আসন্ন বাজেট : জাপান প্রবাসী বিজনেস ফোরাম নেতৃবৃন্দের প্রত্যাশা

উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান নিয়ামক খাতের অন্যতম প্রধান খাত হচ্ছে পরিবহন খাত। এই পরিবহন খাতের ক্রমবিকাশে যে সকল সংস্থা বা সহযোগী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে আসছে তার মধ্যে রিকন্ডিশন্ড মোটর গাড়ি ব্যবসায়ীদের ভূমিকা অন্যতম। দীর্ঘ দুই দশক যাবৎ নিবেদিত প্রাণ হিসেবে জাপান প্রবাসী রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা নিরন্তর অবদান রেখে আসছেন।

আশির দশকের শুরুতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রিকন্ডিশন্ড যানবাহন আমদানি সূচিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম সকল সেক্টর বিশেষ করে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা, অমিত সম্ভাবনাময়ী কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, তথ্য-প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের আয়তন বৃদ্ধিতে রিকন্ডিশন্ড মোটরযানের অংশগ্রহণ ও সংশ্লিষ্টতা সব সময়ে স্বীকৃত হয়ে আসছে। অথচ বিভিন্ন সময় সব সরকারই বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করে এই সেক্টরটিকে অস্থির করে রেখেছে।

জাপানে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী ব্যবসায়ীদের সিংহভাগই হচ্ছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ী। শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীর অনেক দেশেই গাড়ি জাপান থেকে রপ্তানি করছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। একাধিক দেশে রয়েছে তাদের নিজস্ব শোরুম, এই ধরনের প্রবাসী বাংলাদেশি রপ্তানিকারক রেজিস্টার্ড প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২শ। এই সকল প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করছে এবং বাংলাদেশে নিয়মিত রেমিট্যান্স করছে। নিজেরা সচ্ছলভাবে চলছে, পরিবারের সচ্ছলতা আনছে।

জাপানের গাড়ি কোম্পানিগুলোর মধ্যে TOYOTA, NISSAN, MAZDA, HONDA, MITSUBISHI, SUBRARU প্রধান। তার মধ্যে বাংলাদেশে TOYOTA এবং NISSAN খুবই পরিচিত। জাপানের গাড়িগুলো টেকসই, আরামদায়ক, স্বল্প তেলে চলে এবং পরিবেশবান্ধব। গ্লোবাল ওয়ার্কিংয়ের বর্তমান সময়ে যা খুবই অপরিহার্য। রিকন্ডিশন্ড আভিধানিক অর্থ পুরনো হলেও জাপানের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি বাংলাদেশে আমদানিকৃত পার্শ্ববর্তী যে কোনো দেশের নতুন গাড়ির চেয়ে টেকসই ও আরামদায়ক এই কথা নির্দ্বিধায় গ্যারান্টি সহকারে বলা যায়। তবে বাংলাদেশে রিকন্ডিশন্ড কার বলতে এক বাক্যে সবাই প্রাইভেট কারকে বুঝে থাকে।

রিকন্ডিশন্ড প্রাইভেট কার বাদেও জাপানের কনস্ট্রাকশন কাজে ব্যবহৃত হেভি, মাঝারি এবং ক্ষুদ্র ইকুইপমেন্টের সুনাম বিশ্বজুড়ে রয়েছে। জাপান প্রবাসী ব্যবসায়ীবৃন্দ নব্বই দশক থেকে বেশ সুনামের সঙ্গে জাপানি নতুন ও পুরনো কার, বাস, ট্রাকের পাশাপাশি নির্মাণ ও উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত শক্তিশালী মেশিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে আসছে। এ ছাড়াও দুর্গত এলাকায় জরুরি সুপেয় পানি সরবরাহ করার জন্য অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি ট্যাঙ্ক, লরি, দূরদূরান্তে অত্যন্ত আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য জাপানের বড় লাক্সারি বাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে আসছে। অনেক উন্নত দেশেও প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা তাদের নিজস্ব শোরুম রেখে রপ্তানি করে আসছে।

এ ছাড়া অনেক উন্নয়নশীল দেশ সরকারিভাবে জাপানের রিকন্ডিশন্ড এই গাড়িগুলো আমদানি করে অথবা আমদানি করার সুযোগ দিয়ে সরকারি এবং বেসরকারিভাবে সাধারণ জনগণের চিকিৎসা সেবা, দৈনন্দিন জীবনের গতিময়তা, আকস্মিক বিপদে উদ্ধার, দুর্গম এলাকা দুর্গতদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, ওষুধ, পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহারের জন্য এসব গাড়ি এবং যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে উন্নত হয়েছে। অনেক উন্নত দেশগুলোও এসব গাড়ি এবং যন্ত্রাংশ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

