অনন্ত বিদ্রোহী মোসাফির মানিক মিয়া

ফয়েজ আহমেদ
এডিটর তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ারও তখন হাটখোলার রোডে ইত্তেফাকের অফিসে বসার কোন চেয়ার-টেবিল ছিল না। আমরা যে কয়েকজন সাংবাদিক প্রাথমিকভাবে নিয়োজিত হয়েছিলাম বিভিন্ন পদে, তারাও একটা ধার করা টেবিলে বসতে শুরু করি। শ্রদ্ধেয় মানিক মিয়া সাহেব প্রথম দিন এসে হাটখোলা রোডের প্রেস মালিকের চেয়ারে বসে পড়লেন। তিনি আসার আগে আমরা কয়েকজন নবনিযুক্ত সাংবাদিক উপস্থিত ছিলাম। আমাদের জন্য ছিল একটা ছোট্ট টেবিল। তাও সেই প্রেসের। হাটখোলা রোডের এই অফিসকে বলা হতো ইত্তেফাকের অস্থায়ী অফিস। প্রেসের মালিক ছিলেন অমায়িক, অত্যন্ত ভদ্র ও সহানুভূতিশীল।

মানিক মিয়া এসেই বললেন- এই টেবিলে বসেন। আমি তার মুখোমুখি বসলাম। এই পত্রিকার নিউজ এডিটর তখনও জয়েন করেননি। যার নিউজ এডিটর হওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়, তার নাম আব্দুল কাদির। তিনি একদিনও আনুষ্ঠানিকভাবে ইত্তেফাকে নিউজ এডিটর হিসেবে বসেননি। তিনি এক লেবার লিডারের পত্রিকায় শ্রমিকদের নেতৃত্ব দিতেন। উক্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মানিক মিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই শ্রমিক নেতৃত্বের কারণেই তিনি ইত্তেফাকে যোগদান করেননি।

১৯৫৪ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে দৈনিক আজাদের বিখ্যাত সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে ইত্তেফাকের নিউজ এডিটর করা হয়। আজাদ থেকে সিরাজের অব্যাহতিরও এক রাজনৈতিক কাহিনী আছে। যা হোক, ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর মানিক মিয়া হাটখোলার রোড অফিসে আসলেন ইত্তেফাকের সম্পাদক হিসেবে সকাল দশটায় এক রিকশাযোগে। আমরা অনেকেই উপস্থিত ছিলাম। আমি এই কাগজে আসি ‘সংবাদ’ থেকে। আমাকে রিপোর্টার নিযুক্ত করা হয়- একমাত্র রিপোর্টার। আমি রিপোর্টের সর্বময় কর্তৃত্ব করি। অথচ জুনিয়র ব্যক্তি। সাব এডিটরদের ভেতরে আমারই কয়েকজন বন্ধু আসলেন, যারা সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। এমনকি প্রধান কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদও আমার বন্ধু। তিনি ছাত্রলীগের সেক্রেটারী। আরেকজন এলেন পরিচ্ছন্ন পোশাকে। তার নাম আব্দুল আওয়াল। তিনি ছিলেন ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট। সাব এডিটরদের মধ্যে একজন ছিলেন খুলনার। তিনি পরে ওকালতি করতেন। সবার নাম মনে নেই বলে আমি দুঃখিত। কিন্তু এম আর আখতার মুকুলকে তো ভুলতে পারি না। তিনিও সাব এডিটর হিসেবে জয়েন করলেন আমাদের অল্পদিন পরে। এই হল সব শুদ্ধ স্টাফের অবস্থা। এমন একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা কিন্তু সবাই ছিলাম মুসলিম লীগ বিরোধী এক গোষ্ঠী। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ মানিক মিয়া যখন অফিসে প্রবেশ করলেন, তখন তার হাতে ছিল একগাদা লিখিত কাগজ। তিনি এসে চেয়ারে বসেই বললেন, ‘এই নেন আজকের রিপোর্ট।’ এই বলে তিনি আমার দিকে ছুঁড়ে দিলেন হাতে লেখা রিপোর্টের একটি বান্ডিল। এই লেখাটার যেন শুরু ছিল না, শেষও ছিল না। পড়ে শোনার পর তিনি বললেন, ‘এখন এটাকেই শোষক মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে মেইন রিপোর্ট হিসেবে দাঁড় করান।’ আমি খণ্ডিত ও অসম্পূর্ণ একটা হাতে লেখা রিপোর্ট পেলাম। তিনি বোধ হয় অন্যকে দিয়েও এ লেখাটা বড় করেছিলেন। এই অসম্পূর্ণ রচনাটিকে দীর্ঘ করার দায়িত্ব পড়ল আমার ওপর।

