হরতালে বি চৌধুরী নেই

বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, যারা হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি দিয়ে জনগণের সম্পদ ধ্বংস করে তার দল তাদের সঙ্গে নেই। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিকল্পধারা ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, “ধ্বংসাত্মক যে কোন কর্মসূচির বিপক্ষে আমরা। এর বাইরে শান্তিপূর্ণ সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আমরা আছি। কিন্তু জনগণ ও দেশের ক্ষতি হয় এমন কর্মসূচিতে আমরা নাই।”

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “জনগণ দিন বদলের আশা নিয়ে বর্তমান সরকারকে ক্ষামতায় এনছে। কিন্তু দিন বদল হয়নি। সন্ত্রাস, দুর্নীতি নিত্যদিনের খোরাক হয়ে গেছে।”

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী, আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, গড়বো বাংলাদেশ-এর নেতা অধ্যাপক শাহেদা ওবায়েদ, ফরোয়ার্ড পার্টির সভাপতি মোস্তফা আমীন, বিকল্পধারার মহাসচিব আব্দুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি. চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করা হয়। উড়িয়ে দেওয়া হয় সাদা পায়রা।

বি. চৌধুরী ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদেরই বসুন্ধরা…’ গেয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।

কামাল হোসেন বলেন, জনগণ দিন বদলের জন্য ভোট দিয়েছে। সেই দিন বদলের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কতিপয় টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী এই দেশকে হাইজ্যাক করতে চাইছে। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা জনগণ সফল হতে দেবে না।

রাশেদ খান মেনন বলেন, দেশকে বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন থেকে বাঁচাতে বিকল্পধারার জন্ম হয়েছিল। কিন্তু সেই ধ্বংসের রাজনীতি থেকে এখনো আমরা বেরিয়ে আসতে পারিনি। শত শত তরুণ তাকিয়ে আছে একটি পথের দিকে, যে পথ ধরে বাংলাদেশ একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও অসা¤প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, “বিকল্পধারা আর কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের জন্ম একই বেদনা নিয়ে। দল গড়তে আমাকেও রক্ত দিতে হয়েছে। আগে আমরা ছিলাম এরশাদের স্বৈরতন্ত্রে। আর এখন দেশ গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রে পতিত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে।”

ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী বলেন, মাত্র দুইভাগ লোক দেশের ৯০ ভাগ সম্পদের মালিক হয়ে দেশকে বিভক্ত করে শোষণ করছে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে তারা যুদ্ধ করেছিলেন আজও তা অপূর্ণই রয়ে গেছে। জনগণ হয়ে গেছে নাগরদোলার লাঠি, আর দুটি দল পালাক্রমে উপরে উঠছে আর নামছে। দেশ আজ পরিবারতন্ত্র থেকে রাজতন্ত্রের দিকে ঝুকে পড়ছে। এখন শুধু মুকুট পড়াই বাকি।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিকল্পধারা তাদের পুস্তক, বুলেটিন বা ইশতেহারে যেসব কথা বলে তা তার ভালো লাগে। তাকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারের দেড় বছর বয়স হলো, কিন্তু দেশের কোনও পরিবর্তন হলো না। বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত জোটের চেয়েও পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। অন্যায়, লুটপাট, সন্ত্রাস, দুর্নীতি থেমে নেই। পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে।

মাহি বি চৌধুরী বলেন, দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে দেশ বিগত নির্বাচনের আগের মতই বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ফেইসবুক বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বন্ধ করা হচ্ছে পত্রিকাও।

[ad#co-1]