জীবনে বাবার কাছ থেকে আমাদের শিখে নেয়ার পাল্লাটা কখনই নেহাত হালকা নয়। তবে জীবনে চলার শিক্ষা আর বাস্তবতার বোধ ছাড়াও কারো কারো কাছে বাবা হয়ে ওঠেন পথ চলার পাথেয়। বিশেষ করে সংগীতের ভুবনে বাবার হাত ধরে পরবর্তী সময়ে নিজেদের এবং দেশের সংগীতকে আলোকিত করেছেন এমন প্রতিভাধর সন্তান আছেন অনেকেই। আর বাবার হাত ধরে গাইতে আসা এমনই কিছু গাইয়ে’র কথা নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন হাসান মাহমুদ

ফেরদৌস ওয়াহিদ ও হাবিব ওয়াহিদ :
সেই ছোট্টবেলার কথা। যে বয়সটায় হাবিব সবেমাত্র হাঁটি হাঁটি পা পা করে এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াতে শিখেছেন সেই বয়সেই বাবার গানের সাথে পরিচয় হয় তার। সবমিলিয়ে বাবার সাথে পরিচয় আর বাবার গানের সাথে তার মিশে যাওয়া যেন শুরু হয়েছিল একই বিন্দু থেকে। মূলত স্কুলের পড়ায় হাতেখড়ি’র সময় থেকেই বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদের গানের চর্চা, বাজানোর ঢঙ আর সুর ও ছন্দের বারতা অনেক বেশি করে ছুঁয়ে যেতে থাকে হাবিবকে। আর এই সুরের প্রেরণাতে একসময় বাবার গানের যন্ত্র নিয়ে কৌতূহলবশত বাজাতে বাজাতেই গানের ভুবনে হাবিবের সত্যিকারের হাতেখড়ি হয়। এমনকি পরবর্তী সময়ে গানের ভাবনা নিয়ে হাবিবের এগিয়ে যাওয়া এবং এ নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা অর্জনেও বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদই ছিলেন মূল প্রেরণা। অন্যদিকে সময়ের পালাবদলে হাবিব নিজেও যেন বাবার এই উৎসাহের প্রতিদান দিয়েছেন বহুগুণে। দেশীয় সংগীতে নিজের স্বতন্ত্র একটি পরিচয় তৈরি করে নেয়ার পাশাপাশি হাবিবের সংগীতায়োজনের ছোঁয়ায় নতুন করে প্রাণ পেয়েছে বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদের গানগুলোও। যদিও হাবিবের কাছে গায়ক ফেরদৌস ওয়াহিদ কিংবা তার গানের জনপ্রিয়তার চাইতে বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদের আসনটাই অনেক বড়। এমনকি তার প্রতিদিনের কাজে এখনও বাবাই সবচেয়ে বড় পথ প্রদর্শক। এ প্রসঙ্গে হাবিবের অকপট স্বীকারোক্তি- ‘শ্রোতার কাছে আমার গানের মূল্যায়ন হবার অনেক আগেই আমি বাবার মূল্যায়নটুকু পেতে চাই। কখনো কখনো হয়তো এমনও দেখা গেছে যে, একটা নতুন গানের কম্পোজিশন হবার পর আমি রাত দু’টার সময়ও বাবাকে ডেকে নিয়ে এসেছি গানটা শোনাব বলে। এছাড়া গানের ধরন এবং শিল্পীদের গায়কী নিয়েও বাবার সাথে প্রতিনিয়তই আমার কথা হয়। এছাড়া সংগীতের বাইরে জীবনের নানা ঘটনাতেও বাবার সাথেই আমার ‘শেয়ারিং’টা হয় সবচেয়ে বেশি। বলা চলে, বাবাই আমার সবসময়ের সবকিছুর সঙ্গি।

[ad#co-1]