আগেই বলেছি, এই প্রেস অফিসের প্রধান টেবিলের প্রধান চেয়ারে বসলেন মানিক মিয়া। আমাকে বলা হল উল্টো দিকে বসতে এবং বললেন- আপাতত এভাবেই কাজ চলবে। রাজনৈতিকভাবে দেশের পরিস্থিতি তখন ছিল উত্তপ্ত। ঘোরতরভাবে মারমুখী। একটিও লোককে আমরা রাস্তাঘাটে পাই না যারা মুসলিম লীগকে সমর্থন করেন। এমন পরিস্থিতিতে মানিক মিয়ার অসম্পূর্ণ রচনাকে পূর্ণ করার দায়িত্ব আমাকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও নিতে হল। মানিক মিয়া সন্ধ্যার আগে আবার অফিসে এলেন। এসেই আমার কাছে পরিপূর্ণ রিপোর্টটি চাইলেন এবং বললেন- এটা হবে আজকের প্রধান রিপোর্ট। কিছুক্ষণ পর আমার কাছ থেকে রিপোর্টটা নিয়ে তিনি দুটো শব্দ হেডিং হিসেবে লিখলেন- ‘মুসলীম লীগের নাভিশ্বাস’। এই লেখার আগাগোড়া পাঠের পর থেকেই আমার মাথা ঘুরছিল- কি হেডিং করবো। কিন্তু মানিক মিয়া দু’শব্দেই তার সমাধান দিলেন। তিনি ঢাকাতে কোন দৈনিক কাগজে কাজ করেননি ইতিপূর্বে। সাপ্তাহিক ইত্তেফাক চালিয়েছেন দীর্ঘদিন নিজ হস্তে। এই তার অভিজ্ঞতার পরিপূর্ণতা। তার কাছ থেকে এমন একটি বহু তত্ত্বসম্বলিত রিপোর্টের হেডিং বেরিয়ে আসল মাত্র দু’কথায়।

মানিক মিয়ার এই দীর্ঘ রিপোর্টে চল্লিশের রাজনীতি ও পাকিস্তান শাসকদের কুকীর্তির ইতিহাস বর্ণিত, হয়েছিল। সেই থেকে মানিক মিয়ার লেখার ধরন, শব্দপ্রয়োগ ও নানা ধরনের অভিব্যক্তি তার মুসাফিরের কলামে প্রকাশিত হতে থাকে। এই বিপ্লবাত্মক কলামের পূর্বসূরী ছিল ইত্তেফাকের প্রথম রিপোর্ট। রাত দশটায় গৃহে প্রত্যাবর্তনের পর সে দিন রাতে মানিক মিয়া আবার এসেছিলেন ইত্তেফাক অফিস বা প্রেসে। রাতে তিনি হেডিংয়ের প্রুফ টানলেও তখনকার দিনে ঢাকার অফসেট কোন প্রেসে আটিস্ট দিয়ে লিখিয়ে হেডিং করা সম্ভব ছিল না। তাই আমরা সে সময় ব্যবহার করতাম কাঠের টাইপ। কাঠের টাইপেই লাল রঙে লেখা হল- মুসলিম লীগের নাভিশ্বাস।

সকালে এমন একটা জমকালো ও চোখ ধাঁধানো হেডিং দেখে পাঠক সম্প্রদায় অবাক হয়ে গেল। সেদিন অধিকাংশ হকাররা ইত্তেফাক অফিস থেকে কাগজ নিয়ে বের হতে পারেননি। প্রথম দিন গেটের কাছেই সমস্ত কাগজ বিক্রি হয়ে গেল। সেদিন ঢাকা শহরে হকারদের চিৎকারে একটাই কথা শোনা গেছে- মুসলিম লীগের নাভিশ্বাস। সেদিন ছিল ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৩। সেদিনই মানিক মিয়ার অভ্যুদয়। সেদিনই মানিক মিয়ার জন্ম।