উন্নত দেশগুলোর মধ্যে এশিয়ার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, চীন, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, সৌদি আরব, কুয়েত, জর্দান, ইরাক, ইরান, কাতার, লিবিয়া এবং ইসরাইল। আফ্রিকার কেনিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া এবং মিসর। ইউরোপের ব্রিটেন, আইসল্যান্ড, সাইপ্রাস, হল্যান্ড এবং মাল্টা। উত্তর আমেরিকার আমেরিকা, কানাডা, মেক্সিকো। দক্ষিণ আমেরিকার ত্রিনিদাদ এ্যান্ড ট্যোবাকো, সুরিনাম, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, চিলি, ব্রাজিল, বলিভিয়া এবং পেরু। অস্ট্রেলিয়ার অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি ও অন্যান্য দেশ তাদের নির্মাণ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, দুর্ঘটনায় উদ্ধারসহ জনসেবামূলক কাজে জাপানের এই সব গাড়ি এবং এ কাজে ব্যবহৃত হেভি মেশিনারি আমদানি করে থাকে।

বাংলাদেশ এখন বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সমস্যায় জনজীবন অতিষ্ঠ। ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ তো আরো ভয়াবহ। রাজধানী শহরের মানুষ এখন গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং পানির জন্য দিশেহারা। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে হঠাৎ ধসে পড়া কিংবা দেবে যাওয়া বিভিন্ন অট্টালিকা। ঝুঁকির মধ্যে আছে হাজার হাজার অট্টালিকা। ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প বাংলাদেশে হলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটবে, তাতে কারো কোনো সন্দেহ নেই। এ ছাড়াও বিল্ডিং কোড না মেনে এবং অপরিকল্পিত বাড়িঘর করার কারণে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানিসহ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে শুধুমাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নিতে না পারার কারণে। অন্য কথায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার কারণে। এই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র হেভি মেশিন যেমন KOMATSU, TADANU, KATU, KOBELCU, IHI, HITACHI ev SUMITOMO’র মতো মেশিনারিজ থাকলে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকেপড়াদের উদ্ধার করে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিদ্যুৎ সমস্যা বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারও হিমশিম খাচ্ছে পরিস্থিতি সামাল দিতে। ঘর্মাক্ত হচ্ছেন সরকারের কর্মকর্তারা। নতুন নতুন উদ্ভট সব আকাশকুসুম কল্পনা নিয়ে হাজির হচ্ছেন ব্যবসায়ীগণ। কনসালটেন্ট নিয়োগ দিয়েও সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। সৌর বিদ্যুতের নাটক জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে মিডিয়ার কল্যাণে। পৌনে ২ লাখ টাকা খরচ করে ১০০ ওয়াটের একটি বিদ্যুতের বাতি জ্বালানোর বিলাসিতা করা করও বহন করতে হচ্ছে জনগণের। বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা খরচ করে যে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে তাতে মাত্র ৮ কি.ওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। রিকন্ডিশন্ড জেনারেটর বাংলাদেশে আমদানির সুযোগ দিলে এবং ট্যাক্স ফ্রি করে দিলে শুধুমাত্র জেনারেটর আমদানির মাধ্যমে দেশে বিদ্যুৎ সমস্যার সাময়িক দ্রুত সমাধান সম্ভব। আসন্ন বাজেটে জেনারেটরের ওপর কর মওকুফ করে আমদানির সুযোগ দিলে রাজধানীসহ দেশবাসী উপকৃত হবে। মডেল 8DCG-TL-ঞখ-এর একটি জেনারেটর দিয়ে ১৭টি ৮ তলাবিশিষ্ট উঁচু ভবনের সর্বক্ষণিক বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব। জাপানে তৈরি দেড় টনি একটি ট্রাক সাড়ে দশ টনি বলেই রপ্তানি করা হয়। পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের একই ওজনের ট্রাককে ৩/৪ টনি বলে চালিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশে এক কোটি টাকা দিয়ে বাস কিনলে পার্টসের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে থাকে মাসের পর মাস। সুইডেন থেকে ভলভো বাস কেনা হয় উচ্চ দামে। তার অনেকগুলোই পড়ে আছে অকেজো হয়ে পার্টসের অভাবে। অথচ জাপানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এমডি, এস ইসলাম নান্নু জানালেন, ৫৬ সিটের একটি লাক্সারি বাস মাত্র ৩০/৩৫ হাজার ডলারে তারা রপ্তানি করছেন এবং এই বাসগুলোর পার্টস বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে যায় সবকিছু। নেই কোনো উন্নত ব্যবস্থা যা দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া যাবে। জাপানের ISUZU ELF FIRE FIGHTER ব্যবহার করে দ্রুত নেভানো সম্ভব। ভয়ঙ্কর আগুন নেভানোর কাজে MANLIFT ISUZU ELF ব্যবহারের বিকল্প নেই।

