শ্রীনগরে সালিশে কিশোরী ও তার পিতামাতাকে জুতার ঘা থানায় মামলা

শ্রীনগরে সালিশ মীমাংসায় মা-বাবা ও কিশোরী মাতাকে জুতাপেটার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল ওই কিশোরীর পিতা থানায় এ মামলা করেন। সূত্র জানায়, গত শনিবার বিকালে উপজেলার ভাগ্যকুলের জগন্নাথপট্টি গ্রামে সালিশ মীমাংসায় মাতব্বররা বর্বরোচিতভাবে মা-বাবা ও কিশোরী মাকে দুই শতাধিক জুতার ঘা মারে।

ওই গ্রামের মমিন আলীর মেয়ে মহসীনা (২৫) এর সঙ্গে একই গ্রামের আহমেদ আলীর ছেলে খলিল (২৬) এর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। খলিল বিয়ের প্রোলভন দেখিয়ে মহসীনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে মহসীনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ।

বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার স্থানীয় সালিশদার আনোয়ার মৃধার বাড়িতে খলিল ও মহসীনাকে নিয়ে হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সালিশ বসে। সালিশে খলিল তার অপরাধের কথা স্বীকার করে এবং তার পক্ষে মহসীনাকে বিয়ে করা সম্ভব নয় বলে জানায়। এতে সালিশদাররা খলিলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০০ জুতার ঘা দেয়ার রায় দেন। অপরদিকে বিয়ে বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের কারণে মহসীনাকে ৫০, তার মা সখিনাকে ৫০ এবং তার বাবা মমিন আলীকে ২৫টি জুতার ঘা দেয়ার রায় দেয়া হয়। এ ব্যাপারে সালিশ সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, সমাজ ঠিক রাখার জন্য এরূপ করা হয়েছে। বিয়ে ছাড়া সন্তানের পিতৃত্ব কিভাবে নির্ধারণ করলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যা করেছি এর চেয়ে বেশি করা সম্ভব ছিল না। সালিশদার আনোয়ার আলী জানান, ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক দোররা মারা উচিৎ, আমরা দোররা না মেরে জুতার ঘা মেরেছি। সালিশের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মহসীনা জানায়, টাকা দিয়ে কি করবো, সন্তানের আইনগত পরিচয় চাই। আমি এখন সন্তান নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো। মাতব্বররা মামলা করতে নিষেধ করেছে, সিদ্ধান্তের ব্যাপারেও আমার মতামত নেয়া হয়নি।

এ ঘটনায় সালিশের সভাপতি হাবিবুর রহমানকে বাদ দিয়ে গত বুধবার খলিল, আনোয়ার মৃধা, নুরু মাদবর, মোতালেব, জংশের আলী, জামাল, নুরুল হক, রাজ্জাক, জয়নালসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার সেকেন্ড অফিসার বেলায়েত হোসেন জানান কেউ বাদ পড়ে থাকলে সাক্ষীর ভিত্তিতে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

[ad#co-1]