লায়লা হাসান ও জ্যোৎস্না বিশ্বাস সংবর্ধিত

বগুড়ায় আমরা ক’জন শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে দুই দিনের নৃত্য উৎসব শেষ হলো রবিবার সন্ধ্যায় শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে। উদ্বোধনী দিনে একুশে পদক প্রাপ্ত দেশ বরেণ্য নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসানকে এবং শেষ দিনে যাত্রাশিল্পী জ্যোৎস্না বিশ্বাসকে স্বর্ণখঁচিত মুকুট পরিয়ে দিয়ে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এই উৎসবের আগে আমরা ক’জন শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুস সামাদ পলাশ প্রেস কনফারেন্স করে আয়োজনের যতটা ঢাক পিটিয়েছিলেন দর্শক তার অর্ধেক পায়নি। তিলে তিলে গড়ে ওঠা এই শিল্পীগোষ্ঠী একটু সিরিয়াস হলে অনেক কিছুই দিতে পারত। কথা ছিল এবারের আয়োজনে দেশের প্রথিতযশা নৃত্যশিল্পীরা আসবেন। এসেছেন হাতেগোনা কয়েকজন। উৎসবের দু’দিন দিনের বেলাতেও নাচের বিষয়ে আলোচনা, সাংস্কৃতিক ধারার ওপর অনুষ্ঠানসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। দু’দিন সন্ধ্যায় সংবর্ধনা ও কয়েকটি গোষ্ঠীর নৃত্যানুষ্ঠান ছাড়া কিছু ছিল না।

অনুষ্ঠানও সময়মতো হয়নি। দর্শকদের ক’জন বললেন, এই গোষ্ঠী কোন দিনই সময়মতো অনুষ্ঠান করতে পারেনি। উৎসবে এসেছিল রংপুর, পাবনা, দিনাজপুর, নাটোর ও সিরাজগঞ্জের নৃত্য গোষ্ঠী। নৃত্য ছন্দম আর্টস একাডেমি, নৃত্য মন্দির, সপ্তস্বর নৃত্য একাডেমি, ছন্দে আনন্দ নৃত্য নিকেতন, সোনাতলা সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়। উৎসব উদ্বোধন করেন বগুড়ার প্রবীণ শিক্ষাবিদ তাজমিলুর রহমান। দুই দিনের উপস্থাপনায় ছিলেন আব্দুল মোবিন জিন্নাহ ও মৌসুমী বিশ্বাস। উপস্থাপনার মধ্যে আয়োজক গোষ্ঠীর সভাপতি হুট করে ঢুকে পড়ে তার অতিকথন বিরক্তির উদ্রেক করে। বিদেশি সংস্থায় কর্মরত একজন ফটো সাংবাদিক বললেন, আমরা ক’জন শিল্পী গোষ্ঠীর অনুষ্ঠান ১০/১২ বছর আগে যা দেখেছেন এখনও তাই দেখছেন। এদের নাচের অনুষ্ঠানের ছবি তুলতে কোন ফ্রেম ঠিকমতো পাওয়া যায় না। মাস কয়েক আগে ভারতের একটি সাংস্কৃতিক দল নৃত্যনাট্য পরিবেশন করে গেল বগুড়ায়। মঞ্চে তাদের অসাধারণ পারফরমেন্স, ফ্রেমিং কত নিখুঁত। ওরা সব দিকেই দৃষ্টি দেয়। তাদের দেখেও তো শেখা যায়।

[ad#co-1]