ইত্তেফাক পত্রিকাটি আজও আমাদের উৎফুল্ল করে, উত্তেজিত করে, আমাদের ভূমিকা অবলম্বনের আহবান জানায়। বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলন ও স্বাধীনতাযুদ্ধে এই পত্রিকার অবদানের কথা লিখে শেষ করা যাবে না। সরকারি নির্দেশে বন্ধ ইত্তেফাকও যেন সর্বদা বাংলার পাঠকের কাছে মুখরিত ছিল।

আমি আর মিনিক মিয়া শেষ পর্যন্ত একই টেবিলে বসি। ফলে তার সাথে আমাদের প্রত্যেক স্টাফের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বৃদ্ধি পেতে থাকে। আমাদের বেতন কম। কিন্তু হৃদয়ের সম্পর্ক ছিল অসাধারণ গভীর। আমাদের প্রত্যেক সাংবাদিকের রাজনীতির দিকটি ছিল মুসলিম লীগ বিরোধিতা এবং আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য প্রগতিশীল পার্টিকে সমর্থন করা। এই রাজনীতির নীতিমালা মানিক মিয়া আমাদের শেখাননি। তার চরিত্র ও মানসিকতার সাথে আমাদের রাজনীতির সম্মেলন ঘটেছিল। স্টাফের প্রত্যেক সাংবাদিকই এমনকি কর্মচারীরাও মানিক মিয়ার সাথে একাত্মতা বোধ করতেন। এমন অবস্থায় পত্রিকার শ্রীবৃদ্ধি ও উন্নয়ন ছাড়া আমাদের আর কিছুই ভাবার ছিল না। একদিনও মানিক মিয়ার সাথে আমার কোন রাজনৈতিক মতামতের দ্বিমত ঘটেনি।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন আরো ঘোরতর হতে থাকে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়। সে সময় ৩৪টি আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নুরুল আমিন সরকার সেই নির্বাচন দেননি। কারণ তারা হেরে যেতেন। নিশ্চিতভাবেই হারতেন। এমন সময় কেন্দ্রীয় সরকার বজ্রপাতের মত বাঙালিদের রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। হক সাহেবের নেতৃত্বে প্রথম যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। তারপর আসে আবু হোসেন সরকার। সমগ্র পাকিস্তানের রাজনীতি এমন ঘোলাটে হয়ে দাঁড়ায় যে, তখন আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করে মুসলিম লীগের পাকিস্তান কর্তৃত্ব করার কোন উপায় ছিল না। কেন্দ্রীয় সরকারের ধারণা জন্মাল যে, ’৫৪ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনায় পূর্ব পাকিস্তান হয়তো অন্য কোন পথ অবলম্বন করতে পারে। তারা দেখল, এত বড় নির্বাচনে মাত্র ৯ জন মুসলিম লীগার পাস করেছে। এই অ্যাবসুলেট মেজরিটি যুক্তফ্রন্টকে এমন এক শক্তিশালী পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল যে, তখনই পূর্ব পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ধারণের পথ অনেকে খুঁজছিলেন।

সে সময়ই ৩০ মে ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বাতিল করে দিয়ে বাংলাদেশে ৯২-ক ধারায় গভর্ণেন্স রুল জারি করা হয়। এই রুলস অনুযায়ী গভর্ণরের হাতে ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সমস্ত ক্ষমতা অর্পিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের সমস্ত অর্জিত শক্তি, সদ্য নির্বাচন-সবকিছুকে নিক্ষেপ করে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সমগ্র কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে নিল। এতদঞ্চলের জনগণকে আধিপত্য ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হল পরিপূর্ণভাবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা ফজলুল হককে গৃহবন্দী করা হয়। তাঁর কেবিনেট বাতিল করা হয়। সমস্ত শক্তি ও অধিকার কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দিয়ে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে একজন জেনারেলকে পূর্ব পাকিস্তানে গভর্ণর নিযুক্ত করা হয়। তার নাম মেজর জেনারেল ইস্কানদার মির্জা। এ সময় ঢাকার পত্রিকাগুলোকে স্বাধীনভাবে প্রকাশিত হতে দেয়া হয়নি। ইত্তেফাকও সে সময় কেন্দ্রীয় সরকারের খড়গেরই নিচে ছিল। ইস্কান্দার মির্জা ক্ষমতায় বসেই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নানারকম হুমকি দিতে শুরু করেন এবং প্রকাশ্য রাজনীতি বন্ধ হয়ে যায়। একব্যক্তির (গভর্ণর) হাতে কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত ক্ষমতা দিয়ে বাংলাদেশ শাসন করতে থাকে। সে অবস্থায় সামরিক ব্যক্তি এই ইস্কান্দার মির্জা দু’দিনের মধ্যেই বাংলাদেশের সমস্ত কক্ত স্তব্ধ করেন। হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী কারাগোরে নিক্ষিপ্ত হন। অনেকে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। কেন্দ্রীয় সরকার প্রকৃতপক্ষে প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করতে থাকে। এভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন অনয়নের চেষ্টা করে। সমস্ত রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পূর্ব পাকিস্তানকে কার্যত রাজনৈতিক শূন্য করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে।

