গোয়েন্দা নজরদারিতে স্মৃতি

রাজধানীর জুরাইনে মা রীতা ও দুই ছেলেমেয়ে আত্মহননের নেপথ্যের নায়িকা রাজিয়া সুলতানা স্মৃতি গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। এদিকে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে ড্রাইভার আল-আমীনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্মৃতির একাধিক বয়ফ্রেন্ড আছে বলে গোয়েন্দারা তদন্তে জানতে পেরেছেন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর দায়ের করা মামলার ৮ আসামিকে গ্রেফতার করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই মধ্যে রীতা ছেলেমেয়েসহ কী কারণে অস্বাভাবিক এ পথ বেছে নেয় তার তদন্ত শুরু হয়। স্মৃতিকে রাশিদুল কবির বিয়ে করার পর থেকেই ওই পরিবারে অশান্তি নেমে আসে। স্মৃতি ও কবির তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে নানা পাঁয়তারা শুরু করে। এ কারণে স্মৃতিকে গ্রেফতার করতে তার নিকটাত্মীয় এবং বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে পুলিশ নিশ্চিত হয় স্মৃতি রাজধানীতেই অবস্থান করছে। একটি ঘনবসতি এলাকায় সে আত্মগোপনে আছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তবে সে গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। স্মৃতি যেহেতু মামলায় সরাসরি কোনো আসামি নয়, এ কারণে তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। কিছু আনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি আছে। ড্রাইভার আল-আমীনকে গ্রেফতার করতে পারলেই আনুষ্ঠানিকতার কাজ শেষ হবে। অবশ্য আল-আমীনকে গ্রেফতার করতে মঙ্গলবার রাতেই মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদে গোপালগঞ্জ পৌঁছেছে। এখানে সে পালিয়ে আছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর স্মৃতি অভাবের তাড়নায় অসামাজিক কার্যকলাপে নেমে পড়ে। অবশ্য এর আগেই সে জুরাইন ও এর আশপাশের অর্থবিত্তশালী কয়েকজন যুবকের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতো। রেজাউল খান নামে এক যুবককে সে কৌশলে প্রেমে ফেলে। ওই যুবক আবার পেশায় ছিল একজন ব্যবসায়ীও। একপর্যায়ে স্মৃতি বিভিন্ন সময় তাকে বিয়ের লোভ দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়। অনেক দিন তারা দুজন কাটিয়েছে রাজধানীর নামিদামি হোটেলগুলোতে। একপর্যায়ে ওই যুবকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিয়ে না করে সে সরে পড়ে। পরে ওই যুবক মানসম্মানের কথা চিন্তা করে সবকিছু চেপে যায়।

তার অগণিত বয়ফ্রেন্ড আছে। রূপযৌবন এবং সুঠাম দেহের অধিকারী হওয়ায় এসব বন্ধুকে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে বাগে নেয় স্মৃতি। এরা সবাই সমাজের প্রভাবশালীর সঙ্গে অর্থশালীও বটে। আবার অনেকেই ছিল তার বাবার বয়সী। এসব বন্ধুদের নিয়ে স্মৃতি একাধিক স্থানে রাতের পর রাত করেছেন লিভ টুগেদার। বেশ ভালোভাবেই চলছিল তার গোপন কর্মকা-। এরই মধ্যে স্মৃতি মিডিয়ার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও কৌশলে আয়ত্তে আনে। তাদের বদৌলতে স্মৃতি চাকরি করে বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে। একসময় স্মৃতির চাকরি চলে যায়। অসামাজিক কার্যকলাপ আবার চলে আসে প্রকাশ্যে। এ সময় সে অর্থ উপার্জন বা ধরতে মরিয়া হয়ে ওঠে। গোপন কর্মকা-ের সঙ্গে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিকে কীভাবে বিয়ে করা যায় সে মিশনে নামে। এরই মধ্যে পরিচয় ঘটে রাশিদুল কবিরের সঙ্গে। তার সঙ্গে রাজধানীর রামপুরা, গুলশান, বনানীসহ আরো কয়েকটি এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেয়। দুজনে লিপ্ত হয় বিকৃত যৌনাচারে। রাশিদুলের অর্থ দেখে একপর্যায়ে স্মৃতি তাকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করে। অথচ সে জানতো রাশিদুল বিবাহিত এবং তার দুই ছেলেমেয়ে আছে। তারপরও তাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর স্মৃতি রাশিদুলকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকে প্রথম স্ত্রী রীতাকে তালাক দিতে। এরই মধ্যে রীতা যেন রাশিদুলের কাছ থেকে সরে যায় সেজন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। বিভিন্ন সময় তাদের গালমন্দ করে এবং ওই বাড়িতে গিয়ে ঝগড়াঝাঁটিও করতো।

এদিকে অপর একটি সূত্র বলেছে, স্মৃতি একটি মহলের আশ্রয় নিয়ে গ্রেফতার এড়াতে অশুভ হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। ওই মহল চাচ্ছে স্মৃতি গ্রেফতার হওয়ার আগেই তাকে আদালতে হাজির করে আগাম জামিন নেয়া যায় কি না। ওই মহল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

[ad#co-1]