উঁচু বৈদ্যুতিক খাম্বা, বিলবোর্ড কিংবা টেলিফোন লাইনের খাম্বা মেরামত কাজে দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুবরণ বাংলাদেশে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। জাপানের গঅঘখওঋঞ ওঝটতট ঊখঋ ব্যবহার করলে এই সব দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে আসবে। দেশের প্রতিটি ফায়ার সার্ভিস অফিসে এই ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে বেসরকারি খাতেও সেবামূলক এই খাতকে ছেড়ে দিলে জনগণ উন্নত সেবা পাবে বলে জনাব নান্নু জানালেন। তিনি আরো বলেন, দেশে বিনিয়োগ করতে প্রবাসীরা উৎসাহী, সরকার বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে প্রবাসীরা বিনিয়োগ করতে পারছে না। তিনি শুধুমাত্র পরিবহন খাতে জাপান প্রবাসী ব্যবসায়ীরা কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। এই ক্ষেত্রে সরকারকে উদার হতে হবে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ওপর বিধিনিষেধ তুলে নিতে হবে।

এন কে ইন্টারন্যাশনাল (C.E.O. NK INTERNATIONAL)-এর কর্ণধার এমডি এস ইসলাম নান্নু জানান, শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সমস্যার সুযোগে মধ্যস্বত্ব ভোগীরা হাজার কোটি টাকা লুটে খাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে সুযোগ নিয়ে মহল্লার ফার্নিচারের দোকানদার থেকে শুরু করে সকলেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছেন। রেন্টাল, পিক ইত্যাদি নামে নানা ঢঙে ফন্দিফিকির করে ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। অথচ কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বাংলাদেশে বহু হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে সেসব বিল্ডিংয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সমস্যার সমাধানের পরামর্শ দিচ্ছেন। দাতাদের পরামর্শে উচ্চাভিলাষী এবং ব্যয়বহুল এই সৌরবিদ্যুৎ ঋণে জর্জরিত বাঙালি জাতির পক্ষে কতটা যুক্তিযুক্ত তা হয়ত ভবিষ্যৎ কোনো গবেষকের গবেষণার বিষয় হতে পারবে কিন্তু বর্তমান সমস্যায় কোনো কাজে আসবে না। সমস্যার দ্রুত সমাধান পেতে হলে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রবাসীরাও এই খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। আসন্ন বাজেটে সে সুযোগ দিতে হবে। সুনির্দিষ্ট ঘোষণা থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ২০০ থেকে ২৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জেনারেটর (রিকন্ডিশন্ড) জাপান থেকে বাংলাদেশে অর্থাৎ চট্টগ্রাম পোর্ট পর্যন্ত পৌঁছানো খরচ হবে ১০/১২ হাজার ডলারের মতো। বাজেটে যদি এটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয় তা হলে বড় বড় কর্পোরেট বিল্ডিং এই জেনারেটর ব্যবহার করবে। মার্কেটগুলোতে ব্যবহার করবে। স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর চাপ কমবে। লোডশেডিং কমে আসবে। মাত্র ৩০ মিনিট চার্জ পেলেই নিজে নিজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ফিরে পাবে এই জেনারেটর। জাপানের এ্যাম্বুলেন্সের কথাই ধরা যাক, জাপানে একটি কথা প্রচলিত আছে এ্যাম্বুলেন্সের ভেতর কেউ মারা যাবে না। অত্যন্ত আধুনিক সব যন্ত্রপাতি এবং সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই সব এ্যাম্বুলেন্স (রিকন্ডিশন্ড) স্বল্প দামে বাংলাদেশে প্রেরণ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের সেবা আরো উন্নত করা সম্ভব।