এ সময় দৈনিক ইত্তেফাক দোদুল্যমান অবস্থার মধ্যে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। এক কঠিন বৈরি অবস্থার মধ্যে মানিক মিয়া পত্রিকাটিকে তার বক্তব্যসহ বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। কোন সময়ই মানিক মিয়া এই গভর্ণেন্স রুল বা নির্যাতনমূলক শাসনের কাছে মাথানত করেননি। তিনি তাঁর বক্তব্যে সুস্পষ্ট ছিলেন এবং সর্বদাই বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলেছেন। সেই যুদ্ধ অবস্থার মধ্যেও তিনি আকার-ইঙ্গিতে বলতে চেয়েছেন বহুবার যে, পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তখনই টাকার মূল্যের অবমূল্যায়ন শুরু হয়। তখন থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় পূর্ব পাকিস্তানে সোনার মূল্যে তফাৎ দেখা দেয়। সে সময় থেকে শুরু হয় বাংলাদেশের অর্থে পশ্চিম পাকিস্তানকে পরিপুষ্ট করার চেষ্টা।

তখন মওলানা ভাসানী ছিলেন ইউরোপে। তিনি আতাউর রহমান খানসহ ৬ জন প্রতিনিধি স্টকহলমের বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন। তিনি সে সময় দেশে ফিরে আসতে পারেন নি। ১৯৫৪ সালের মে মাসে সম্মেলনে যোগদানের পরই প্রথমে তিনি লন্ডনে ছিলেন। তখন ইস্কান্দার মির্জা বলেছিলেন, ‘যদি মাওলানা ভাসানী এ সময় দেশে প্রত্যাবর্তন করেন, তাহলে আমি তাকে গুলি করার জন্য সেনাবাহিনীর দক্ষ হাবিলদারকে বিমানবন্দরে পাঠাবো।’ এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকার পথে রওয়ানা হয়ে কোলকাতা পর্যন্ত আসেন। পরে ঢাকায় ফেরেন ১৯৫৫ সালের এপ্রিল মাসে। ইত্তেফাক এ সময়টায় জনগণের অধিকার ও কল্যাণের জন্য যে ভূমিকা গ্রহণ করেছিল এবং তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মুসাফিরের কলামে যে বক্তব্য প্রকাশিত হত তা ছিল শ্রেষ্ঠ দ্রোহের ভূমিকা। সেই ভূমিকাই ইত্তেফাককে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে। আমি সে সময় ১৯৫৪ সালের নভেম্বর মাসে ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক যুবসম্মেলনে যোগদানের জন্য বিনা পাসপোর্টে গোপনে দেশত্যাগ করেছিলাম। মানিক মিয়াই একমাত্র আমার এই গোপন দেশত্যাগ সম্পর্কে জানতেন। দুর্যোগপূর্ণ রাজনীতির মধ্যে আমি যখন ১৯৫৫ সালের মাঝামঝিতে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করি তখন মানিকমিয়ার সাথে তার বাড়িতে আমি একা রাতে দেখা করি। তিনি আমাকে সাত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘ইত্তেফাক ও দেশকে যদি ভালবাসেন, তাহলে এই মুহূর্তে এই কাগজে প্রত্যাবর্তন না করাই বাঞ্ছনীয়।’ তখন আমি দৈনিক সংবাদে চিফ রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করি।

লেখক: প্রবীণ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক

[ad#co-1]