মুন্সীগঞ্জে কাবিখার রাস্তা নির্মাণে পুকুরচুরি

টঙ্গিবাড়ী উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে কাবিখার রাস্তা নির্মাণে পুকুর চুরি হয়েছে। মফজল ছৈয়ালবাড়ি জামে মসজিদ থেকে শাহী রোড গুদারাঘাট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পটির সামান্য কিছু কাজের পাশের অন্য রাস্তা দেখিয়ে সাড়ে ১৮ টন চাল উঠিয়ে লোপাট করা হয়েছে। প্রায় ৩ শ’ মিটার দীর্ঘ এই রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের এ অবস্থায় প্রশাসন বিব্রতকর অবস্থায পড়েছে। টঙ্গিবাড়ী উপজেলা প্রশাসন জানায়, গ্রামবাসীর চাঁদা তুলে তৈরি করা নতুন রাস্তা দেখিয়ে পুরো চালই উঠিয়ে নিয়েছে। ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর প্রকল্পটির চেয়ারম্যান স্থানীয় ইউপি মেম্বার দেলোয়ার মাস্টারকে উপজেলায় তলব করা হয়। কিন্তু সদর উপজেলার বছিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিৰক এ মেম্বার এখন প্রশাসনকে এড়িয়ে চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল জলিল জানান, গ্রামবাসীরা আড়াই লাখ টাকা খরচ করে যে রাসত্মাটি করেছে সেই রাসত্মাটিকেই কাবিখার রাসত্মা দেখিয়েছে, গ্রামবাসীদের এই টাকা আদায়ের জন্য তাকে আর এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মেম্বার দেলোয়ার মাস্টার আমতা আমতা করে বলেন, ‘সাড়ে ১৮ টন চাল বিক্রি করে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে, পুরোটাই রাসত্মায় লাগানো হয়েছে।’ কোথায় সেই রাসত্মা? এই প্রশ্ন করতেই থেমে গিয়ে বলেন, ‘গ্রামবাসীরা যেটা করেছে সেটাই প্রজেক্ট ঘুরিয়ে দিয়েছি, গ্রামবাসীদের অনুরোধে।’ অন্যদিকে সমাজের ব্যক্তিত্ব মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ হাবিবুর রহমান জানান, পুরো গ্রামবাসীদের মতামত উপৰে করে মসজিদের দৰিণ পাশ দিয়ে কৃষি জমির ওপর দিয়ে মাটি ফেলে কিছু এলাকা রাসত্মা করে। এর প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা নিজস্ব শ্রম ও চাঁদা দিয়ে মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে ‘কান্দিবাড়ি জামে মসজিদ থেকে শাহী রোড গুদারাঘাট পর্যনত্ম সড়ক নির্মাণ করে।’ কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়নের এ প্রকল্পটির সদস্য ছিলেন ইয়াকুব মাল ও সোহরাব মাল। তাদের কোনভাবে না জানিয়েই কোন স্বাৰর বা যোগাযোগ ছাড়াই পছন্দের লোক নিয়ে প্রকল্পের সভাপতি দেলোয়ার মাস্টার এই অপকর্মটি করেছে। এ অপকর্মের সঙ্গে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন জড়িত বলেও গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে এ ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব মাল জানান, রাসত্মাটি বাড়ির পাশ দিয়ে গেলে ৫ শ’ লোক উপকার ছাড়াও বহু ফসলী জমি রৰা পেত। আর যুগ যুগ ধরে এভাবেই রাসত্মাটি চলে আসছিল। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তির এই অর্ধ সহস্রাধিক মানুষ তথা ৫০টি বাড়িকে রাসত্মা থেকে বঞ্চিত করতে চকের মাঝ দিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করে। এতে ৰোভে ফেটে পড়ে কান্দিপাড়ার নিরীহ অধিবাসীরা। তাতেও কোন কাজ না হওয়ায় যারা টাকা দিতে পারেনি, তারা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন আর আড়াই লাখ টাকা তুলে রাসত্মা তৈরি করেছেন। এখন সেই রাসত্মা দেখিয়ে সরকারী চাল আত্মসাতের ঘটনায় পুরো এলাকা ফুঁসে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেলোয়ার হোসেন নামের ওই মেম্বার নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে এলাকায় নানা অপকর্ম করছে। তবে দেলোয়ার হোসেন মেম্বার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গ্রামবাসীরা তদনত্মের মাধ্যমে এই অপরাধের বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টানত্ম সৃষ্টির দাবি করেন।

[ad#co-1]