অত:পর বিয়ে

মোনালিসা-হাবিব মিডিয়ায় এই সময়ের আলোচিত জুটি : ফারুকী-তিশা নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে জল ঘোলা করেছেন দীর্ঘ দিন মিডিয়ার সবাইকে অবাক করেছে যে দু’টি খবর তা হলো হাবিব-মোনালিসা ও ফারুকী-তিশার বিয়ে। এ দুই জোড়া প্রেমিক-প্রেমিকাই আজকের প্রধান আয়োজন। লিখেছেন তামাদী তারুণ্য হাবিব-মোনালিসা ফেসবুক অনেক কাজই সহজ করে দিচ্ছে ইদানীং। শত চেষ্টাতেও যখন জানা সম্ভব হচ্ছিল না, হাবিব-মোনালিসার বিয়ে আদৌ হবে কি না, তখনই দৃশ্যপটে ফেসবুক এবং ফেসবুকের কল্যাণেই জানা গেল হাবিব-মোনালিসার বিয়ে শেষ পর্যন্ত হচ্ছে। কিভাবে, সেটাই জানা যাক।

অতি সম্প্রতি সঙ্গীতকার, গায়ক হাবিবের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি আবিষ্কৃত হয়। আবিষ্কৃত হয় বলতে নিশ্চয়ই ছবিটা কেউ আপলোড করেছেন। যা-ই ঘটুক, ছবিটি হাবিবের অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে; সেটাই মুখ্য। সেটা আর কিছুই নয়, হাবিব ও মোনালিসার ছবি। অনেকেই ভাবতে পারেন, ‘এ আর এমন কী। বিনোদন জগতের তারকাদের একজনের সাথে অন্যজনের ছবি তো থাকতেই পারে।’ না, একেবারেই এতটা সাদামাটাভাবে ভাবলে নেহাত ভুল হবে। এটা তেমন সাধারণ কোনো ছবি নয়। বেশ প্রশ্ন উদ্রেককারী ছবি।

প্রথম যে প্রশ্ন উদ্রেক করে সেটা হলো হাবিব ও মোনালিসাকে এতটা ঘনিষ্ঠভাবে এর আগে কোনো ক্যামেরাম্যান বন্দী করতে পারেননি। দ্বিতীয়ত, ছবিতে দু’জনকে দেখে কোনোভাবেই মনে হয় না যে তারা বিশেষ কোনো কাজের উদ্দেশ্যে পোজ দিচ্ছেন। অর্থাৎ ছবিটা সাদামাটা, নিতান্তই ঘরোয়া। তৃতীয়ত, ছবি তোলার স্খান। স্খানটিও ‘ঘরোয়া’। তো, এত হিসাব মেলাতে গেলে অনেক প্রশ্নই উঠে আসতে পারে। তবে আগুনে ঘি ঢালতে দেননি হাবিবের মুখপাত্র বাবা ফেরদৌস ওয়াহিদ। তিনি বিজ্ঞজন। সম্ভবত আগুনের আঁচ টের পেয়েই কিছুটা সত্য উদগিরণ করেছেন। অর্থাৎ স্বীকার করেছেন তার পুত্র মোনালিসার সাথে ডুবে ডুবে বেশ জল খেয়ে ফেলেছেন। এখন এই প্রেম রোগের ওষুধ হিসেবে বিয়ের ব্যবস্খা করতে চান। এ বিষয়ে নাকি কথা অনেক দূর এগিয়েও গেছে। ও পক্ষের (মোনালিসার পরিবার) সাথে নাকি দর কষাকষিও (বিয়ের দিনক্ষণ নিয়ে) শুরু হয়ে গেছে।

বাহ, কী সহজ স্বীকারোক্তি! ফেরদৌস ওয়াহিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘হাবিব ও মোনালিসার মধ্যকার সম্পর্ক এবার পরিণতি পেতে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দুই পরিবার কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। শিগগিরই এ বিয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত ঘোষণা দেবো।’

উল্লেখ্য, এর আগে অসংখ্যবার মোনালিসার সাথে সম্পর্কের কথা জানতে চাইলে হাবিব বরাবরই অস্বীকার করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি হাবিবের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ফটো অ্যালবামই গোলমাল পাকিয়ে দেয়। এ ছবি সম্পর্কে ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘ছবির ব্যাপারটি আমি জানি না। এখন তো নানা রকম ভুয়া ছবি ব্যবহার করে অনেককে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে, ব্যাপারটি তেমনও হতে পারে।’ তবে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে ছবিটি ভুয়া নয়।

