দাঁতের চিকিৎসা নিতে এসে লাশ হলেন হালিমা বেগম

গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) দাঁতের চিকিৎসা করাতে এসে এক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীর আত্মীয়রা ময়নাতদন্ত না করিয়ে লাশ নিয়ে যাওয়ায় মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএসএমএমইউ দন্ত বিভাগে গতকাল দাঁত তুলতে এসে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন হালিমা বেগম (৪৫)। রাজধানীর শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা হালিমা মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আফজাল হোসেনের স্ত্রী। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে হালিমার ছেলে আশরাফুল ইসলাম কাজল সাংবাদিকদের বলেন, তার মা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী হওয়া সত্ত্বেও দাঁত তোলার আগে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়নি।

জানা গেছে, দু’মাস ধরে বাম গালের নিচের পাটির দাঁতের মাড়ির সমস্যায় ভুগছিলেন হালিমা। কয়েক দিন আগে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা বিএসএমএমইউতে যেতে বলেন। গতকাল হাসপাতালের এ ব্লকের চারতলার ৫নং কক্ষে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রোকন লোকাল এনেসথেসিয়া দিয়ে দাঁত তুলে ফেলেন।
দন্ত বিভাগের একজন প্রত্যক্ষদর্শী কর্মচারী জানান, দাঁত তোলার পরই হালিমা তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলে চিকিৎসক কাজলকে দ্রুত দুটি ইনজেকশন নিয়ে আসতে বলেন। ইনজেকশন আনতে আনতে তীব্র যন্ত্রণায় রোগী অজ্ঞান হয়ে যান। এ সময় চিকিৎসকরা হালিমাকে দ্রুত ডি ব্লকের নিচতলায় হৃদরোগ বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, হালিমার আগেই মৃত্যু হয়েছে।

কাজলের অভিযোগ, চরম প্রয়োজনের মুহূর্তে নিকটবর্তী স্থানে তিনি কোনো ট্রলি পাননি। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা দ্রুত তার মাকে হৃদরোগ বিভাগে নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তাটুকুও করেননি।

এদিকে অবহেলায় হালিমার মৃত্যুর সংবাদ শুনে আত্মীয়রা হাসপাতালে ছুটে আসেন। তারা দন্ত বিভাগের চিকিৎসকদের শাস্তি দাবি করেন। এ সময় দন্ত বিভাগে গেলে তালা লাগিয়ে কর্মরত সবাই পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল মজিদ ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শামসুল আলম সমকালকে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসায় অবহেলা হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে অধ্যাপক আবু সফি আহমেদ আমীনকে আহ্বায়ক এবং ডা. নাজমুল করিমকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসে প্রতিবেদন হাতে আসবে।

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ বাড়ছেই : এ ধরনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির নজির এখনও নেই। গত ১৪ মে ঢামেক হাসপাতালে অবহেলার কারণে বজলুর রহমান নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাংচুর চালায় স্বজনরা। গত ২ এপ্রিল মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে তিন শিশুসন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর একই রকম অভিযোগ উঠেছিল। গত ২ জানুয়ারি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা সাঈদ নামে এক রোগীর অপচিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) সূত্র মতে, এ ধরনের অভিযোগ মাঝে মধ্যে জমা পড়লেও রোগীর স্বজনরা পরে আর যোগাযোগ করেন না।

[ad#co-1]