দিনবদলের স্বপ্ন দেখিয়ে বর্তমান সরকার বিপুল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আগামী বাজেট হবে বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় বাজেট। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে আগামী বাজেটে, এটাই কাম্য। কর্মক্ষেত্রের সুযোগ সৃষ্টি করা সরকারের অন্যতম কাজ। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও সরকারের কাজের অন্যতম ব্রত। প্রবাসী ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করতে চায়। চায় উন্নত বিশ্বের আলোকে স্বদেশে নাগরিক সুবিধা ভোগ করার সেবা দানের সুযোগ। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা আগামী বাজেটে তার প্রতিফলন কামনা করে।

‘সরকার অনুমোদন দিলে আমরা দেশে এ সব মেশিনের ঘাটতি পূরণে ১০০% সহযোগিতা করতে পারব’ -এমডি এস ইসলাম নান্নু
সত্ত্বাধিকারী, এন. কে ইন্টারন্যাশনাল

সাপ্তাহিক : প্রাইভেট কার ছাড়া আর কোন ধরনের গাড়ি পাঠানোর সুযোগ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
এমডি এস ইসলাম নান্নু : প্রাইভেট কার ছাড়াও নতুন ও পুরনো বাস, ট্রাক এবং নির্মাণ ও উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত অত্যন্ত শক্তিশালী মেশিন, বৈদ্যুতিক শক্তি পূরণের জন্য জেনারেটর পাঠানো সম্ভব।

সাপ্তাহিক : এ সব গাড়ি পাঠানোতে বাধা কোথায়?
নান্নু : সাধারণ জনগণের চিকিৎসা, সেবা, দৈনন্দিন জীবনের গতিময়তা এবং আকস্মিক বিপদে উদ্ধার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হেভি মেশিন এবং যন্ত্রাংশ সরকারি উদ্যোগ ও অনুমোদনে আমদানি করছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এ সব গাড়ি পাঠানোতে কোনো বাধা নেই। শুধু দরকার উদ্যোগ ও অনুমোদন।

সাপ্তাহিক : একটি বিল্ডিং ধসে পড়লে বা দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতির খুব অভাব বাংলাদেশে। এ ক্ষেত্রে আপনারা কোনো সহযোগিতা করতে পারেন কিনা?
নান্নু : বাড়ির আকস্মিক ধস, আগুন লাগা ইত্যাদি দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার কাজের জন্য শুধুমাত্র কিছু হেভি শক্তিশালী মেশিন যেমনÑ KOMATSU, TADANO, KATO, KABOLCO, KSI, HITACHI, SUMITOMO থাকলেই এ সব বিপদে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়া মানুষগুলোকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব। প্রায় দুই দশক ধরে এ সব হেভি মেশিনারি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সরকারি অনুমোদন ও উদ্যোগে আমাদের মাধ্যমে আমদানি করে আসছে। সরকার অনুমোদন দিলে আমরা দেশে এ সব মেশিনের ঘাটতি পূরণে ১০০% সহযোগিতা করতে পারব।

সাপ্তাহিক : বাংলাদেশে হেভি মেশিনারি/লরি/ট্রাক/বাস পাঠাতে পারেন কিনা?
নান্নু : হ্যাঁ, জাপানি যে কোনো ধরনের নতুন বা পুরনো মেশিনারি/লরি/ট্রাক/বাস আমরা পাঠাতে সক্ষম।

সাপ্তাহিক : জাপান থেকে পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে কি আপনারা হেভি মেশিনারি/গাড়ি/লরি পাঠান?
নান্নু : হ্যাঁ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন উন্নত দেশগুলোর মধ্যে এশিয়ার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, চীন, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, সৌদি আরব, কুয়েত, জর্দান, ইরাক, ইরান, কাতার, লিবিয়া এবং ইসরাইল। আফ্রিকার কেনিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, মিসর ও অন্যান্য দেশ। ইউরোপের ব্রিটেন, আইসল্যান্ড, সাইপ্রাস, হল্যান্ড, মাল্টা ও অন্যান্য দেশ। উত্তর আমেরিকার আমেরিকা, কানাডা, মেক্সিকো ও অন্যান্য দেশ। দক্ষিণ আমেরিকার ত্রিনিদাদ এ্যান্ড ট্যোবাকো, সুরিনাম, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, চিলি, ব্রাজিল, বলিভিয়া, পেরু। অস্ট্রেলিয়ার অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি ও অন্যান্য দেশ তাদের নির্মাণ, উদ্ধার, জনসেবা, চিকিৎসা, বৈদ্যুতিক শক্তি পূরণের জন্য আমদানি করে থাকে।