অন্য দিকে লাস্যময়ী মোনালিসার সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি রহস্যময়তা ছড়িয়ে জানান, ‘আসলে প্রেম-বিয়ে যাকেই করি, শেষ পর্যন্ত তো আপনাদের সেটা অজানা থাকে না। আর আমি বিয়ে করলে অবশ্যই আপনাদের জানিয়ে করব। সুতরাং এখনি অস্খির না হয়ে নিশ্চিত থাকুন, আমার বিয়ের খবরটি আপনারা জানতে পারবেন।’
হাবিবের এমন বিয়ের খবরে মিডিয়া অঙ্গনে আলোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বলাবলি করছেন, বিয়েই যদি করবেন তাহলে তারা প্রেমের খবরটি এত দিন অস্বীকার করছিলেন কেন। অনেকে বলেন, হাবিব ও মোনালিসা দু’জনই আধুনিক যুগের মানুষ। তারা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে জানেন। কিন্তু এই প্রেম-বিয়ের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দেয়ার মতো উদারতা তাদের মধ্যে তৈরি হয়নি। এটা অত্যন্ত দু:খজনক। এই মতের বিপরীত মতও রয়েছে। তাদের মতে, শোবিজ মিডিয়াতে এক-আধটু লুকোচুরি না থাকলে চলে না। এ জন্যই হাবিব-মোনালিসার এত দিনের লুকোচুরি। তবে সবাই এই জুটির সাফল্যময়, সুখী জীবন কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, এই বিয়ে হলে মোনালিসার জন্য হবে প্রথমবার। অন্য দিকে হাবিব দ্বিতীয়বারের মতো বেলতলায় যাবেন।

ফারুকী-তিশা
বিতর্কিত নাট্য পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার বেশির ভাগ নাটকের নায়িকা তিশাকে বিয়ে করছেন­ এ খবরটিও বেশ পুরনো। প্রায় বছর দেড়েক আগেই এমন বিয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফারুকীর ওই বিয়ের ঘোষণাটি ছিল অদ্ভুত ধরনের। অনেকটা দুই বোকার গল্পের মতো। এক বোকা আরেক বোকাকে বলছে, ‘বল তো আমার মাথার ঝাঁকায় কী?’ দ্বিতীয়জন বলল, ‘কিছুটা বলে এগিয়ে দে যাতে আমার অনুমান করতে সুবিধে হয়।’ প্রথমজন বিজ্ঞের মতো জানাল, ‘আমার মাথায় যা আছে, তা দেখতে গোল। পড়ে গিয়ে যদি সেটা ভেঙে যায় তাহলে ভেতর থেকে হলুদ কুসুম বের হয়ে আসে।’ অত:পর দ্বিতীয় বোকা তুড়ি মেরে বলল, ‘থাক আর বলতে হবে না, তোর মাথায় ঝাঁকাভর্তি লেবু। বাতাবি লেবুই মনে হচ্ছে।’ প্রথমজন বিজয়ীর বেশে লাফিয়ে উঠল, ‘হলো না, আমার মাথায় ডিম।’ এবার দ্বিতীয় বোকা মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল, ‘আমি আগেই ওটা সন্দেহ করেছিলাম!’

ফারুকী কোনো এক প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, আমি যাকে বিয়ে করব তিনি শোবিজ মিডিয়ারই। তার নামের প্রথম অক্ষর ‘ত’। মিডিয়া তথা দেশবাসী ওই বোকার মতো অতটা বেকুব না যে তারা বুঝতে পারবে না­ এই ‘ত’ থেকেই তিশা হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। হয়েছেও তা-ই। সম্প্রতি এক সংবাদপত্রে তার বিয়ের তারিখও ঘোষিত হয়েছে। আগামী মাসের ১৬ তারিখে।

হাবিব-মোনালিসার মতো ফারুকী-তিশাও আধুনিক যুগের মানুষ। অথচ তারাও এই প্রেম-বিয়ে নিয়ে অযথা লুকোচুরি খেললেন। অবশ্য লুকোচুরি খেলার অভ্যেস, অধিকার দুই-ই তাদের রয়েছে। তবে আগামী মাসের সম্ভাব্য এই বিয়ে নিয়ে অনেকে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। আশঙ্কার যথাযথ কারণও রয়েছে। কারণটি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
কিছু দিন আগে হঠাৎই শোনা গেল তিশা তার প্রেমিকের (ফারুকী) ওপর বেশ ক্ষিপ্ত। কারণ অনুসìধানে বেরিয়ে এলো অবাক করা এক ঘটনা। ফারুকীকে বেসামাল অবস্খায় নাকি আবিষ্কার করেছেন তিশা। বেসামালটা হলো কী করে, তাই তো? তখন মিডিয়ায় রটেছিল­ ‘ন’ আদ্যক্ষরের এক সুন্দরী তরুণী অভিনেত্রীই নাকি ওই ‘বেসামাল’ ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন।

যা হোক, সুন্দর ভবিষ্যতের হাতছানি যেখানে­ সেখানে অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করাই উত্তম। ফারুকী ও তিশার আগামী জীবন সুন্দর কাটুক, সেটা মিডিয়ার সবাই প্রত্যাশা করেন। পাশাপাশি এটাও প্রত্যাশা করেন, ফারুকীর নামের আগে থেকে যেন ‘বিতর্কিত’ শব্দটা লোপ পায়।

তামাদী তারুণ্য

[ad#co-1]