‘আমার বাবাই শ্রেষ্ঠ বাবা’

হাবিব ওয়াহিদ
ছোটবেলা থেকে এখন পর্যন্ত বাবাই আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। তাঁর সঙ্গে সব বিষয়ে খোলামেলা কথা বলার অনুশীলন শৈশব থেকেই। যেমন প্রথম কবে সিগারেট খেয়েছি, স্কুলে পড়াকালীন ভালো লাগার মানুষ কে কে—সবই বাবার সঙ্গে ভাগাভাগি করেছি। অবশ্য আমার মায়ের সঙ্গেও আমার সম্পর্কটা এমনই। এটা হয়তো সম্ভব হয়েছে আমি তাঁদের একমাত্র সন্তান বলেই।

বাবা ভীষণ স্বাপ্নিক। বিশ্বস্ত। কিছু বিষয়ে তাঁর বুদ্ধি-পরামর্শ খুব ভালো। যেকোনো সন্তানের ভাগ্যে যদি আমার বাবার মতো এমন বন্ধু মেলে, তবে তাঁকে ঘরের বাইরে যেতে হবে না।

গান-বাজনার প্রতি আমার আগ্রহ সেই শৈশব থেকেই। বিষয়টা তিনি আমার ওই বয়সেই বুঝে ফেলেছিলেন। আশির দশকের শুরুর দিকের কথা বলছি। আমার বয়স তখন ছয়-সাত হবে। বাবা তাঁর মিউজিক লাইনআপ নিয়ে (কি-বোর্ড, ড্রামস, গিটার) নিয়মিত অনুশীলন করতেন। একবার হলো কী, অনুশীলন শেষে বন্ধুদের নিয়ে বাবা আড্ডা মারছেন, হঠাৎ তিনি শুনতে পেলেন কেউ ভেতরে তাঁর গাওয়া একটা গানের সুর কি-বোর্ডে বাজাচ্ছে। ভেতরে গিয়ে তিনি আমাকে আবিষ্কার করলেন। তখনই হয়তো তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, আমার ভেতর মিউজিক আছে। যার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁর অনুশীলনে গিয়ে আমি শত যন্ত্রণা দিলেও তিনি কিছুই বলতেন না।

একটা ঘটনা বলি। বাবা তাঁর একটা শোতে আমাকে নিয়ে গেছেন। তিনি মঞ্চে গান গাইছেন। হঠাৎ টের পেলেন, গানের সঙ্গে কঙ্গো বাদন ঠিক মিলছে না। পেছনে ফিরে দেখেন, কঙ্গোটা আমি বাজাচ্ছি। তিনি গান থামিয়ে আমাকে কিছু না বলে কঙ্গোবাদককে খুব বকা দিলেন, কেন সে আমাকে বাজাতে দিল।

আমরা দুজনই একই পেশায় এসেছি। এ ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে আমার চিন্তাভাবনাগুলো একই রকম। তবে মাঝেমধ্যে কিছু ব্যাপারে মতানৈক্য দেখা দেয়। বাবার সঙ্গে কোনো বিষয়ে আমার ভুলভ্রান্তি হলে আমি পরে আবার সুধরে নিই।

যেকোনো বিষয়েই বাবার পরামর্শ আমাকে অনুপ্রাণিত করে, সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।

[ad#co-1]