সাপ্তাহিক : জাপান থেকে বড় জেনারেটর দেশে আসলে কী পরিমাণ ব্যয় হতে পারে? বিদ্যুৎ উৎপাদনই বা কেমন হবে?
নান্নু : দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য জাপানি শক্তিশালী জেনারেটর আমরা কাজে লাগাতে পারি, বিদ্যুৎ প্রোডাকশনের ক্ষেত্রে একটা ইলেকট্রিসিটি প্রোডাকশন মডেল- SBOON-EH, পরিমাণ : ২২৫ কেভিএ, শক্তি : ৬৬০০ ভি, প্রোডাকশন (%) : ৮০%, গতি : -৫০ Hz।

সাপ্তাহিক : সরকারের কাছে আপনাদের কোনো চাওয়া, প্রত্যাশা বা দাবি আছে কি?
নান্নু : দেশের চাহিদা বিশ্লেষণ করে, জনগণের নিত্য প্রয়োজন ও বিশ্বে- দেশের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে কিছু শক্তিশালী জাপানি পুরনো যা অন্য যে কোনো দেশের নতুনের চেয়ে কার্যক্ষম এবং টেকসই মেশিন আমদানি করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
এমডি এস ইসলাম
NK INTERNATIONAL

SANNO OTA-KU, 3-1-11, TOKYO, JAPAN
Tel: +81-3-5709-2994, Fax: +81-3-5709-0967
E-mail: tokyo@nkusedears.com, Web: www.nkusedears.com

‘মাত্র পাঁচ বছর পর্যন্ত বাধ্যবাধকতার কারণে হেভি মেশিনারি/ট্রাক পাঠানো যাচ্ছে না’ -মাইনুল হক দিদার
ডিরেক্টর, কার মার্ট (CAR MART)

সাপ্তাহিকের পক্ষে কথা বলেছিলাম কার মার্ট-এর ডিরেক্টর মাইনুল হক দিদারের সঙ্গে। তার কাছেও জানতে চাই একই প্রশ্নের উত্তর। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় জাপান থেকে দশ বছরের পুরনো ট্রাস, বাস, ভ্যান রপ্তানির পক্ষে। এগুলো উন্নত ও টেকসই। তা ছাড়া দামও কম বলে স্বল্প আয়ের লোকেরা এটা বাংলাদেশে কিনতে পারবে।’ গাড়ি পাঠাতে বাধা প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রথমত বাধা হলো YEAR LIMITATION (বর্তমানে সর্বোচ্চ ৫ বছরের পুরনো রপ্তানি করা যায়), দ্বিতীয়ত TAX VALUATION TAX-এর শ্রেণীবিন্যাস করতে হবে। সুযোগ দিলে জাপান থেকে এগুলো পাঠানো যাবে, তবে এক্ষেত্রে YEAR OF LIMITATION-এর বাধ্যবাধকতা থাকলে চলবে না।’

বাংলাদেশে হেভি মেশিনারি/লরি/ট্রাক/ বাস পাঠানো যায় কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘পাঠানো যায়। এই ক্ষেত্রেও সেই একই সমস্যা। মাত্র পাঁচ বছর পর্যন্ত বাধ্যবাধকতার কারণে হেভি মেশিনারি/ট্রাক পাঠানো যাচ্ছে না। যদিও বাংলাদেশে এগুলোর বেশ চাহিদা রয়েছে। সরকারকে এই সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বছরের সময়সীমার বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপে তারা জাপান থেকে গাড়ি রপ্তানি করেন। তিনি আরো জানান, পুরনো জেনারেটর খুবই সস্তা। জাপানি জেনারেটর খুব উন্নতমানের এবং টেকসই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শব্দ দূষণমুক্ত। ২০০ KVA একটি পুরনো জেনারেটরের বাজার মূল্য ১৫০০/১৬০০০ আমেরিকান ডলারের সমপরিমাণ প্রায়। বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রত্যাশা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের একটি দাবি আমাদের রয়েছে সরকারের কাছে। তা হলো, বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে দশ বছর পর্যন্ত পুরনো গাড়ি রপ্তানির অনুমতি এবং TAX-এর শ্রেণীবিন্যাস করা। যাতে করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে।’

[ad#co-1]

One Response

Write a Comment»
  1. Priyo pathok doya kore protibedon er upor montobbyo korun & bekti acromon theke biroto thakun / apnar ekti montobbyo somaze birup provab fele emon kono montobbyo korben na //Bortoman unnoto projuktir juge sob kichui ber kora jai / kazei nijeke kono zamela jorate na chaile emon kaj theke biroto thakun / munshigonj.com e bichoro korar jonnyo dhonnyobad