‘বিক্রমপুরে আমার দাদাবাড়ি’

বলিউডের শিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল গাইতে এসেছিলেন বাংলাদেশে। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রবিউল ইসলাম জীবন, ছবি তুলেছেন নয়ন কুমার
বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে?
আগেও এসেছি। এ দেশের সঙ্গে আমার অন্য রকম এক বন্ধন রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা বাঙালি। এখানকার শ্রোতাদের আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।

আগেরবার যখন এসেছিলেন তখনকার চেয়ে এবার কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েছে?
এবারের ঢাকাকে তখনকার চেয়ে অনেক উন্নত মনে হয়েছে। অনেক কিছুতেই পরিবর্তন এসেছে।

মায়ের কাছেই তো প্রথম গান শিখেছিলেন।
হ্যাঁ। আমার মা-ও গানের মানুষ। তাঁর কাছেই আমার গানের হাতেখড়ি। তিনিই আমার প্রথম গুরু। বয়স যখন চার তখন থেকেই মা আমাকে হারমোনিয়াম ধরা শেখাতেন। (শ্রেয়া ঘোষালের পাশেই ছিলেন তাঁর বাবা। এবার বাবাকে দেখিয়ে বললেন) আর সব সময় উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন আমার বাবা।

অনেক ভাষার গান জানেন। কোন ভাষায় গাইতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন?
হিন্দি, বাংলা ও ইংরেজি_এ তিনটি ভাষা ভালো জানি। আমার জন্ম কলকাতায়। দুই মাস থেকে ১৩ বছর পর্যন্ত ছিলাম রাজস্থান। তারপর আবার মুম্বাই। সব মিলিয়ে আমার অবস্থা বলতে পারেন খিচুড়ি। তাই কথা বলার সময় মাঝেমধ্যে গুলিয়ে ফেলি। অনেক সময় এক ভাষায় কথা বলার সময় আরেকটা চলে আসে। হিন্দিতে গাইতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ছোটবেলা থেকেই এ ভাষায় কথা বলছি।

২৭ মে অনুষ্ঠানে যখন নজরুলসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীত গাইছিলেন, শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে শুনছিল। এই দুই কবিকে নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন?
দুজনই আমাদের গর্ব। রবীন্দ্রনাথের গানে অনেক রোমান্স আছে। নজরুলের গান যুগ থেকে অনেক এগিয়ে মনে হচ্ছে। দুজনের গানেই অনেক গভীরতা। তবে যেগুলো আমি গাই সেগুলো বুঝি। উপভোগও করি।

এখানকার লালন বা বাউল গানের কথা শুনেছেন?
শুনেছি। ইচ্ছা আছে গাওয়ার। আমার মনে হয় এগুলোর জন্য অনেক আবেগ দরকার। জীবনের অভিজ্ঞতা দরকার।

২৮ মে বিক্রমপুর বেড়াতে গিয়েছিলেন?
হ্যাঁ। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, বিক্রমপুরে আমার দাদাবাড়ি। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের আগে তিনি কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন। বিক্রমপুর এলাকাটি কেমন, দেখতে গিয়েছিলাম।

মঞ্চে গান করার সময় কোন বিষয়টি প্রাধান্য দেন?
সুর, তাল, লয়। গাওয়ার সময় বিষয়গুলো মাথায় রাখি। এক্সপ্রেশনে মনোযোগী থাকি। আলাদা এক্সপ্রেশনই শিল্পীকে সবার চেয়ে আলাদা করে।

গায়িকা না হলে…
ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার হতাম। বাবা ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। মেডিক্যালে পড়ারও চিন্তা ছিল। তবে এসব হতে গেলে যে কনসেনট্রেশন লাগে আমার তা নেই।

গান ছাড়া আর কী করেন?
গান-ই তো করি (হেসে)। তা না হলে বই পড়ি। গান শুনি। খেতে বেশ পছন্দ করি। ইলিশ, পাবদা খেয়ে দারুণ মজা পাই। ইদানীং রান্না শেখার চেষ্টা করছি।

কার কার বই বেশি পড়া হয়?
ভারতীয় লেখকদের বই-ই আমাকে বেশি টানে। ঝুম্পা লহিড়ি, চিত্রা ব্যানার্জি প্রমুখের লেখা আমাকে বেশ ভাবায়। তবে অনেক দিন ধরে সেভাবে বই পড়া হয়নি। এখন তো সারা দিন কম্পিউটার নিয়েই পড়ে থাকি।

[ad#co-1]